নীলফামারীতে অনবরত বিদ্যুৎ বিভ্রাট ও বিদ্যুৎবিল সংক্রান্ত নানা অসুবিধার প্রতিবাদে মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) শহরের বড় ট্রাফিক মোড় থেকে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে নীলফামারী জেলা শ্রমিক ঐক্য সংগ্রাম পরিষদ। বিক্ষোভ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি গ্রহণযোগ্যতার জন্য জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিদ্যুৎ মন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে।
দাবিগুলো কী ছিল
সমাবেশে ও স্মারকলিপিতে সংগঠন পাঁচ দফা দাবি তুলে ধরে। প্রধান অনুষঙ্গগুলো ছিল—
- নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ
- ডিমান্ড চার্জ বাতিল
- মিটার ভাড়া বন্ধ
- ৫০ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত স্বল্প ট্যারিফ নির্ধারণ
- বিদ্যুতের ওপর ভ্যাটের হার কমানো
মিছিল ও সমাবেশের আয়োজন ও বক্তব্য
বিক্ষোভ মিছিল শহরের বড় ট্রাফিক মোড় থেকে বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গণে এসে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন জেলা শ্রমিক ঐক্য সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন। বক্তব্য দেন সংগঠনের সহসভাপতি মাহবুবুল আলম টুলু, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম আবু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার অব্দুল জলিল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সভাপতি আলিফ সিদ্দিকী প্রান্তর।
“লোডশেডিংয়ে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বিদ্যুতের অভাবে সাধারণ মানুষকে চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে,”
সমাবেশের বক্তারা বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে চলমান লোডশেডিং ও অনিয়ম জনজীবন ও ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। তারা অভিযোগ করেন যে প্রি-পেইড মিটার এবং মিটারের সঙ্গে তথ্যভিত্তিক কড়াকড়ি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ রোধ করছে। এক তথ্যসূত্রে বলা হয়, দাবি আদায় না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি ডেকেই হবে বলে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রত্যাশা
নীলফামারী জেলা শহরে যে শিল্প, ব্যাবসা ও দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুতের নিরবচ্ছিন্নতা জরুরি, সেই প্রেক্ষাপটে এই ধরণের দাবি জনস্বার্থের ইস্যু হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় বাজার-ব্যবসায়িক কার্যক্রম, ছোট উদ্যোগ ও গৃহস্থালি কাজে বিরাট অংশ বিদ্যুতের ওপর নির্ভরশীল। বক্তারা মনে করান যে লোডশেডিং ও অতিরিক্ত খরচ স্থানীয় দরিদ্র ও মাঝারি শ্রেণির পরিবারের ওপর মারাত্মক চাপ তৈরি করছে।
| দাবি | লক্ষ্য |
|---|---|
| নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ | দৈনন্দিন জীবন ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা |
| ডিমান্ড চার্জ বাতিল | ভোক্তাদের আর্থিক বোঝা কমানো |
| মিটার ভাড়া বন্ধ | অতিরিক্ত পরিষেবা খরচ মুক্তি |
অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নেতৃবৃন্দ বলেন, জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রেরণ হওয়ায় বিষয়টি প্রশাসনিক পর্যায়ে উঠেছে; কিন্তু তারা দ্রুততার সঙ্গে কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয় থেকে পদক্ষেপ আশা করেন।
আগামী পথ ও চ্যালেঞ্জ
নীলফামারীর মতো জেলা শহরে বিদ্যুৎ সুবিধা ও দাম নির্ধারণে কেন্দ্রীয় নীতিনির্ধারকদের সঙ্গে স্থানীয় প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের অনলাইন-অফলাইন কার্যক্রমের আন্তঃসংযোগ জরুরি। সমাবেশে সংগঠনের হুঁশিয়ারি থেকে বোঝা যায় যে তাদের দাবি উপেক্ষা করা হলে স্থানীয় স্তরে আরও তীব্র আন্দোলন সংগঠিত হতে পারে। তবে কোন তারিখ বা বিবরণে পরবর্তী কর্মসূচি সম্পর্কে সংবাদে নির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় প্রশাসন বা বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ থেকে এ নিয়ে এলাউ করা প্রতিক্রিয়া সংবাদ তৈরির সময় পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতির উন্নয়নের ওপর স্থানীয় ব্যবসায় ও সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা মিশ্র; দ্রুত ও টেকসই সমাধির প্রতি সকলেই আগ্রহী।