লক্ষ্মীপুর জেলায় স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে—নজর-কান পাতানো সমস্যাটি সন্ধ্যায় নয়, শুক্রবার বিকেলে শুরু হওয়া একটি লিকেজ থেকে তৈরি। নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলার কেন্দুরবাগ এলাকার লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী মহাসড়কের পাশের সেতুর নিচে পানির তলদেশে থাকা গ্যাস পাইপলাইনে এই লিকেজ শনাক্ত করা হয়। নিরাপত্তার কারণে শনিবার রাত থেকে ওই লাইনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে।
প্রভাব ও ক্ষতিগ্রস্ত গ্রাহক
ঘটনাস্থল সম্পর্কে রাষ্ট্রীয় সংস্থার প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী এ লিকেজের কারণে লক্ষ্মীপুর জেলায় এবং নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ শিল্প এলাকায় গ্যাস ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। প্রতিবেদনভিত্তিক সংখ্যা অনুযায়ী বিপর্যয়ের পরিমাণ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পরিসর নিম্নরূপ:
- প্রায় ৭ হাজার ১৫০ জন গ্রাহক সরবরাহ বিঘ্নিত হয়েছে—প্রতিবেদন অনুসারে এই সংখ্যা বলা হয়েছে।
- বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির কর্মকর্তাদের আরেকটি তথ্য অনুযায়ী লক্ষ্মীপুরে প্রায় ৭ হাজার আবাসিক ও ১৫০ বাণিজ্যিক গ্রাহক গ্যাস পেতে পারছেন না।
- চারটি সিএনজি স্টেশনেও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় পরিবহন চালক ও যাত্রীরা সমস্যায় পড়েছেন।
মেরামতের পরিকল্পনা ও চ্যালেঞ্জ
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির নোয়াখালী কার্যালয়ের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী শাহ আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রযুক্তিগত মূল্যায়ন করে জানিয়েছেন, পাইপলাইনটি আনুমানিক দশ ফুট পানির তলদেশে অবস্থান করছে, ফলে মেরামত কাজ জটিল।
“কেন্দুরবাগ এলাকায় পানির নিচে থাকা গ্যাস পাইপলাইনে লিকেজ দেখা দিয়েছে। পাইপলাইনটি প্রায় ১০ ফুট পানির নিচে থাকায় মেরামতকাজ কিছুটা জটিল হয়ে পড়েছে। তাই লিকেজ মেরামতের পরিবর্তে নতুন পাইপ দিয়ে বাইপাস লাইন তৈরি করে গ্যাস সরবরাহ চালু করা হবে।”
কর্মকর্তার এই মন্তব্য অনুসারে মেরামত কৌশলে সরল সমাধান না করে একটি বাইপাস লাইন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যেটি লিকেজযুক্ত অংশ সরাসরি বদলে না দিয়ে জোটানো পদ্ধতিতে কাজ চালু রাখার চেষ্টা। স্থানীয় সূত্র জানায়, রোববার সকাল থেকে মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে এবং সবকিছু ঠিক থাকলে মধ্যরাতের মধ্যে কাজ শেষ করে সরবরাহ স্বাভাবিক করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও উদ্বেগ
গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় লক্ষ্মীপুরের বহু পরিবারের রান্নাবান্না ও অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ প্রভাবিত হচ্ছে। এছাড়া সিএনজি স্টেশন বন্ধ থাকায় যাত্রী পরিবহনে সমস্যা দেখা দিয়েছে, ফলে জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগে ব্যাঘাত এবং ভাড়া ও সময়সংক্রান্ত অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। ভুক্তভোগীরা দ্রুত মেরামত শেষ করে গ্যাস সরবরাহ পুনরায় শুরু করার দাবি তুলেছেন।
| বিষয় | রিপোর্টকৃত তথ্য |
|---|---|
| লিকেজ শনাক্ত স্থান | বেগমগঞ্জ, কেন্দুরবাগ (সেতুর নিচে, লক্ষ্মীপুর-নোয়াখালী মহাসড়ক এলাকার পানির তলদেশ) |
| অনুমানিত পানির গভীরতা | প্রায় ১০ ফুট |
| প্রভাবিত গ্রাহক | প্রায় ৭ হাজার ১৫০ জন; অন্য তথ্যসূত্রে আবাসিক ~৭০০০ ও বাণিজ্যিক ১৫০ |
| সিএনজি স্টেশন আক্রান্ত | মোট ৪টি (বেগমগঞ্জের ২টি, লক্ষ্মীপুরের ২টি) |
আগামী করণীয় ও অনিশ্চয়তা
প্রকৌশলীগণ দ্রুতগতিতে বাইপাস লাইন স্থাপন করে সরবরাহ পুনরায় চালুর কাজ শুরু করেছেন। তবে পানির তলদেশে পাইপ মেরামত বা বাইপাস স্থাপনের জন্য বিশেষ সরঞ্জাম ও নিরাপত্তা নিশ্চয়তা প্রয়োজন। কাজ সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত লক্ষ্মীপুরবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় ব্যাঘাত চলে আসবে, বিশেষত গ্যাসনির্ভর পরিবারের জন্য এটি তীব্র অসুবিধা সৃষ্টি করবে।
স্থানীয়রা দ্রুত মেরামত ও পুনঃসেবা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানিয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কাজ অগ্রগতির উপর নির্ভর করে অতিরিক্ত আপডেট দেওয়া হবে।