নোয়াখালি ও লক্ষ্মীপুরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকার ফলে দুই জেলায় মোট প্রায় ৭ হাজার ১৫০ গ্রাহক সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন। এদের মধ্যে লক্ষ্মীপুর জেলায় পুরো এলাকায়ই গ্যাস যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
কি ঘটেছে: লিকেজ এবং বন্ধ সার্ভিস
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকালে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের কেন্দুরবাগে লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী মহাসড়কের পাশে এক সেতুর নিচে পানির তলদেশে থাকা গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ শনাক্ত হয়। নিরাপত্তার কারণে পরের দিন রাত থেকেই ওই লাইন ধরে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
এই বন্ধের ফলে লক্ষ্মীপুরে আবাসিক গ্রাহকরা রান্নাবান্নাসহ দৈনন্দিন কাজকর্মে ভোগান্তি পেড়িয়েছেন। পাশাপাশি গ্যাসনির্ভর সিএনজি স্টেশনগুলো বন্ধ থাকায় গণপরিবহণেও সমস্যা দেখা দিয়েছে, ফলে চালক ও যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েছে।
কতজন প্রভাবিত?
| রকম | সংখ্যা |
|---|---|
| আবাসিক গ্রাহক (লক্ষ্মীপুর) | প্রায় ৭ হাজার |
| বাণিজ্যিক গ্রাহক | ১৫০ |
| সিএনজি স্টেশন | চুয়েবল—৪টি (বেগমগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুরে মিলিত) |
সরকারি ও বিবেচ্য সূত্র বলছে, মোট প্রভাবিত গ্রাহকের সংখ্যা আনুমানিক ৭ হাজার ১৫০। তবে এর মধ্যে অধিকাংশই লক্ষ্মীপুরের আবাসিক গ্রাহক।
মেরামত ও সম্ভাব্য সময়রেখা
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড জানিয়েছে, রবিবার (৯ আগস্ট) সকাল থেকে পাইপলাইনের লিকেজ মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির নোয়াখালী কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী শাহ আলম বলেছেন, পাইপলাইনটি পানির প্রায় ১০ ফুট নিচে অবস্থান করছে; তাই মেরামত জটিল হয়েছে।
"পাইপলাইনটি পানির কয়েকফুট নিচে থাকায় মেরামত কাজ কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে। পুরোনো পাইপ মেরামত করার বদলে নতুন পাইপ বসিয়ে বাইপাস লাইন করে গ্যাস সরবরাহ চালু করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে,"
তাঁর কথায়, সব কিছু ঠিক থাকলে রোববার মধ্যরাতের মধ্যে মেরামত কাজ শেষ করে গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু পানির নিচে কাজ করায় সময়সীমা নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না।
স্থানীয়দের অসুবিধা ও প্রতিক্রিয়া
লক্ষ্মীপুরের সাধারণ মানুষ বলছেন, গ্যাস নিস্তব্ধ হয়ে যাওয়ায় রান্নার কাজ থেমে গেছে, ছোট ব্যবসা চালাতে সমস্যা হচ্ছে এবং বাসায় বিদ্যুৎভিত্তিক বিকল্প ব্যবহারে বাড়তি খরচ হচ্ছে। সিএনজি চালকদেরও কথায় ছিল—কার চার্জার পরিবর্তন না হলে দিনের কর্মসূচি ব্যাহত হচ্ছে।
- আবাসিক গ্রাহকরা রান্নার গ্যাস না থাকায় কেরোসিন বা বৈদ্যুতিক চুলোর ওপর নির্ভরশীল হয়েছেন।
- সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকায় গণপরিবহনে ভ্রমণ ব্যয় ও সময় বাড়ছে।
- ক্ষুদ্র ব্যবসা (রাঁধুনি, মুদি দোকান ইত্যাদি) দ্রুত প্রভাবিত হচ্ছে কারণ গ্যাসই তাদের মূল শক্তি উৎস।
পরিদর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
উপমহাব্যবস্থাপক শাহ আলম জানিয়েছেন, বিপদ কমাতে শুধু মেরামত নয়, নতুন পাইপ বসিয়ে বাইপাস লাইন তৈরি করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ পদক্ষেপের লক্ষ্য হলো নিকট ভবিষ্যতে একই ধরণের ঘটনার পুনরাবৃত্তি প্রতিহত করা।
আঞ্চলিক পর্যায়ে গ্যাস সরবরাহ স্থায়ীভাবে স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের জন্য বিকল্প রান্না ও উত্তাপ ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ সম্পর্কিত সচেতনতা বাড়ানো প্রয়োজন বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।
এসময় জেলা প্রশাসন, গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে দ্রুত ও সমন্বিতভাবে কাজ করে খোলা ও জরুরি সেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।