মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত নিউ হাই কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারকে চিকিৎসকের স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন ক্লিনিক্যাল রিপোর্ট প্রদানের অভিযোগে বুধবার জেলা জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর জরিমানা করে এবং ল্যাব সিলগালা করে।
অভিযান ও প্রতিশ্রুতি
জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের সহকারী পরিচালক আসাদুজ্জামান রুমেল জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটি চিকিৎসক ডা. আশরাফ উজ্জামান হামিমের স্বাক্ষর জাল করে বিভিন্ন রিপোর্ট প্রদান করছিল বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের অনুসন্ধান শেষে ভোক্তা অধিদফতর কার্যকর আইন প্রক্রিয়া অনুসরণ করে জরিমানা ও সিলগালার আদেশ দেন।
"ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা বা চিকিৎসাসংক্রান্ত রিপোর্টে অনিয়মের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।"
রুমেল বলেন, অভিযানের সময় প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম, নথিপত্র ও রিপোর্টের নমুনা বিশ্লেষণ করা হয়েছে এবং অভিযোগের ভিত্তিতে ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারায় মামলা অনুয়ায়ী জরিমানা আরোপ করা হয়েছে।
প্রয়োগকৃত শাস্তি ও আনুষঙ্গিক ব্যবস্থা
অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিম্নোক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে:
- জরিমানা: ৪৫,০০০ টাকা
- ল্যাব সিলগালা: ক্লিনিকাল সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে
নিয়মভঙ্গের ধরণ ও বিষয়ে আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ধারণ করবে। ভোক্তা অধিদফতর জানিয়েছে, এমন ধরনের প্রতারণা শুধুমাত্র ভোক্তাদের অর্থগত ক্ষতি করে না, বরং ভুল চিকিৎসা বা ভুল নির্ণয়ের ঝুঁকি বাড়ায়।
স্থানীয় প্রভাব ও আশঙ্কা
নিউ হাই কেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টার অঞ্চলে বহুল ব্যবহৃত একটি ল্যাব ছিল; বহু রোগী এখানে নিরীক্ষা করাতেন। ল্যাব বন্ধের ফলে অচিরেই রোগীদের স্তব্ধতা ও ভোগান্তি দেখা দিতে পারে—বিশেষ করে জটিল রোগ বা জরুরি পরীক্ষার প্রয়োজন হলে।
স্থানীয় কয়েকজন রোগী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, নিয়মিত পরীক্ষার রিপোর্টে পরিবর্তন ধরা পড়লে তাদের চিকিৎসার পরিকল্পনা বদলে যেতে পারে। একজন রোগী বলেন, "রিপোর্টে অনিশ্চয়তা থাকলে রোগীই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।"
ভোক্তা অধিদফতরের পরবর্তী পরিকল্পনা
সদর অধিদফতর জানিয়েছে, আগামী দিনে আরও তদারকি বাড়ানো হবে এবং চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর নথি-প্রক্রিয়া পরীক্ষা করা হবে। তারা কড়া পদক্ষেপ জানানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যাতে প্রতারণা ও অনিয়মের ক্ষেত্রে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
| কার্যক্রম | বর্ণনা |
|---|---|
| জরিমানা | ৪৫,০০০ টাকা (ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারা অনুযায়ী) |
| অতিরিক্ত ব্যবস্থা | ল্যাব সিলগালা |
রোগীদের জন্য পরামর্শ
ভোক্তা অধিদফতর ও স্বাস্থ্যকর্মীরা রোগীদের সতর্ক থাকতে বলেছেন। নিয়মিত পরীক্ষার রিপোর্ট পেলে রোগীরা নিম্নোক্ত বিষয়গুলো যাচাই করে নিতে পারেন:
- পরীক্ষার রিপোর্টে রোগীর নাম, ঠিকানা ও নমুনা সংগ্রহের তারিখ সঠিক আছে কিনা
- ডাক্তার বা পরীক্ষক ব্যক্তির নাম ও স্বাক্ষর দেখুন—প্রয়োজনে সরাসরি চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন
- রিপোর্টে অস্বাভাবিক বা অনির্বচনীয় তথ্য থাকলে পুনরায় পরীক্ষা করান বা অপর ল্যাবে যাচাই করান
এ ঘটনার কারণে মানিকগঞ্জে অন্যান্য ডায়াগনস্টিক কেন্দ্রগুলোর ওপরও নজরদারি বাড়ার সম্ভাবনা আছে। ভোক্তা অধিদফতর অনেক ক্ষেত্রে প্রকাশ্যে অভিযানের তথ্য জানায় যাতে জনগণ সচেতন হয় এবং সেবা গ্রহণের আগে যাচাই-বাছাই করে।
মানিকগঞ্জ থেকে পাঠানো সংবাদে প্রতিবেদক জানাচ্ছেন, ভোক্তা অধিদফতরের এই পদক্ষেপ স্থানীয় হাসপাতালে রোগীদের আস্থা ফিরিয়ে দেয়ার জন্য একটি সতর্ক বার্তা হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে।