কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার ফিলিপনগরে গত সপ্তাহে দরবারে হামলায় নিহত পীর আব্দুর রহমান ওরফে শামীম এর কবর উত্তোলন ও পুনরায় দাফনকে কেন্দ্র করে বাড়ছে উত্তেজনা। ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর পরিবারের অভিযোগে দৌলতপুর থানায় মামলা করা হয়েছে এবং প্রশাসন কবরস্থানে কড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।
ঘটনার সূত্রপাত ও পুনরায় দাফন
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার দিবাগত রাতে ফিলিপনগর ইউনিয়নের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশস্থ কবরস্থান থেকে শামীমের দেহাবশেষ তুলে নেওয়া হয়। পরে সেটি তার প্রতিষ্ঠিত ‘দরবার শরিফ’ প্রাঙ্গণে নিয়ে পুনরায় দাফন করা হয়—এই তথ্য এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে মিলেছে। শনিবার সকালে পরিবারের সদস্যরা কবর খোঁড়া অবস্থায় দেখতে পেয়ে পুলিশকে জানালে প্রশাসন সেখানে অভিযান চালায় এবং দরবার প্রাঙ্গণ থেকে দেহাবশেষ উদ্ধার করে পূর্বের কবরস্থানে বিকেলে পুনরায় দাফন করে।
আইনি ব্যবস্থাপনা ও মামলা
মৃত পীরের বড় ভাই ফজলুর রহমান দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলাটি করার র কারণ হিসেবে তিনি জানিয়েছেন, দেহাবশেষ কে বা কারা সরিয়ে নিয়েছিল তা পরিবারের জানা ছিল না এবং এই ব্যাপারে পরিবারের সঙ্গে কোনও আলোচনা হয়নি।
“কে বা কারা দেহাবশেষ সরিয়ে নিয়েছিল, তা আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে পরিবারের কারও সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। তাই পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করেছি,”
পুলিশ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, কবর থেকে দেহ সরিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে তদন্ত করছে। তিনি আরও জানান, যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য কবরস্থান ও আশপাশে পুলিশ মোতায়েন ও কড়া নজরদারি চলছে।
ঘটনাচক্র ও প্রেক্ষাপট
এ ঘটনার পটভূমি গত ১১ এপ্রিলের দরবারে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ঘিরে। ওই ঘটনায় অভিযোগ রয়েছে যে দরবারে ভাঙচুর ও পীরকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। পরিবারের সিদ্ধান্তে পরবর্তী সময়ে তাকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছিল। দেহ উত্তোলন ও পুনরায় দাফনের ঘটনা সেই ঘটনাকে আবারও নজিরবিহীনভাবে সামনে এনে দিয়েছে এবং স্থানীয়ভাবে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও প্রভাব
এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অনেকে বলছেন, মৃত ব্যক্তির মর্যাদা ও পারিবারিক ইচ্ছেকে সম্মান করা প্রয়োজন ছিল। অপরদিকে কিছু অংশ তার অনুসারীরা দাবি করেছিলেন যে তিনি দরবার প্রাঙ্গণেই সমাহিত হতে চান—তাই পড়ে কবে কোথায় দাফন হবে নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছিল।
- মামলা: মৃত পীরের বড় ভাই ফজলুর রহমান দৌলতপুর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন।
- তদন্ত: পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা যৌথভাবে ঘটনার তদন্ত চালাচ্ছে।
- নিরাপত্তা: কবরস্থানে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং কবরের চারপাশে দেয়াল দিয়ে ওপরে ঢালাই করার মতো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।
ঘটনার সময়রেখা (সংক্ষেপে)
| তারিখ/সময় | ঘটনা |
|---|---|
| ১১ এপ্রিল | দরবারে হামলা, শামীমের মৃত্যু অভিযোগ |
| ১২ এপ্রিল | জানাযা ও প্রথম দাফন |
| রাতে (একটি পরবর্তী তারিখ) | কবর থেকে দেহাবশেষ উত্তোলন ও দরবারে পুনরায় দাফন |
| পরদিন সকাল | পরিবার কবর খোঁড়া দেখতে পেয়ে পুলিশকে অবহিত করে; পরে দেহাবশেষ উদ্ধার ও বিকেলে পুনঃদাফন |
পরবর্তী করণীয় ও জনসচেতনতা
এ ধরনের ঘটনার পর স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত চালাতে হবে। পাশাপাশি মৃত ব্যক্তির মর্যাদা রক্ষা ও পরিবার এবং সম্প্রদায়ের মধ্যে যে বিবাদ সেটা আপস-মীমাংসা করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য স্থানীয় নেতৃত্ব ও মুক্তচিন্তার পথ অনুসরণ করা জরুরি।
স্থানীয় মানুষ ও অনুসারীদেরও সহনশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতা করা প্রয়োজন যাতে পরবর্তী সময়ে নয়োরকম সংঘর্ষ ও উত্তেজনা না ঘটে। পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার সংক্রান্ত আরও তথ্য প্রগতিতে জানানো হবে।