নীলফামারীতে পৃথক দুটি দুর্ঘটনায় শিশুসহ ৩ জন মারা গেছেন। সোমবার (১৭ আগস্ট) জেলার ডোমার ও ডিমলা উপজেলায় ঘটে যাওয়া এসব ঘটনায় আহতদের হাসপাতালে নেওয়ার পথে অথবা ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
ডোমার মহাসড়কে নসিমন ধাক্কায় একজন নিহত
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সকালে ডোমার মহাসড়কে একটি গরুবোঝাই নসিমন পথচারীদের সঙ্গে ধাক্কা লাগায়। এ ঘটনায় তিনিই আক্রান্ত হন এবং তাদের মধ্যে শাহজাহান আলী (৩৪) নামের এক ব্যক্তি মারাত্মকভাবে আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। পুলিশের জানানো পাঠ্য অনুসারে আহতদের সংখ্যা মোট চার জন ছিল।
ডিমলায় খালে ডুবে দুই শিশুর মৃত্যু
আপাতত একই দিনে ডিমলা উপজেলার নাউতারা ইউনিয়নের তুহিন বাজার এলাকার একটি সেচ খালে দুই শিশুর ডুবন্ত ঘটনায় মৃত্যু ঘটে। নিহতরা হলেন—আরেকটি রিপোর্ট অনুযায়ী পাখি আক্তার (১২) এবং সিনহা (৪)। পুলিশ সূত্রে জানানো হয়, খালের পাশেই খেলা করতে গিয়ে সিনহা পানিতে পরে যায়; তাকে বাঁচাতে গেলে পাখিও পানিতে ডুবে যায়। উভয়কেই দ্রুত উদ্ধার করা হলেও তারা মারা যান।
ডোমার থানার ওসি হাবিবুল্লাহ বলেন, “আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।” ডিমলা থানার ওসি শওকত আলী সরকারও একই বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করেন।
নাম ও অবস্থান
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী মৃতদের পরিচয় ও স্থানসংক্রান্ত সংক্ষিপ্ত টেবিল:
| নাম | বয়স | ঠিকানা/উপজেলা | ঘটনা |
|---|---|---|---|
| শাহজাহান আলী | ৩৪ | পাঙ্গা, রামডাঙ্গা, ডিমলা | ডোমার মহাসড়কে নসিমনের ধাক্কায় আহত হয়ে মৃত্যু |
| পাখি আক্তার | ১২ | নতুন বাজার, ডিমলা | নাউতারা ইউনিয়নের তুহিন বাজারের সেচ খালে ডুবে মৃত্যু |
| সিনহা | ৪ | নতুন বাজার, ডিমলা | তুহিন বাজার এলাকার খালে ডুবে মৃত্যু |
পুলিশি অগ্রগতি ও প্রতিশ্রুতি
ডোমার ও ডিমলা থানা প্রশাসন ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো এবং আইনগত তদন্ত শুরু করার কথা জানিয়েছে। দু'থানার ওসিরা উভয়েই বলেন, প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহগুলো পরিবারের হাতে হস্তান্তর করা হবে। তবে ঘটনার কারণ নির্ণয়ে সম্পূর্ণতা সহ তদন্ত চালানো হবে বলে তারা জানান।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও নিরাপত্তা উদ্বেগ
স্থানীয়রা বলছেন, মহাসড়কে সঠিকভাবে যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও খালপারের ঝুঁকি বন্ধে নিয়মিত নজরদারি না থাকলে অনুরূপ দুর্ঘটনা আরও বাড়বে। বিশেষত শিশুদের কাছাকাছি খোলা পানি, সেচ খাল ও ট্র্যাফিক ঝুকির মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি ওঠেছে।
- সড়ক নিরাপত্তা: এলাকাবাসী মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও দাঁড়ানোর স্থান নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন।
- জলাশয়ের নিরাপত্তা: খাল, নর্দমা বা সেচখালের পাশে শিশুরা খেলতে গেলে প্রশাসন এবং অভিভাবকদের বিশেষ সতর্কতার আহ্বান রয়েছে।
- তদবির ও তদন্ত: নিহতদের পরিবার আইনি ও প্রশাসনিক সহায়তা পাবে বলে পুলিশ আশ্বস্ত করেছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সঠিক কারণ বের করতে তারা প্রয়োজনীয় সত্যাগ্রহণ, প্রত্যক্ষদর্শী সুত্র জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাসঙ্গিক দলিলাদি সংগ্রহ করবে। এছাড়া দুর্ঘটনাস্থলে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ ও সচেতনতা উদ্যোগ ত্বরান্বিত করার কথা বলা হয়েছে।
নীলফামারীর স্থানীয় হাসপাতাল ও থানা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুসরণ করে লেখা এই প্রতিবেদনটি পর্যন্ত নিহত ও ঘটনার বিবরণ একই রকমই উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ তদন্তে যেসব নতুন তথ্য পাওয়া যাবে, তা হলে শহরের স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতে পরবর্তী আপডেট জানানো হবে।