নীলফামারীতে জেলা শ্রমিক ঐক্য সংগ্রাম পরিষদ মঙ্গলবার দুপুরে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও ট্যারিফ নিয়ে বিক্ষোভ করেছে। সংগঠনটি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীকে একটি স্বারকলিপি পাঠানোর দাবি জানায় এবং জেলা শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে বিক্ষোভ মিছিল করে।
সমাবেশ ও মিছিল
বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেন সংগঠনের সভাপতি ও জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জয়নাল আবেদীন. মিছিলে শ্রমিক, রাজনৈতিক নেতারাও যোগ দেন। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাসমূহ প্রদক্ষিণ করে এবং শেষে বড় বাজার ট্রাফিক মোড়ে তাদের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়।
প্রধান দাবি
সংগঠনের পক্ষ থেকে আবেদনপত্রে মোট পাঁচটি দাবি উল্লেখ করা হয়েছে। ওই দাবি বাস্তবায়নের জন্য তারা সরাসরি বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দিয়েছেন। বিক্ষোভকারীরা পথচারী ও জনসাধারণের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করে তাদের বক্তব্য জানায়।
- ডিমান্ড চার্জ বাতিল
- মিটারভাড়া বন্ধ
- ৫০ থেকে ৩০০ ইউনিটের জন্য স্বল্প হারে ট্যারিফ
- ভ্যাটের হার কমানো
- অপরিষ্কার বা অতিরিক্ত চার্জিং ও লোডশেডিংয়ে স্থায়ী সমাধান
মিছিলের নেতাদের বক্তব্য
বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. জয়নাল আবেদীন বিক্ষোভের সময় বিদ্যুতের অনিয়ম ও ভাড়ার ন্যায়বিচারের দাবি জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন বিদ্যুৎ সেবার ক্ষেত্রে মানুষের ওপর চাপ বেড়েছে এবং সমস্যাগুলো ঠিক করা না হলে ভবিষ্যতে বৃহত্তর কর্মসূচি নেওয়ার হুমকি দেন। ওই সময় সংগঠনের সহসভাপতি মাহবুবুল আলম (আলম টুলু), সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম আবু, সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল জলিল ও বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আলিফ সিদ্দিকি প্রান্তসহ অন্যান্যরা বক্তব্য রাখেন।
“বিদ্যুতের ভেলকিবাজি (লোডশেডিং) অতিষ্ঠ করেছে মানুষকে। প্রি-পেইড মিটার জনগণকে চুষে খাচ্ছে,”
স্থানীয় প্রেক্ষাপট ও জনজীবন
নীলফামারী জেলা সীমান্তবর্তী হওয়ায় এখানে শিল্প-কারখানার উন্নয়ন ও কৃষি কার্যক্রমে নির্ভরশীল জনগোষ্ঠী বিদ্যুতের নিয়মিত সরবরাহের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীল। দীর্ঘমেয়াদী লোডশেডিং কিংবা অস্বাভাবিক বিল বৃদ্ধির ফলে গৃহস্থালি ও ক্ষুদ্র ব্যবসা দুই ক্ষেত্রেই প্রভাব পড়ছে — এ প্রসঙ্গটিও বিক্ষোভে গুরুত্ব পেয়েছে।
দাবি বাস্তবায়নের সড়ক মানচিত্র
বিক্ষোভকারী সংগঠনের নেতা-নেত্রীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবিগুলো মানা না হলে তারা ভবিষ্যতে আরও ব্যাপক আন্দোলনের ডাক দিয়ে সরকারী ও বিদ্যুৎ সংস্থার কাছে তদ্বির চালাবেন। বর্তমানে তারা স্মারকলিপি জারি করে প্রশাসন ও মন্ত্রীর নিকট দাবির কথা পৌঁছে দিয়েছেন।
| দাবি | সংক্ষিপ্ত লক্ষ্য |
|---|---|
| ডিমান্ড চার্জ বাতিল | বিলের স্থায়ী অংশের পর্যালোচনা |
| মিটারভাড়া বন্ধ | প্রিপেইড মিটারের অতিরিক্ত আর্থিক চাপ কমানো |
| ৫০–৩০০ ইউনিটে স্বল্প রেট | নিম্ন ও মধ্য আয়ের পরিবারের জন্য সহজলভ্য ট্যারিফ |
| ভ্যাটের হার কমানো | সেবা-ভিত্তিক অতিরিক্ত চার্জ হ্রাস |
সম্ভাব্য প্রভাব ও প্রশাসনের পথ
স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যুৎ সংস্থার কাছে এখনকার চ্যালেঞ্জ—বিলিং ব্যবস্থার স্বচ্ছতা এবং লোডশেডিং কমানো। বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, সাধারণ মানুষের জীবিকা ও দৈনন্দিন কাজকর্মে অব্যবহিত ভোগান্তি বিদ্যমান। প্রশাসন ও সংস্থাগুলো যদি দ্রুত নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমাধান না দেয়, তবে জনতরল আন্দোলন তীব্র হতে পারে বলে নেতারা ইঙ্গিত দিয়েছেন।
নীলফামারীর বস্তুনিষ্ঠ স্থানীয় সংবাদ হিসেবে রিপোর্টটি জেলা প্রশাসন, বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষ ও দাবি-দায়ীদের প্রতিক্রিয়া পাওয়ার পর্যায়ে রয়েছে; সংশ্লিষ্ট পক্ষের মন্তব্য পেলে পরবর্তী প্রতিবেদন আপডেট করা হবে।