নীলফামারীর ডোমার উপজেলার আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়া ১০ জন শিক্ষার্থীর কেউই সফলভাবে পাস করতে পারেনি। সোমবার সারাদেশে ফলাফল প্রকাশের পর বিদ্যালয় থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিদ্যালয়ের সর্বসাধারণ চিত্র
বিদ্যালয়ের সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে—বিদ্যালয় ভবন, শ্রেণিকক্ষ ও অন্যান্য অবকাঠামো থাকলেও শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি অতি নগণ্য। বিদ্যালয়ের রেজিস্টারে ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত মোট ছাত্রসংখ্যা রয়েছে ১৫৫ জন; তবু নিয়মিত উপস্থিত থাকেন মাত্র ২০-৩০ জন শিক্ষার্থী।
শিক্ষক-শক্তি ও পাঠদানের বাস্তবতা
বিদ্যালয়ে বর্তমানে মোট ৬ জন শিক্ষক ও ৬ জন কর্মচারী রয়েছেন। তবে মাধ্যমিক পর্যায়ের পাঠদানের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষক না থাকায় নিম্ন মাধ্যমিকের কয়েকজন শিক্ষক দিয়েই মাধ্যমিক শ্রেণির পাঠদান পরিচালনা করা হচ্ছে—বিদ্যালয় সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। এ কারণে পাঠাদানের ব্যাঘাত এবং পাঠদানের গুণগত মান নষ্ট হয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন।
“শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বিদ্যালয়ে না আসা এবং অভিভাবকদের অসচেতনতা বড় সমস্যা। একই সাথে বাল্যবিবাহ ও শিক্ষক সঙ্কটও ফলাফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ। এসব কারণে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ব্যাহত হচ্ছে। এজন্য এবার এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করা সম্ভব হয়নি।” — আমবাড়ী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জিকরুল হক
কী বলছেন শিক্ষা অফিস
ডোমার উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মো: সাফিউল ইসলাম জানান, বিদ্যালয়ের ফলাফলের প্রতিবেদন শিক্ষা দফতরে পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিবেদন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তিনি সরেজমিনে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম, শিক্ষকের উপস্থিতি ও ছাত্রছাত্রীদের অনুপ্রবেশ বিষয়ে তদারকি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
সমস্যার সম্ভাব্য কারণ
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে উঠে আসা কয়েকটি কারণ:
- নিয়মিত বিদ্যালয়ে অনুপস্থিতি এবং অনির্দিষ্ট অনুপস্থিতির ফলে পাঠের ধারাবাহিকতা না থাকা।
- অভিভাবকদের অসচেতনতা ও শিক্ষার প্রতি আর্থ-সামাজিক গুরুত্ব না দেওয়া।
- বাল্যবিবাহের কারণে মেয়েদের পড়াশোনায় বিচ্যুতি।
- মাধ্যমিক পর্যায়ে পর্যাপ্ত ও বিশেষায়িত শিক্ষক না থাকা—শিক্ষকের অভাব পড়ার মানে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
সংক্ষিপ্ত পরিসংখ্যান
| বিবরণ | সংখ্যা |
|---|---|
| রেজিস্টারভুক্ত শিক্ষার্থী (ষষ্ঠ-দশম) | ১৫৫ |
| নিয়মিত উপস্থিত শিক্ষার্থী | ২০-৩০ |
| এসএসসি পরীক্ষায় অংশকারী | ১০ |
| পাসকারী | ০ |
| শিক্ষক | ৬ |
| কর্মচারী | ৬ |
স্থানীয়দের অভিযোগ ও গুরুত্ব
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, শিক্ষক-শক্তি এবং পাঠদানের গুণগত মান নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে যথাযথ তদারকি ও সহায়তা দীর্ঘদিন ধরে নেই। ফলে ফলাফল ধারাবাহিকভাবে খারাপ হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের সুনাম হীন হয়ে যাচ্ছে। স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়াতে, অভিভাবকদের সচেতন করতে ও বাল্যবিবাহ বন্ধে স্থানীয় ও উপজেলা পর্যায়ে উদ্যোগ নিতে হবে।
পাঠকের জন্য সম্ভাব্য পরামর্শ
এই পরিস্থিতি থেকে যাওয়াকে রোধ করতে স্থানীয় প্রশাসন, শিক্ষা অফিস ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে। বিদ্যালয়ের জন্য জরুরি পদক্ষেপগুলো হলো:
- শিক্ষকের সংখ্যা ও গুণগত মান বাড়ানো।
- অভিভাবকদের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে স্থানীয় কর্মশালা ও সভা আয়োজন।
- অনুপস্থিতি ও বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসনের তদারকি।
- অতিরিক্ত সহায়তার জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসের মাধ্যমে সহায়ক কর্মসূচি গ্রহন।
এই ঘটনায় স্থানীয়ভাবে কবে এবং কী ধরণের পদক্ষেপ নেওয়া হবে—সেভাবে তা ছাড়াও উপজেলা শিক্ষা অফিসের পরবর্তী নির্দেশনা ও কার্যক্রম বিদ্যালয় ও এলাকাবাসীকে নজর রাখতে হবে।