মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় অবস্থিত দিয়াবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প দ্রুত সংস্কারের অভাবে ঝুঁকির মুখে রয়েছে। প্রায় ২৫ বছর আগে জমি-পাহাড় থেকে মাথা গোঁজার ঠাঁই হিসেবে গঠিত এই প্রকল্পে থাকা ১০০টি পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ফাটল, ছেঁড়া দরজা-জানালা, ভিজে ঘর ও নষ্ট হওয়া স্যানিটেশন সুবিধার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
বাস্তব চিত্র ও বাসিন্দাদের কণ্ঠ
প্রকল্পের বাসিন্দারা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই অনেক ঘরে ছাদ থেকে পানি পড়ে, দেয়াল চিচিঁড়ে গেছে। টয়লেট ও গোসলখানা দীর্ঘদিন ধরে অকার্যকর; টিউবওয়েল নষ্ট থাকায় নিরাপদ পানির অভাবও বিরাট সমস্যা।
প্রকল্পের একজন বাসিন্দা আয়েশা বেগম বলেন,
“আমার নাম আয়েশা। স্ট্রোক করে পা অকেজো হয়ে গেছে। কোনোরকম প্রতিবন্ধী ভাতায় চলছি।”
আয়েশার কথায়, স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে তিনি ও তার ছেলে ভর্তুকিভিত্তিক জীবনযাপন করছেন। কিন্তু ঘরে নিয়মিত জলের ছোটা, ভেজা দেয়াল ও টয়লেটের অকার্যকারিতা তাদের জীবন আরও দুর্বিষহ করে তুলেছে।
কতজন প্রভাবিত এবং কী কী সমস্যা
স্থানীয়রা বলে, প্রকল্পে মোট ১০০টি পরিবার বাস করেন। প্রধান সমস্যাগুলো হলো:
- ঘর ও বেড়ার ভাঙ্গাচোরা অবস্থা
- দরজা-জানালার অবনতি
- অকার্যকর গোসলখানা ও টয়লেট
- নষ্ট টিউবওয়েল ও নিরাপদ পানির সংকট
- বৃষ্টিতে পানি ঘরে পড়ে গেলে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও আসুরক্ষার অনুভূতি
| বিষয় | অবস্থা |
|---|---|
| স্থাপনার বয়স | প্রায় ২৫ বছর |
| পরিবার সংখ্যা | ১০০ |
| মুখ্য অভিযোগ | ঘর-সুবিধার দীর্ঘক্ষণ সংস্কার না হওয়া |
অভিযোগ ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
বাসিন্দারা সূত্র দেখিয়ে বলেন, তারা কয়েকবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে সমস্যাগুলো তুলে এনেছেন; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে কাজের কোন দৃশ্যমান অগ্রগতি হয়নি। বারবার আশ্বাস মিললেও বাস্তবে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হয়নি বলে তারা অভিযোগ করেন।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথোপকরে বলেন,
“কোনো চাহিদা থাকলে তারা যথাযথ মাধ্যমে আবেদন করতে পারে। আমরা চাই যে যথাযথ পর্যালোচনার মাধ্যমে সঠিক ব্যক্তির হাতে আমরা সাহায্যটি তুলে দিতে।”
জেলা প্রশাসকের এই মন্তব্যে বাসিন্দারা আশায় ভর করে বলছেন, এবার যদি বাস্তবে সংস্কারের কাজ করা হয়, তা হলে আয়েশার মতো দুর্বল পরিবারের জীবনমানে তা দ্রুত প্রভাব ফেলবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও বাসিন্দাদের প্রত্যাশা
বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, শুধু লিখিত আশ্বাস নয়; দ্রুত সংস্কারের বাস্তব উদ্যোগ নিতে হবে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সদস্যদের থাকার পরিবেশ নিরাপদ করতে হলে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা জরুরি।
নিচে সংক্ষেপে করণীয় বিষয়গুলো তুলে ধরা হলো:
- তাত্ক্ষণিক জরায়ু মূল্যায়ন করে জরুরি মেরামতের তালিকা তৈরি করা।
- টিউবওয়েল ও স্যানিটেশন সংক্রান্ত অবকাঠামো সংস্কার করে নিরাপদ পানি নিশ্চিত করা।
- দুর্বল পরিবারের জন্য অস্থায়ী আর্থিক ও খাদ্য সহায়তার ব্যবস্থা করা।
- সংস্কার কার্যক্রম পর্যবেক্ষণের জন্য স্থানীয় কমিটি গঠন করা।
বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিনের উপেক্ষার কারণে ধারাবাহিক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে—এখন দ্রুত, টেকসই ও স্বচ্ছ উদ্যোগ ছাড়া সেই সমস্যার সমাধান হবে না। জেলা প্রশাসনের আশ্বাস বাস্তবে রূপ নেওয়া হলে দিয়াবাড়ি আশ্রয়ণ প্রকল্প কেবল একটি ভবন নয়, সেখানকার মানুষের নিরাপদ বাসযোগ্য ঘর হিসেবে পুনরুদ্ধার হবে বলে তাঁরা মনে করেন।
এই রিপোর্ট মানিকগঞ্জের হরিরামপুর থেকে।