শহরের প্রধান মোড় থেকে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে স্মারকলিপি
নীলফামারীতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও প্রি-পেইড মিটার বাতিলসহ পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে মঙ্গলবার দুপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জেলা শ্রমিক ঐক্য সংগ্রাম পরিষদ। মিছিলটি শহরের বড় ট্রাফিক মোড় থেকে বের হয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা তাদের দাবির পক্ষে বক্তব্য দেন এবং পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি জমা দেন।
বক্তারা দুর্ভোগের ছবি তুলে ধরেন
সমাবেশে সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন সভাপতি হিসেবে মঞ্চ পরিচালনা করেন। উপস্থাপিত বক্তব্যগুলোতে শ্রমিক নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের ফলে সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা চরমভাবে দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন। দিন-রাত সমানতালে চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাট স্থানীয় জীবনযাত্রা ও অর্থনীতিকে প্রভাবিত করছে বলে তারা দাবি করেন।
“লোডশেডিংয়ে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। বিদ্যুতের অভাবে সাধারণ মানুষকে চরম কষ্ট পোহাতে হচ্ছে,”
এ বক্তব্যটি করেন বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন। সমাবেশে সহসভাপতি মাহবুবুল আলম টুলু, সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম আবু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল জলিল এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সভাপতি আলিফ সিদ্দিকী প্রান্তর বক্তব্য রাখেন।
সমালোচনা ও দাবি-পেশ
বক্তারা অভিযোগ করেন যে প্রি-পেইড মিটার জনগণের ওপর আর্থিক চাপ বাড়াচ্ছে এবং মিটারের ডিমান্ড চার্জ বন্ধ করতে হবে। স্মারকলিপিতে মূলত নিম্নলিখিত পাঁচটি দাবি উত্থাপিত হয়েছে:
- নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
- ডিমান্ড চার্জ বাতিল করা।
- মিটার ভাড়া বন্ধ করা।
- ৫০ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যুতের জন্য স্বল্প রেট নির্ধারণ করা।
- ভ্যাটের হার কমানো।
স্থানীয় কর্মসংস্থান ও ব্যবসায় প্রভাব
নীলফামারীর নগর ও মফস্বল এলাকায় ছোট-মধ্যম ব্যবসা, দোকান ও সেবাশীল প্রতিষ্ঠানগুলো বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে—এমনটাই দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা। তারা উল্লেখ করেন, উৎপাদন-পর্ব ও সেবা প্রদানে নিয়মিত বিদ্যুৎ না থাকায় কর্মক্ষেত্রে সময়মতো কাজ হওয়া সম্ভব নয় এবং গ্রাহক-সহযোগিতা ব্যাহত হচ্ছে।
আঞ্চলিক প্রশাসনের উদ্যোগ ও প্রতিক্রিয়া অনিশ্চিত
বিক্ষোভশেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্মারকলিপি প্রদান করা হলেও এখন পর্যন্ত জেলা প্রশাসন বা বিদ্যুৎ বিভাগের প্রবক্তাদের তরফে সমাধান বা প্রতিক্রিয়া সংবাদ সংস্থার কাছে সরাসরি জানানো হয়নি। বিক্ষোভ আয়োজকরা বলেছেন, তাদের দাবিগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ায় ভবিষ্যতে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
| বিষয় | দাবি |
|---|---|
| বিদ্যুৎ সরবরাহ | নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ |
| প্রি-পেইড মিটার | বাতিল |
| ডিমান্ড চার্জ | বাতিল |
নেতৃত্ব ও সম্ভাব্য পরবর্তী কর্মসূচি
জেলা শ্রমিক ঐক্য সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে এই বিক্ষোভ আয়োজন করা হয়েছে। সমাবেশে বক্তারা আরও বলেন—জনদুর্ভোগ নিরসনে দ্রুত এসব দাবি বাস্তবায়ন করতে হবে; না হলে বৃহত্তর ও তীব্র আন্দোলনের পথে জানানো হবে। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ক্রেতাঘরকে যে প্রভাব পড়ছে, তা বিবেচনায় নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সমস্যা সমাধানে আগ্রহী হতে হবে—এটাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা।
স্থানীয় প্রভাব: যদি বিদ্যুৎ বিভ্রাট অব্যাহত থাকে এবং আর্থিক খরচ বাড়ে, তবে নগর্যের ছোট ব্যবসা ও গার্মেন্টস-সহ বিভিন্ন সেবা খাতের কার্যক্রমেই নেতিবাচক প্রভাব স্থায়ী হতে পারে।