মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার শ্যামল ছায়া (ডিসি প্রজেক্ট) এলাকায় গত রাতের ঘটনার মধ্যে বালুচর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল লতিফের বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি ঘটেছে। স্থানীয় ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা যায়, ডাকাতেরা ঘরের মূল ফটক ও নীচতলার দরজার তালা ভেঙে প্রবেশ করে রাত্রি আনুমানিক দুইটার দিকে মালামাল লুট করে যায়।
ঘটনার কৌণিক চিত্র
স্থানীয়দের এবং ভুক্তভোগীর বর্ণনা অনুযায়ী, ঘটনার সময় বাড়ির মালিক পরিবারসহ অন্যত্র ছিলেন। বাড়িতে তখন একাই ছিলেন প্রজেক্ট মসজিদের ইমাম মাওলানা আল-আমিন। তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকার পরে ডাকাতরা ছাদে থাকা ইমামকে দেখে তাড়াতাড়ি আসবাবপত্র ভাঙচুর করে আলমারি ভাঙে এবং নগদ ও মূল্যবান জিনিসপত্র লুট করে চলে যায়।
"ডাকাতির সময় আমি সপরিবারে খাসমহল গ্রামে শ্বশুরবাড়িতে ছিলাম। বাড়িতে প্রজেক্টের মসজিদের ইমাম সাহেব ছিলেন। ডাকাতেরা ঘরের আলমারি ও আসবাব ভেঙে তছনছ করেছে এবং নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার লুট করে নিয়ে গেছে।"
ক্ষতি ও তদন্তের প্রাথমিক তথ্য
স্থানীয় সূত্র বলছে, ডাকাতির সময় ঘরের আলমারি থেকে নেওয়া হয়েছে প্রায় নগদ ৮ লাখ টাকা এবং প্রায় দুই ভরি স্বর্ণালংকারসহ মোট প্রায় ১২ লাখ টাকার মালামাল। সিরাজদিখান থানায় এ ঘটনায় মামলা হয়নি—ক্ষতিপূরণ ও আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বাড়ির মালিকের কথাগুলো জানানো হয়েছে এবং পুলিশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| ঘটনার স্থান | শ্যামল ছায়া (ডিসি প্রজেক্ট), সিরাজদিখান, মুন্সিগঞ্জ |
| সময় (প্রায়) | মধ্যরাত, আনুমানিক রাত ২টা |
| লুট হওয়া জিনিসপত্র | নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার (মোট প্রায় ১২ লাখ টাকা মূল্যমান) |
| প্রতিবেদন অনুযায়ী সক্রিয় সন্দেহভাজন | ডাকাতদলের আকার আনুমানিক ১০–১২ জন |
পুলিশি প্রতিক্রিয়া
সিরাজদিখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলাউদ্দিন সংবাদ যোগাযোগে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেছেন, "সংবাদ পাওয়ার পরপরই রাতেই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে পুলিশ জোর তদন্ত শুরু করেছে।" তদন্তে কি কোনো সন্দেহভাজন কিংবা দলের গতিবিধি পাওয়া গিয়েছে—এ সম্পর্কে দায়িত্বশীল পুলিশ কর্মকর্তারা বিস্তারিত জানায়নি।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও প্রভাব
বালুচর ইউনিয়ন ও সার্বিক সিরাজদিখান এলাকার সাধারণ মানুষ এই ঘটনায় উদ্বিগ্ন। মধ্যরাতে বাড়িতে তালা ভেঙে ঢুকে প্রচুর টাকা ও স্বর্ণালংকার নেওয়া স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা সংকটের ভাব তৈরি করেছে। বিশেষ করে মুসলিম পবিত্র মাস কিংবা উৎসবকালে এমন ঘটনা বাড়ি বাড়ি আতঙ্ক ছড়াতে পারে বলে স্থানীয়রা বলেন।
- ঘটনার সময় বাড়ির সদস্যরা অনুপস্থিত ছিলেন—এই ধরনের অপরাধীদের জন্য সুবিধাজনক পরিস্থিতি তৈরি করে।
- প্রজেক্ট এলাকায় কড়া পর্যবেক্ষণ ও পুলিশি টহল বৃদ্ধি না হলে পুনরায় অনুরূপ ঘটনা ঘটার আশঙ্কা রয়েছে।
- স্থানীয়রা নিরাপত্তা বেষ্টনী, রাত্রিকালে টহল ও অন্ততঃ সিসিটিভি স্থাপনের দাবি তুলেছেন।
পরবর্তী ধাপ
প্রাথমিক তদন্ত চালাচ্ছে সিরাজদিখান থানা; পুলিশ পার্শ্ববর্তী এলাকায় তদন্ত এবং সন্দেহভাজন ধরার চেষ্টা করছে। বাড়ির মালিক ক্ষতিগ্রস্ত মালামাল তালিকা করে আদালত বা থানায় অভিযোগ দিলে পরবর্তী আইনি দ্রব্যমূল্যায়ন ও মামলা সংক্রান্ত প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সার্বক্ষণিক টহলের পাশাপাশি এলাকাবাসীকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
এই রিপোর্ট প্রকাশের সময় পর্যন্ত পুলিশি অনুসন্ধানে কোন গ্রেপ্তার বা আটক বিবৃতি দেয়া হয়নি। স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানাচ্ছেন।