লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলা নয়, চন্দ্রগঞ্জের মান্দারি বাজারে বুধবার মোবাইল কোর্টের অভিযান চালিয়ে চারটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানকে মোট ৫৬,০০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
অভিযান কেন এবং কী ধরা পড়ল
জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, অভিযানের সময় দোকানপাটে নানা ধরনের নিয়ম ভঙ্গসহ জনস্বাস্থ্য-অভিযোগ ধরা পড়ে। তাদের মতে, নিম্নলিখিত অনিয়ম লক্ষ্য করা হয়:
- অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার রান্না
- মেয়াদোত্তীর্ণ দই ও মিষ্টি সংরক্ষণ
- পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার না করা
- ওজনে কারচুপি
- প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকা
এ অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুজ্জামান খান ও জান্নাতুল ছিদ্দিকা। স্যানিটারি ইন্সপেক্টর তাজুল ইসলাম ও পুলিশের সদস্যরা তাদের সঙ্গে ছিলেন বলে প্রশাসন সূত্রে জানা যায়। জরিমানার অর্থ আদায় করা হয়েছে।
জরিমানা প্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান
অভিযানে মোট চারটি প্রতিষ্ঠানকে ভিন্ন ভিন্ন অপরাধে জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোর নাম জেলা প্রশাসন স্থানীয় পর্যায়ে প্রকাশ করেছে:
- আল্লাহর দান মুদি দোকান
- বনফুল সুপার স্টোর
- আলমাস হোটেল
- একটি ফলের দোকান
| প্রতিষ্ঠান | ধরা পড়া অনিয়ম | জরিমানা (টাকা) |
|---|---|---|
| আল্লাহর দান মুদি দোকান | পণ্যে পাটজাত মোড়ক ব্যবহার না করা, লাইসেন্স সংক্রান্ত অনিয়ম | উল্লেখ নেই |
| বনফুল সুপার স্টোর | ওজনে কারচুপি, লাইসেন্স বিষয়ে অনিয়ম | উল্লেখ নেই |
| আলমাস হোটেল | অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার রান্না | উল্লেখ নেই |
| ফলের দোকান | মেয়াদোত্তীর্ণ মিষ্টি/দই সংরক্ষণ | উল্লেখ নেই |
| মোট | ৫৬,০০০ | |
প্রযোজ্য আইন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
জেলা প্রশাসন জানায়, জরিমানা বাস্তবায়নে বিভিন্ন আইনের ধারাগুলো প্রয়োগ করা হয়েছে—ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯; অত্যাবশ্যকীয় পণ্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ১৯৫৬; পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০; এবং ওজন ও পরিমাপ মানদণ্ড আইন, ২০১৮।
প্রশাসনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে ভোক্তা অধিকার রক্ষা এবং নিরাপদ খাদ্য পরিবেশ নিশ্চিতকরণে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। স্থানীয় পর্যায়ে নিয়মকানুন না মানলে কড়া আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তারা সতর্ক করেছেন।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় তথ্য
মান্দারি বাজারের ক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে নিয়মিত তদারকি হলে ভোক্তা নির্ভরতা বাড়বে। ব্যবসায়ীরা চাইছেন, প্রশাসন কমিশন মঙ্গলপূর্ণ উপায়ে সচেতনতা বাড়িয়ে দিক যাতে ছোট দূর্যোগপূর্ন অনিয়মগুলো সমাধান করা যায়। এছাড়া মোবাইল কোর্ট ও খাদ্য স্যানিটেশন বিষয়ক প্রশিক্ষণ হলে উপকার হবে—তারা মনে করেন।
ভোক্তাদের জন্য কিছু ব্যবহারিক তথ্য:
- ক্রয়কালে পণ্যটির প্যাকেট ও মেয়াদ ঠিক আছে কি না পরীক্ষা করুন।
- ওজন বা পরিমাপে সন্দেহ হলে কাছাকাছি থানায় বা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরে অভিযোগ করুন।
- খাবার ক্রয়ে স্বাস্থ্যবিধি ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা দেখুন; সন্দেহ হলে কেনাবেচা থেকে বিরত থাকুন।
জেলা প্রশাসন এই অভিযানের কথা তুলে ধরে জানিয়েছেন যে, একক অভিযানেই সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়; নিয়মিত মনিটরিং, ব্যবসায়ীদের সচেতনতা বাড়ানো ও জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ মিললে নিরাপদ বাজার প্রতিষ্ঠা করা যাবে—এটাই তাদের লক্ষ্য।