শিক্ষা কুড়িগ্রাম কুড়িগ্রাম (28)

কুড়িগ্রামে এসএসসিতে চার বিদ্যালয়ে শূন্য পাস: তদন্ত ও পুনরুদ্ধারে চেষ্টার আহ্বান

২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় কুড়িগ্রামের চারটি বিদ্যালয়ের কোনো পরীক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এ প্রতিষ্ঠানগুলোর বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কুড়িগ্রামে এসএসসিতে চার বিদ্যালয়ে শূন্য পাস: তদন্ত ও পুনরুদ্ধারে চেষ্টার আহ্বান
©অলংকরণ ফারহানা রহমান / we-news.com

কুড়িগ্রামে ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় চারটি বিদ্যালয় থেকে একটিও পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়নি। মাদ্রাসা বা কলেজ নয়—এগুলো মাধ্যমিক পর্যায়ের সাধারণ বিদ্যালয়, যেখানে স্থানীয় ও জেলা পর্যায়ের শিক্ষা কর্তৃপক্ষ এখন পরিস্থিতির কারণ-চিন্তা ও সমাধান খোঁজার কাজ নিয়ে আছে।

কোন স্কুলগুলোতে শূন্য পাস?

মৌলিকভাবে ফলাফলে শূন্য থাকা চারটি বিদ্যালয়ের নাম ও পরীক্ষার্থী সংখ্যা (সংযুক্ত সূত্র অনুযায়ী):

  • তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় (রাজারহাট উপজেলা) — এবার প্রথমবার মাধ্যমিক পর্যায়ে অংশগ্রহণ; পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী ১২ জন, পাস শূন্য।
  • ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় (রাজারহাট) — এবারের পরীক্ষায় ভর্তি পাঁচজন; একজনে বিয়ে করে পড়াশোনা ছেড়ে দেওয়ায় বাকিদের মধ্যে চার জন অংশগ্রহণ করলেও কেউই উত্তীর্ণ হয়নি।
  • পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় (কুড়িগ্রাম সদর) — ফল শূন্য তালিকায় রয়েছে।
  • পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় (ভূরুঙ্গামারী) — পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী চার জন, পাস শূন্য।

জেলার সামগ্রিক ফলাফল ও প্রেক্ষাপট

মৌলিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, কুড়িগ্রামে এ বছর এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিলেন ১৮,৮৯৭ জন শিক্ষার্থী। এদের মধ্যে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫৬.৩৪ শতাংশ, আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১,১৭৯ জন শিক্ষার্থী। তবু কিছু প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাস আসা জেলা শিক্ষা ব্যবস্থার জন্য উদ্বেগের বিষয়।

কারণ ও বিদ্যালয়গুলোর দিকনির্দেশ

স্থানীয় শিক্ষক ও বিদ্যালয় পরিচালকদের বক্তব্যে বিভিন্ন কারণ উঠে এসেছে—শিক্ষক সঙ্কট, শিক্ষার্থীর অনিয়মিত উপস্থিতি, এবং মেধাবী শিশুদের শহরের বড় প্রতিষ্ঠানে চলে যাওয়া। তালতলা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অজয় কুমার সরকার বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাল্যবিবাহ ও অর্থনৈতিক কারণে শ্রমজীবী যোগদান, আর বিদ্যালয়ের দূরত্বও মেধাবীদের হারানোর কারণ।

“যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে কোনো শিক্ষার্থী পাস করতে পারেনি, সেসব প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তদন্ত করা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।” — কুড়িগ্রাম জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম

জেলা প্রশাসনের পরিকল্পনা ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ

জেলা শিক্ষা অফিসারের বলা অবস্থায় তদন্তের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের মান, শিক্ষকবৃত্তি, পাঠদান সময়সূচি ও উপস্থিতি খতিয়ে দেখা হবে। তদন্ত থেকে যে কারণগুলো নির্ধারণ হবে সেগুলো নিয়ে নীচের মত কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করা যেতে পারে:

  • শিক্ষক সঙ্কট থাকলে দ্রুত যোগ্যতা সম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ বা অনুকূল বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।
  • ছাত্রী-ছাত্রীদের নিয়মিত উপস্থিতি বাড়াতে অভিভাবক ও সম্প্রদায়ভিত্তিক উদ্যোগ।
  • যেসব মেধাবী শিক্ষার্থী বড় শহরের বিদ্যালয়ে যাচ্ছে, তাদের স্থানীয় বিদ্যালয়েই ধরে রাখতে মানসম্মত শিক্ষা ও পরিকাঠামো উন্নয়ন।
  • বাল্যবিবাহ ও কিশোর শ্রমের মতো সামাজিক সমস্যার বিরুদ্ধে সচেতনতা ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত হস্তক্ষেপ।

স্থানীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর চ্যালেঞ্জ

তালতলা ও ব্রাহ্মণপাড়া ধরনের নতুনভাবে মাধ্যমিক পর্যায়ে অনুমোদিত বিদ্যালয়গুলোতে ক্লাস বহুলতর করা হলেও পর্যাপ্ত শিক্ষকবৃন্দ ও প্রস্তুতিমূলক শ্রেণি ব্যবস্থা না থাকা থেকে শিক্ষার্থীর প্রস্তুতিতে ঘাটতি দেখা যায়। পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের মতো ক্ষেত্রে শিক্ষার মান ধরে রাখার পাশাপাশি মেয়েদের পড়াশোনার বাধা—বাল্যবিবাহ বা পরিবারের আর্থিক জেরে পড়ালেখা বন্ধ হওয়া—রোধ করাও জরুরি।

সম্ভাব্য প্রভাব ও পরবর্তী নির্দেশনা

যারা এই চারটি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী বা অভিভাবক, তাদের জন্য স্থানীয় শিক্ষা অফিস কর্তৃক গৃহীত সিদ্ধান্ত এবং পরবর্তী তত্ত্বাবধানে নিজেদের অংশগ্রহণ জরুরি হবে। জেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগ যেভাবে তদন্তের প্রতিবেদন নেবে এবং ব্যবস্থা নেবে, তা ভবিষ্যতে বিদ্যালয়গুলোর ফলাফল ও শিক্ষার মান পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

বিদ্যালয় উপজেলা পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারী পাশের সংখ্যা
তালতলা উচ্চ বিদ্যালয় রাজারহাট ১২
ব্রাহ্মণপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় রাজারহাট ৪ (ভর্তি ৫, ১জন বিয়ে করে ছেড়ে দেয়)
পূর্ব কুমরপুর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় কুড়িগ্রাম সদর
পাথরডুবি আদর্শ বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ভূরুঙ্গামারী

জেলা শিক্ষা বিভাগ ও স্কুল প্রধানদের সঙ্গে সমন্বিত কাজ না হলে স্কুলগুলোতে শিক্ষার মান দ্রুত উজ্জ্বল করা কঠিন হবে। তদন্তের ফল ও পরবর্তী ব্যবস্থার বিকাশ ছাত্রদের ভবিষ্যত ও শিক্ষক-শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে নির্ধারণী ভূমিকা রাখবে।

ফারহানা রহমান
ফারহানা এআই শিক্ষা সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি ফারহানা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

28কুড়িগ্রাম

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো কুড়িগ্রাম, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব