নীলফামারীর শহরে দুপুরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে জেলা শ্রমিক ঐক্য সংগ্রাম পরিষদ অনড় অবস্থান গ্রহণ করেছে। সংগঠনটি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ ও প্রিপেইড মিটার বাতিলসহ মোট পাঁচ দফা দাবিতে স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর প্রদান করেছে।
বিক্ষোভের আয়োজন ও পথযাত্রা
মঙ্গলবার দুপুরে শহরের বড়বাজার ট্রাফিক মোড় থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসক কার্যালয় চত্বরে এসে সমাপ্ত হয়। সমাবেশে জেলা শ্রমিক ঐক্য সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন র্যাবুস্থান করেন এবং অন্যান্য নেতা-কর্মীরা বক্তব্য রাখেন।
দাবি ও স্মারকলিপির অনুষঙ্গ
স্মারকলিপিতে যে দাবিগুলো উল্লেখ করা হয়েছে তা হলো—
- নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা
- ডিমান্ড চার্জ বাতিল
- মিটার ভাড়া বন্ধ
- ৫০ থেকে ৩০০ ইউনিট পর্যন্ত স্বল্প রেট প্রযোজ্য করা
- ভ্যাটের হার কমানো
| দাবি | সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যা |
|---|---|
| নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ | প্রতিদিন ও রাতে লোডশেডিং ছাড়া সারাদেশের মতো জেলারও বিদ্যুৎ সরবরাহ স্থিতিশীল করার দাবি |
| ডিমান্ড চার্জ বাতিল | প্রিপেইড মিটারের নির্ধারিত ডিমান্ড চার্জ তুলে নেওয়া |
| মিটার ভাড়া বন্ধ | গ্রাহকদের থেকে মিটার ভাড়া নেওয়া বন্ধ করার দাবি |
সংগঠনের বক্তব্য ও হুমকিস্বরূপ সংগ্রাম
সমাবেশে সভাপতিত্বকরা বক্তব্যে শ্রোতারা লোডশেডিংয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। সভায় বীর মুক্তিযোদ্ধা জয়নাল আবেদীন বলেন,
“লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ। বিদ্যুতের অভাবে মানুষজন কষ্ট পাচ্ছেন। দিনে রাতে সমানতালে চলছে লোডশেডিং। তার ওপর বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার জনগণকে চুষে খাচ্ছে। মিটারের ডিমান্ড চার্জ বাতিল করতে হবে। যদি আমাদের দাবি পূরণ করা না হয়, তাহলে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
সভায় সংগঠনের সহসভাপতি মো. মাহবুবুল আলম, সাধারণ সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল জলিল, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন জেলা কমিটির সভাপতি আলিফ সিদ্দিকী উপস্থিত ছিলেন এবং তারা দাবিগুলো ত্বরান্বিতভাবে বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসন ও মন্ত্রণালয়ের কাছে জোর দাবি জানান।
স্থানীয় প্রভাব ও পারষ্পরিক প্রত্যাশা
নীলফামারীর ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দীর্ঘমেয়াদি লোডশেডিং ও ব্যয়বহুল বিদ্যুৎ বিল নিয়ে সময়ে সময়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। দোকানপাট, শিল্প-কারখানা ও ঘরোয়া খাতে অনিয়মিত সরবরাহ ও অতিরিক্ত খরচ ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে প্রতিকূলতা সৃষ্টি করে। শ্রমিক সংগঠনটি বলেছে, বিদ্যুৎ খাতে ন্যায্যতা ফিরে না এলে তারা তীব্র কর্মসূচি শুরু করবে যা স্থানীয় অর্থনীতিকেও প্রভাবিত করবে।
পরবর্তী প্রত্যাশা ও প্রশাসনিক ভূমিকা
বিক্ষোভ ও স্মারকলিপি জমা দেওয়ার মাধ্যমে জেলা প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রণালয়ের প্রতি এখনই নানা তদন্ত, নিরীক্ষা ও দ্রুত তদবির করার দায়িত্ব আরোপিত হলো। আগামী দিনে প্রশাসন যদি তৎপরতা দেখায়, তবে আন্দোলন আপাতত পিছিয়ে দেয়া হতে পারে—তবে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।
নীলফামারীতে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও প্রিপেইড মিটার সংক্রান্ত বিরোধীতা দেশের অন্যান্য অঞ্চলেও দেখা গেছে; এতে নীতিনির্ধারক ও কার্যকরী কর্তৃপক্ষের সঙ্গে জনগণের সংলাপই সমস্যার স্থায়ী সমাধান আনতে পারে। শ্রমিক ঐক্য সংগঠন তাদের দাবির বাস্তবায়ন না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যা এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা এবং অর্থনৈতিক কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ঘটনার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসন ও বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি; তারা যদি আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয় তবে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।