লক্ষ্মীপুরে ‘বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্যে সাত দিনব্যাপী বৃক্ষরোপণ অভিযান ও এক সপ্তাহব্যাপী বৃক্ষমেলা সোমবার (১০ আগস্ট) থেকে শুরু হয়েছে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের প্রাঙ্গণে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক এস.এম. মেহেদী হাসান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেন।
উদ্বোধন, র্যালি ও আলোচনা
অনুষ্ঠানের প্রথমে বেলুন উড়িয়ে ও ফিতা কেটে কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনের পর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের প্রাঙ্গণ থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এরপর কালেকটরেটের হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয় যেখানে পরিবেশ, বন এবং কৃষি খাতের স্থানীয় কর্মকর্তারা অংশ নেন।
প্রধান অতিথি ও অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন জেলা পুলিশ সুপার মো. আবু তারেক, সিভিল সার্জন (ভারপ্রাপ্ত) ডা. মোহাম্মদ বাহারুল আলম, জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ জহির আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক হারুন অর রশিদ পাঠান এবং নোয়াখালী উপকূলীয় বন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (উপবন সংরক্ষক) মোল্লা মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
মেলার আকার, অংশগ্রহণ ও চারা বিতরণ
বৃক্ষমেলায় মোট ১৮টি নার্সারি স্টল অংশ নিয়েছে। মেলার স্টলে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ ও ছায়া-উপকারী গাছের চারা প্রদর্শিত হয় এবং অতিথিরা এসব স্টল পরিদর্শন করেন। উদ্বোধনকৃত অনুষ্ঠানের পর মেলায় উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ফলজ গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়; উপস্থিতি সম্পর্কে স্থানীয় একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে প্রায় ২০০ জন শিক্ষার্থী এসব চারা পেয়েছে।
“বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ”
কর্মসূচির লক্ষ্য ও কার্যক্রম
আয়োজকদের উদ্দেশ্য হচ্ছে স্থানীয় পর্যায়ে গাছ রোপণের চর্চা বাড়ানো, পরিবেশগত সচেতনতা তৈরি করা এবং জনগণকে গাছের প্রতিজীবন গুরুত্ব সম্পর্কে জানানো। পাশাপাশি নার্সারিগুলোর মাধ্যমে গাছের সঠিক পরিচর্যা ও উৎপাদন সম্পর্কে জনসাধারণকে পরিচিত করানোও একটি লক্ষ্য।
- উদ্বোধনী স্থান: জেলা কালেক্টরেট প্রাঙ্গণ
- সময়সীমা: ৭ দিনব্যাপী অভিযান; মেলা এক সপ্তাহজুড়ে চলবে
- অংশগ্রহণকারী: ১৮টি নার্সারি এবং সরকারি বন, কৃষি ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতিনিধিরা
স্থানীয় প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগ একত্রে আয়োজিত এই কর্মসূচি থেকে প্রত্যাশা করা হচ্ছে শহর ও বেড়িবাঁধ এলাকায় গাছের সারিবদ্ধতা ও সবুজে বৃদ্ধি ঘটবে, তাছাড়া স্কুল-কলেজ পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশে সচেতনতা বাড়বে। মেলায় অংশ নেওয়া নার্সারি উদ্যোক্তারা জানান, তারা মানুষকে স্থানীয় জলবায়ু ও মাটির উপযোগী প্রজাতির চারা সরবরাহে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
অধিকাংশ কর্মকর্তা-প্রতিনিধির বক্তব্যে উল্লেখ রয়েছে—গাছ রোপণের পাশাপাশি তাদের নিয়মিত জলায়ন, পরিচর্যা ও সঙ্গত কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় না হলে তৎক্ষণাৎ ফল পাওয়া কঠিন হবে। তাই আয়োজকরা ভবিষ্যতে সম্প্রসারণ পর্যায়ে পরিচর্যা ও প্রযুক্তি বিতরণ কার্যক্রম বাড়ানোরও পরিকল্পনা করছেন।
স্থানীয়দের জন্য ব্যবহারিক তথ্য
বৃক্ষমেলায় লক্ষ্য করলে দেখা যাবে যে মৌসুমী ফলজ ও ছায়াদানকারী গাছের বেশ কিছু প্রজাতি সরবরাহ করা হচ্ছে—যেগুলো সাধারণত স্থানীয় পরিবেশে টেকসই। যারা গাছ সংগ্রহ করতে আসবেন তারা স্থানীয় নার্সারির সঙ্গে কথা বলে মাটির ধরণ ও সেচ ব্যবস্থার পরামর্শ গ্রহণ করবেন।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| মেলার আয়োজক | জেলা প্রশাসন ও বন বিভাগ |
| নার্সারি স্টল | ১৮টি |
| শিক্ষার্থীদের মধ্যে চারা বিতরণ | প্রায় ২০০ জন (স্থানীয় প্রতিবেদন অনুসারে) |
এ কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে আগামী সাতদিন ধরে; সময় বাড়ানো বা পরবর্তী পর্যায়ে সম্প্রসারণ বিষয়ক সিদ্ধান্ত স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগের যৌথ পর্যালোচনার ওপর নির্ভর করবে। স্থানীয় পরিবেশ কর্মী ও সাধারণ মানুষ কি ধরনের অংশগ্রহণ দেখাবেন, সেটাই পরে কর্মসূচির সাফল্যের মাপকাঠি হবে।