মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় পুলিশের পরিচয় দিয়ে এক তরুণকে থামিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার পর ওই কথিত পুলিশের সোর্সকে আটক করা হয়েছে এবং অভিযানে অংশ নেওয়া এক এএসআইকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুরে হরিরামপুর উপজেলার বলড়া ইউনিয়নের পিপুলিয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। অভিযোগকারী তায়েফ হোসেন (২০) রাস্তায় মোটরসাইকেলে উপজেলা সদরের দিকে যাচ্ছিলেন। এসময় তাদের গতিরোধ করে এএসআই মো. সোহেল রানা এবং আলমগীর হোসেন নামের ওই কথিত সোর্স নিজেকে পুলিশ পরিচয় দেন এবং তায়েফের দেহ তল্লাশি করেন। পরে, অভিযোগ অনুযায়ী, তরুণকে মারধরের মাধ্যমে তাঁর কাছ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা ও একটি মোবাইল ফোন নেওয়া হয়। পরে ফোনটি ফেরত দেওয়া হলেও টাকাটি ফেরত পাওয়া যায়নি।
“একপর্যায়ে তাঁকে মারধর করে ২ হাজার ৬০০ টাকা ও একটি মুঠোফোন নেওয়া হয়। পরে মুঠোফোন ফেরত দেওয়া হলেও টাকা ফেরত দেওয়া হয়নি।”
তায়েফ ও তার বন্ধুদের সন্দেহ হলে তারা তাদের অনুসরণ করতে থাকেন। পরে হারুকান্দি ইউনিয়ন পরিষদের সামনে স্থানীয়দের সহায়তায় আলমগীরকে আটক করা হয় এবং খবর পেয়ে পুলিশ অভিযুক্তকে হেফাজতে নেয়।
পুলিশের প্রতিক্রিয়া ও ব্যবস্থা
হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ আফজাল হোসাইন জানিয়েছেন, অভিযান পরিচালনায় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানানো হয়নি। সেই কারণেই এএসআই মো. সোহেল রানাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া অভিযুক্ত আলমগীরের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ না থাকলেও তাঁকে ১৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে।
“ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের না জানিয়ে মাদকবিরোধী অভিযানে যাওয়ার কারণে এএসআই সোহেল রানাকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।”
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা চলছে। স্থানীয়রা পুলিশের নাম ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন। ঘটনার একটি ধারণাকৃত ভিডিও ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যা নিয়ে জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
- তারিখ ও সময়: মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট দুপুর
- স্থান: বলড়া ইউনিয়নের পিপুলিয়া এলাকা, হরিরামপুর উপজেলা
- অভিযুক্ত: আলমগীর হোসেন (২৮) — কথিত পুলিশের সোর্স
- প্রত্যাহার করা পুলিশ সদস্য: এএসআই মো. সোহেল রানা
- অভিযোগ: ২ হাজার ৬০০ টাকা আদায় ও একটি মোবাইল ফোন গ্রহণ (মোবাইল পরে ফেরত)
আইনগত ও সামাজিক প্রাসঙ্গিকতা
পুলিশ পরিচয়ে সাধারণ নাগরিকদের থেকে টাকা আদায় করা হলে তা কেবল ব্যক্তি-স্তরের আঘাত হিসেবে নয়, সামগ্রিকভাবে আইন-শৃঙ্খলার ওপর আস্থা কমানোর বিষয়ও হয়ে দাঁড়ায়। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ও দায়বদ্ধতা নির্ধারণে আদালত ব্যবস্থা নেবে বলে আইন পরিচালনাকারীরা জানিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় বিচার দাবি করছেন যাতে ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনাই পুনরায় না ঘটে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অভিযোগকর্তা | তায়েফ হোসেন (২০) |
| অভিযুক্ত (কথিত) | আলমগীর হোসেন (২৮) |
| প্রত্যাহারকৃত অফিসার | এএসআই মো. সোহেল রানা |
| আইনি ব্যবস্থা | ১৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি |
পরবর্তী করণীয় ও পাঠকদের জন্য তথ্য
যেসব পরিস্থিতিতে নিজের বিরুদ্ধে পুলিশের পরিচয় দেখিয়ে আর্থিক দাবি করা হয়, সেখানে করণীয় হিসেবে—প্রথমে শান্তভাবে পরিচয় ও নির্দেশের নথি চাওয়া, সম্ভব হলে এমন পরিস্থিতির ভিডিও বা ছবি সংগ্রহ করা, আশপাশের লোকজনকে জানানো ও পরে নিকটস্থ থানায় লিখিত অভিযোগ করা উচিত। স্থানীয়রা দাবি করছেন, দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত হলেই জনগণের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।
ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া তথ্য ও পুলিশি সূত্রের ওপর ভিত্তি করে এ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে—পুলিশ বলেছে তারা ঘটনার পূর্ণতা তদন্ত করবে।