নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কেন্দুরবাগ এলাকায় পানির নিচে থাকা গ্যাস সরবরাহ পাইপলাইনে লিকেজ শনাক্ত হওয়ায় নিরাপত্তার স্বার্থে ওই লাইন থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দা, সিএনজি স্টেশন ও শিল্প কলকারখানা সরাসরি প্রভাবিত হয়েছে।
কোন অঞ্চলগুলো প্রভাবিত হয়েছে?
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (বিজিসিএল) সূত্রে জানা গেছে, লিকেজের কারণে লক্ষ্মীপুর জেলার প্রায় ৭ হাজার গ্রাহক, লক্ষ্মীপুর ও বেগমগঞ্জের মোট চারটি সিএনজি স্টেশন এবং বাণিজ্যিক গ্রাহকরা গ্যাস সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। স্থানীয় মানুষ রান্নাবান্না ও আড্ডা—সবই অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে গেছে, পাশাপাশি সিএনজি চালিত পরিবহন পরিষেবা বন্ধ থাকায় যাত্রী ও চালকরা ন্যূনতম ভোগান্তি ভোগ করছেন।
কতগুলো গ্রাহক ক্ষতিগ্রস্ত: সংক্ষিপ্ত তথ্য
| শ্রেণি | সংখ্যা (প্রায়) |
|---|---|
| আবাসিক গ্রাহক | ৭,০০০+ |
| বাণিজ্যিক গ্রাহক | ১৫০ |
| সিএনজি স্টেশন | ৪টি |
মেরামত কাজ ও সময়সীমা
বিজিসিএলের নোয়াখালী কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী শাহ আলম জানান, পাইপলাইনটি পানির তলায় প্রায় ১০ ফুট গভীরে থাকায় মেরামত কাজ জটিল হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত না করে নতুন পাইপ বসিয়ে বাইপাস লাইন তৈরি করে সরবরাহ পুনরায় চালু করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। তিনি জানান, প্রকৃত পরিস্থিতি অনুকূলে থাকলে রাতের মধ্যে লাইন চালু করা সম্ভব—তবে যদি জটিলতা দেখা দেয় তাহলে কাজ পুরো রাতব্যাপী চলতে পারে।
“কেন্দুরবাগ এলাকায় পানির নিচে থাকা গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ দেখা দিয়েছে… পাইপলাইনটি ১০ ফুট পানির নিচে থাকায় মেরামতকাজ কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে,”
স্থানীয়দের ভোগান্তি
গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় লক্ষ্মীপুরের বাসাবাড়িতে রান্নাবান্না ও গৃহস্থালির কাজে সমস্যা দেখা দিয়েছে। প্রতি দিন গ্যাস নির্ভর সংসারের জন্য বিকল্প ব্যবস্থায় নেমে বাড়তি খরচসহ সময়ের ক্ষতি হচ্ছে। সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকায় শহরের পরিবহন সেক্টরও সাময়িক ব্যাহত হয়—চালকরা অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়ার চেষ্টা করছেন বলে যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন।
মেরামতের কাজ কেমনভাবে করা হচ্ছে?
বিজিসিএল বলছে, লিকেজ শনাক্তের পরই নিরাপত্তার কারণে লাইন বন্ধ রাখা হয়েছে এবং দ্রুত সময়ে মেরামত শুরু করা হয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ চিহ্নিত করে বাইপাস বসিয়ে সরবরাহ আরম্ভ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। যেহেতু পাইপটি পানির নিচে এবং সেতুর নিচ দিয়ে যাচ্ছে, তাই পুনরুদ্ধার কাজটি সাবধানতার সঙ্গে চালাতে হবে—বিশেষত আশেপাশের এলাকায় যাতায়াত ও ঘনবসতি বিবেচনায় রেখে।
কী করণীয় গ্রাহকদের জন্য
- গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত বিকল্প রান্নার ব্যবস্থা রাখা দরকার—বিদ্যুৎ, বায়ু বা তুলনা অনুযায়ী অন্যান্য ইন্ধন ব্যবহার বিবেচনা করুন।
- গ্যাস লাইন বা গ্যাসের গন্ধ পাওয়া গেলে দ্রুত নিরাপত্তা ধরে সাবধানে বাহিরে যান এবং বিজিসিএলকে জানান।
- সিএনজি ব্যবহারকারীরা বিকল্প পরিবহন বা ভাড়া সম্পর্কে পূর্বপরিকল্পনা করুন যাতে ভোগান্তি কম হয়।
পরবর্তী করণীয়
বিজিসিএল জানিয়েছে মেরামত কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয় প্রশাসন ও কোম্পানির যৌথ তদারকি দরকার যাতে কাজে গাফিলতি না হয় এবং আশপাশের জনজীবন নিরাপদ থাকে। মেরামতের অগ্রগতি বা সরবরাহ পুনরায় শুরু হলে সংশ্লিষ্ট সূত্র থেকে তা দ্রুত জানানো হবে।
স্থানীয়রা আশা করছেন দ্রুত ও সুচারু মেরামত শেষে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হবে, তবে সংশ্লিষ্ট জরুরি পরিষেবা ও কোম্পানির সতর্কতা ও সময়মত তথ্যপ্রদানই পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করবে।