মানিকগঞ্জ জেলার জাগির ইউনিয়নের উকিয়ারা গ্রামে পরিত্যক্ত ও জরাজীর্ণ ঘরে মানবেতর জীবনযাপন করা তিন সন্তানের জননী সকিনা-র পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সেই অবস্থার একটি ভিডিও প্রকাশিত হওয়ার পর দ্রুত তাঁর খোঁজ নিয়ে তাত্ক্ষণিক সহায়তা পৌঁছে দিয়েছেন স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ভিডিও দেখেই কাজে জেলা প্রশাসন
স্থানীয় সাংবাদিক দেওয়ান আবুল বাশার-এর ফেসবুক আইডি থেকে ১৬ আগস্ট ‘পরিত্যক্ত ঘরে তিন সন্তানের জননী’ শিরোনামে প্রকাশিত ভিডিওটি জনপ্রিয় হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে। পরদিন সোমবার (১৭ আগস্ট) বৃষ্টি সত্বেও মানিকগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মৌসুমি নাসরিন নিজে সকিনার বাড়িতে যান।
স্থানীয়রা জানান, রাস্তা সংকীর্ণ থাকায় গাড়ি কিছুটা দূরে রেখেই হেঁটে তিনি ওই বাড়িতে পৌঁছান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আলী নূর, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রুশিয়া আক্তার এবং স্থানীয় ইউপি সদস্য রাজা প্রমুখ।
অপারগ লোকটির তাত্ক্ষণিক সহায়তা
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমি নাসরিন সকিনাকে নগদ ও খাদ্যসহায়তা প্রদান করেন এবং পরিবারের স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তার খেয়াল রাখার নির্দেশ দেন। শ্ীভাবে ঘরের নানান ত্রুটি পুনরুদ্ধারের উদ্যোগ নেবেন বলে তিনি জানান।
“জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশনায় আমরা এখানে এসেছি। আপাতত খাদ্যসহায়তা দেওয়া হলো এবং তার সন্তানদের মায়ের যত্ন নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই তার ঘর মেরামত করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি তার জন্য সরকারি ভাতার ব্যবস্থা করারও উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
কী করা হয়েছে — সরাসরি ব্যবস্থা
উপজেলা প্রশাসন বসবাসের অযোগ্য পুরনো টিন পরিবর্তন করে নতুন টিন দেওয়া এবং একটি পাখা স্থাপনের ব্যবস্থা করতে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ দেন। স্থানীয়রা জানান, এসব কাজ দ্রুত শুরু করা হয়েছে।
- নগদ সহায়তা ও খাদ্যদান করা হয়েছে।
- পুরনো টিন পরিবর্তন করে নতুন টিন দেয়া হয়েছে।
- একটি ফ্যানের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
- সরকারি ভাতার ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্ন
ঘটনাটি সামনে আসার আগে সকিনা ও তার তিন সন্তান দীর্ঘ সময় ধরে জরাজীর্ণ ঘরে বসবাস করছিলেন বলে স্থানীয়রা জানান। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের নমনীয়তা ও স্থানীয় সাংবাদিকতার ভূমিকা এ ক্ষেত্রে কার্যকরভাবে কাজ করেছে—কমিউনিটিতে এ ধরনের ভৃত্যচিত্রের দ্রুত প্রতিক্রিয়া মানুষের বেশি অগ্নিপথকে ঠেকাতে সাহায্য করে।
তবে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই ধরনের ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা কিভাবে নিশ্চিত করা যাবে। প্রশাসনের অস্থায়ী সহায়তা গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু পুনর্বাসন, নিয়মিত ভাতা বা সমাজসেবা কার্যক্রমের মাধ্যমে স্থায়ী ব্যবস্থাই মূল চ্যালেঞ্জ।
পরবর্তী ধাপ ও প্রত্যাশা
ইউএনও জানিয়েছিলেন, আপাতত শিশুসন্তানদের মায়ের যত্ন নেওয়ার ব্যবস্থাসহ ঘর মেরামত করা হবে এবং সরকারি ভাতার জন্য উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয়রা আশা রাখছেন, সরকারি প্রতিশ্রুতি বাস্তবে রূপ নেবে এবং সকিনার পরিবারের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
| প্রদানকৃত সহায়তার ধরন | অবস্থা |
|---|---|
| নগদ ও খাদ্যসহায়তা | দেওয়া হয়েছে |
| টিন পরিবর্তন ও মেরামত | নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ শুরু |
| ফ্যান সরবরাহ | এবং ব্যবস্থা গ্রহণের কথা বলা হয়েছে |
| সরকারি ভাতা/ভাতার ব্যবস্থা | উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি |
ঘটনাটি স্থানীয় সরকারের তৎপরতা ও সামাজিক মিডিয়ার ভূমিকার উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। পরবর্তী সময়ে সরকার বা সমাজসেবা বিভাগের কোনো স্থায়ী উদ্যোগ নেয় কিনা এবং সকিনার পরিবারের পাশে দাড়ানো যাবে কিনা—এই বিষয়গুলো নজর রাখার দাবি উঠছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সামাজিক নিরাপত্তা, পুনর্বাসন এবং স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা কড়া নজর রাখবেন বলে জানান। জেলা প্রশাসনও বলেছে, প্রয়োজনীয় সমন্বয় করে দ্রুতভাবে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।