ডিমলা (নীলফামারী): ডিমলা থানার জরাজীর্ণ ভবনের ছাদের পলেস্তারা সোমবার সন্ধ্যার দিকে বা কোঠা হিসেবে ব্যবহৃত ডিউটি অফিসারের কক্ষে ভেঙে পড়ে এএসআই মো. মসলিম উদ্দিন আহত হয়েছেন। একই ঘটনার সময় সেবা নিতে থানায় উপস্থিত ছিলেন এক বৃদ্ধ দম্পতি—তিন জনই অল্পের জন্য বাঁচেন বলে থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
ঘটনা ও প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ঘটনা ঘটেছে গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টায় ডিউটি অফিসারের কক্ষে। হঠাৎ করে বিকট শব্দে ছাদের বড় অংশের পলেস্তারা খুলে পড়ে এএসআই মসলিম উদ্দিনের কাঁধ ও কক্ষের অন্যান্য অংশে ছিটকে পড়ে। এতে পুলিশ অফিসে ব্যবহার হওয়া একটি ডেস্কটপ কম্পিউটার ভেঙে অকেজো হয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন নীলফামারীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অবস) এবিএম ফয়জুল ইসলাম।
থানার কর্মীদের নিরাপত্তা ও ভবনের অবস্থা
ঘটনাস্থলীয় পুলিশ সদস্যদের কথায়, থানার কর্মরত প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন সদস্য থানার দ্বিতীয় তলায় থাকা পুলিশ ব্যারাকে রাত কাটান। রাতযাপনের সময়ই বারবার ছাদ চুইয়ে পানি পড়া ও পলেস্তারা খসে পড়ার সমস্যা দেখা দিয়ে তাদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পুলিশকর্মীরা বলছেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের কারণে কাজ করা ও গভীর রাতে থাকার সময় আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে।
অফিসার ইনচার্জের বক্তব্য
ওসি শওকত আলী সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে পুলিশ সুপারকে অবহিত করেছি। তিনি বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্ন
থানার জরুরি পরিষেবা এবং সাধারণ দায়-দায়িত্ব পালনে এই ধরনের ভৌত পরিবেশ বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। মামলা-নথিভুক্তি, হেফাজত ও সাধারণ সেবা ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এছাড়া জরুরি সময় পুলিশ সদস্যদের নিরাপদ আশ্রয় না থাকলে জনসেবা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
- আহত: এএসআই মো. মসলিম উদ্দিন (কাঁধে আঘাত)
- অপর প্রভাবিত: থানায় সেবা নিতে আসা এক বৃদ্ধ দম্পতি ও মোট তিনজন অল্পে রক্ষা পেয়েছেন
- সম্পত্তি ক্ষতি: একটি সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটার ভেঙে অকেজো
নিরাপত্তা বাড়াতে করণীয়
ঘটনাস্থল ও উপস্থিত কর্তৃপক্ষের বিবরণ অনুসারে, নিম্নলিখিত উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে—নিম্নোক্ত বিষয়গুলো তাৎক্ষণিকভাবে প্রাসঙ্গিক:
- জরুরি ভিত্তিতে ভবনটি মন্ত্রনালয় বা জেলা প্রশাসন দ্বারা অধিদপ্তর প্রাপ্ত অভিজ্ঞ মানুষের মাধ্যমে ঝুঁকি মূল্যায়ন করা
- নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত থানায় রাতযাপন ও জনসেবার বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ
- তত্তাবধায়ক কর্তৃপক্ষকে দ্রুতভাবে ভবন সংস্কার বা স্থানান্তরের প্রস্তাব পাঠানো
জানা-মত ও পরবর্তী পদক্ষেপ
ওসি শওকত আলী সরকারের কথা অনুযায়ী বিষয়টি পুলিশ সুপারের নজরে আনা হয়েছে এবং তিনি এটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এবিএম ফয়জুল ইসলাম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন—তার পরবর্তী প্রস্তাব বা নির্দেশনা থানার কার্যক্রমে কীভাবে প্রতিফলিত হবে, তা এখন দেখার বিষয়।
এই ঘটনার প্রেক্ষিতে ডিমলা থানার কর্মশক্তি ও জনসেবার কার্যকারিতা রক্ষায় দ্রুত সংস্কার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার দাবি উত্থিত হয়েছে। ভবনটির অবস্থা দ্রুত সুরাহা না হলে সামনের দিনে আরও বড় দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয় পুলিশ সদস্য ও সেবাগ্রহীতারা মনে করছেন।
| বিষয় | বর্ণনা |
|---|---|
| আহত | এএসআই মো. মসলিম উদ্দিন (কাঁধে আঘাত) |
| অবস্হান | ডিমলা থানা, ডিউটি অফিসারের কক্ষ |
| ঘটনার সময় | গতকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টা (প্রতিবেদন সূত্রে) |
| অর্থনৈতিক ক্ষতি | একটি সরকারি ডেস্কটপ কম্পিউটার ভাঙা |
স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সুপার কার্যালয় এ বিষয়ে পরবর্তী নির্দেশনা দিলে সমাজ ও জনসেবা রক্ষায় তা কার্যকর করা হবে। নীলফামারীর ডিমলা থানার ভবনের অবস্থা সম্পর্কে উন্নত ও স্থায়ী সমাধান ছাড়া অনাকাঙ্খিত ঘটনা থেকে মুক্তি মেলা কঠিন হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মন্তব্য করেছেন।