ঘটনার সারসংক্ষেপ
পঞ্চগড় শহরের পঞ্চগড়-তেঁতুলিয়া মহাসড়কের আনোয়ার প্লাজার অবস্থিত মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টার স্বাস্থ্য বিভাগের লাইসেন্স ছাড়াই লিভারসহ প্যাথলজি সেবা চালু রেখেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সেন্টারের পরীক্ষায় এক রোগীর ফলাফল অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষায় পাওয়া ফলাফলের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম আশঙ্কাজনক হয়ে এসে তিনি প্রতারণার অভিযোগে পঞ্চগড় সিভিল সার্জনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন।
রিপোর্টের তিনটি ফলাফল — তথ্যভিত্তিক অসামঞ্জস্য
পুলিশ ও চিকিৎসক সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী রোগী সাইদুজ্জামান রেজা (৪৩) প্রথমে পঞ্চগড় মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতালে করানো এসজিপিটি পরীক্ষায় ফলাফল ছিল ১২৭ ইউ/এল। একই দিনে মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে করা পরীক্ষায় রিপোর্ট দেখায় মাত্র ২৬.৭ ইউ/এল। সন্দেহ হওয়ার পরে রোগী পরের দিন পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে তৃতীয়বার পরীক্ষা করালে রিপোর্টে পাওয়া যায় ১২১ ইউ/এল। এই তথ্যগুলো তুলনামূলকভাবে দৃষ্টান্তমূলক ফারাক দেখায়।
| প্রতিষ্ঠান | পরীক্ষার ধরণ | এসজিপিটি (ইউ/এল) |
|---|---|---|
| মকবুলার রহমান ডায়াবেটিক হাসপাতাল | লিভার এসজিপিটি | ১২৭ |
| মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টার | লিভার এসজিপিটি | ২৬.৭ |
| পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতাল | লিভার এসজিপিটি | ১২১ |
রোগীর প্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় প্রতিশ্রুতি
ফলাফলের এ তুলনায় রোগী ও তার পরিবার বিভ্রান্ত ও ক্ষুব্ধ। এ নিয়ে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকালেই তিনি পঞ্চগড় সিভিল সার্জনের কাছে চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগে তিনি দাবি করেছেন যে মেডিকেয়ারের রিপোর্টের কারণে তার চিকিৎসা বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে এবং অনভিপ্রেত চিকিৎসা ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
“প্রতারণার অভিযোগ”
সুস্পষ্ট তথ্যভিত্তিক এই অস্বাভাবিকতার পর স্বাস্থ্য বিভাগ অভিযোগ পেয়েই দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে বলে জেলা সূত্রে জানা গেছে।
প্রতিষ্ঠানের প্রতিক্রিয়া ও স্থানীয় ব্যাপার
মেডিকেয়ার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারের পরিচালক সৈয়দা নাসরিন মিনুকে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি উত্তেজিত প্রতিক্রিয়া দেখান এবং কথা বলার সময়ে নিজেকে স্থানীয় প্রভাবশালীর আত্মীয় হিসেবে পরিচয় দেবার কথা উল্লেখ করেন। পরে তিনি জানেন যে তার ডায়াগনেস্টিক সেন্টারে কি ধরনের পরীক্ষা হয়—সেটি নিয়ে বক্তব্য’র ধারাবাহিকতা সাংবাদিকতার নোটে আংশিক রেকর্ড আছে। প্রতিবেদনের প্রস্তুতির সময় প্রতিষ্ঠান থেকে বিস্তারিত লিখিত বা মৌখিক প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
- স্থানীয় রোগীরা মেডিকেয়ার সেন্টারের বিরুদ্ধে দরকারি তদন্ত না হলে সেবা বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
- সিভিল সার্জন কার্যালয় প্রাথমিকভাবে অভিযোগ নেন এবং বিষয়টি যাচাইয়ের কথা জানিয়েছেন।
- স্বাস্থ্যবিভাগ অভিযোগের প্রেক্ষিতে দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস দিয়েছে।
স্থানীয় প্রামাণ্যতা ও পরবর্তী করণীয়
এই ঘটনার মাধ্যমে দুই ধরনের সমস্যা উঠে আসে — প্রথমত, লাইসেন্সবিহীনভাবে প্যাথলজি সেবা প্রদান হলে রোগীদের সঠিক চিকিৎসা ও জীবনঝুঁকি উভয়ই হুমকিতে পড়ে; দ্বিতীয়ত, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষার ফলাফলে এতো বড় ব্যবধান থাকলে রোগী ও চিকিৎসকের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া বিঘ্নিত হয়। জেলা ও বিভাগীয় পর্যায়ে তদন্ত করে যদি প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা করা না হয়, তাহলে ভবিষ্যতেও অনৈতিক ফলাফল ও প্রতারণার ঘটনায় পুনরাবৃত্তি ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট এবং স্বাস্থ্য বিভাগ বা সিভিল সার্জনের ত্বরিত পদক্ষেপ জনস্বার্থে প্রকাশ করা হলে স্থানীয় জনগণ ও রোগীরা ভবিষ্যতে সুরক্ষা এবং আস্থা ফিরে পাবে—এমনটাই দাবি স্থানীয় ক্ষুব্ধরা করছেন।