কুষ্টিয়া ও নীলফামারীর বিদ্যুৎ সংস্থাগুলো সম্প্রতি তাদের অফিস ও বিতরণ কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করার অনুরোধে পুলিশের কাছে লিখিত আবেদন দিয়েছে। নীলফামারীর ক্ষেত্রে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি লিমিটেড (নেসকো)-র আওতাধীন কার্যালয় ও উপকেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তার জন্য থানায় চিঠি পাঠানো হয়েছে।
কেন চিঠি?
চিঠিগুলোতে বলা হয়েছে যে, দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহে ঘাটতি থাকা এবং তা থেকে সৃষ্ট লোডশেডিং বা তাত্ক্ষণিক অসন্তোষের কারণে গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক স্থাপনাগুলোতে নাশকতার আশঙ্কা থাকতে পারে। কুষ্টিয়ায় ওজোপাডিকো ও পল্লী বিদ্যুতের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে পৃথকভাবে নিরাপত্তা জোরদারের জন্য আবেদন করা হয়েছে এবং আবেদনপত্রের অনুলিপি জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
প্রাসঙ্গিক পটভূমি
চিঠি থেকে উদ্ধৃত অংশে বলা হয়েছে, দেশে গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদনে বিঘ্ন ঘটেছে। সূত্র অনুযায়ী এতে করে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত nationwide ঘাটতি দেখা দিয়েছে এবং বিভিন্ন জেলায় ব্যাপক লোডশেডিং চলছে। চিঠিতে বলা হয়েছে যে, এমন সংকটময় পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ স্থাপনাগুলোতে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে এবং নিরবচ্ছিন্ন সেবা বজায় রাখার স্বার্থে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া
কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ফয়সাল মাহমুদ সাংবাদিকদের জানান,
“দুটি চিঠি আজ (বুধবার) সকালে দেখেছি। আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এ বিষয়ে অবগত হয়েছে। পুলিশ নজরদারি রয়েছে। এসপি স্যার ঢাকায় আছেন। তিনি ফিরলে আলাপ করে প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নীলফামারীর যে চিঠিগুলো থানা বা পুলিশের কাছে পৌঁছেছে, সেগুলো হস্তগতভাবে স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা কর্তৃপক্ষ পর্যালোচনা করবে—এর পরেই নিরাপত্তা বাড়ানো, অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন বা নজরদারি তীব্র করার সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে আশা করা যায়।
কী ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা চাওয়া হয়েছে?
- বিদ্যুৎ বিভাগের স্থানীয় কার্যালয়
- বিতরণ উপকেন্দ্র (৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র উল্লেখিত)
- পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির অফিস ও ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র
| জেলা | প্রতিষ্ঠান | চাহিদার কারণ |
|---|---|---|
| কুষ্টিয়া | ওজোপাডিকো, পল্লী বিদ্যুৎ | লোডশেডিং ও সামাজিক অসন্তোষ-নাশকতা আশঙ্কা |
| নীলফামারী | নেসকো, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি | কার্যালয় ও উপকেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদার করার আবেদন |
স্থানীয় প্রভাব ও সম্ভাব্য ঝুঁকি
বিদ্যুৎ সরবরাহে অনিশ্চয়তা ও বারবার লোডশেডিং থাকলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হন—অর্থনৈতিক কার্যকলাপ ধীর হয়ে আসে, হাসপাতাল ও জরুরি সেবায় প্রভাব পড়তে পারে এবং জনজীবনে অস্থিরতা সৃষ্টি হতে পারে। চিঠিগুলোতে এভাবেই সম্ভাব্য সামাজিক অস্থিরতার আশঙ্কা তুলে ধরা হয়েছে এবং তাই নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানান হয়েছে।
পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপ
প্রতিষ্ঠানগুলোর চিঠি জেলা পুলিশ ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরে পৌঁছে গিয়েছে বলে জানা গেছে। জেলা পর্যায়ে নিরাপত্তা পরিকল্পনা, পুলিশের বিশেষ টহল বা নির্দিষ্ট স্থানে অতিরিক্ত সদস্য পাঠানো ইত্যাদি ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে। স্থানীয়রা বলছে, দ্রুত ও স্বচ্ছ ব্যবস্থাপনা জনসাধারণের উদ্বেগ কমাতে সহায়ক হবে।
এ অবস্থায় স্থানীয় প্রশাসন, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে যাতে ন্যূনতম সময়ে সেবা বজায় রাখা যায় এবং সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাগুলো প্রতিরোধ করা যায়।