ঝিনাইদহ জেলা স্বাস্থ্য প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ১৮,৩১১ জন মানুষ কুকুর, বিড়াল, বাদুড়, বেজি ও শিয়ালের কামড় বা আঁচড়ে আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে কুকুরের আক্রমণে আহতের সংখ্যা ৫,৩৮৭ জন এবং অন্যান্য প্রাণীর দ্বারা আহতদের সংখ্যা ১২,৩১১ জন বলে সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে।
আগ্রহীদের চরিত্র ও রোগীর প্রোফাইল
সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান থেকে দেখা যাচ্ছে আক্রান্তদের অর্ধেকেরও বেশি শিশু ও কিশোর। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বাড়ির আশেপাশে খেলাধুলার সময় এবং বাইরের সড়কপথে প্রাণীদের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা বেশি। ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যে টিকাদান কার্যক্রম চালানো হয়েছে, সেখানে টিকা গ্রহণকারীর অর্ধেকেরও বেশি অংশ শিশু ও কিশোর ছিলেন।
তিন মাসের টিকা গ্রহণের চিত্র
| মাস | র্যাবিস ভ্যাকসিন গ্রহীতার সংখ্যা |
|---|---|
| জুলাই | ২,৬৪২ |
| আগস্ট | ৩,২৩৩ |
| সেপ্টেম্বর (২৮ পর্যন্ত) | ২,৩৯৪ |
| মোট | ৮,২৬৯ |
হাসপাতালের তথ্যে বলা হয়েছে, উপরোক্ত তিন মাসে মোট ৮,২৬৯ জন র্যাবিস ভ্যাকসিন নিয়েছেন। তবে জেলার সীমিত ভ্যাকসিন সরবরাহ ও টিকাদানের ধারাবাহিকতার অনিত্বের কারণে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
ভ্যাকসিন সংকট ও রোগীদের প্রতিকapital
ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেছেন, বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বেওয়ারিশ কুকুরের টিকাদান কার্যক্রম থমকে আছে। এছাড়া সরকারি হাসপাতালে প্রায়শই বিনামূল্যে ভ্যাকসিন মেলেনা বলে অসচ্ছল মানুষদের ফার্মেসি থেকে ভ্যাকসিন কিনতে হচ্ছে, যা তাদের জন্য অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা।
ঝিনাইদহ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক মো. মোস্তাফিজুর রহমান ও জেলা সিভিল সার্জন মো. কামরুজ্জামান একইভাবে জানিয়েছেন যে র্যাবিস ভ্যাকসিন কেনার জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ নেই; হাসপাতালের নিয়মিত বাজেট এবং স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় টিকা ক্রয় হচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়।
স্থানীয় প্রভাব ও ঝুঁকি
জেলার গ্রামাঞ্চলে বেওয়ারিশ প্রাণীর সংখ্যা বেশি এবং মানুষের সঙ্গে তাদের ঘন밀তা রয়েছে। ফলে শিশুরা, মাঠের শ্রমিক ও পথচারীরা সহজেই আঘাতপ্রাপ্ত হতে পারে। জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় জানিয়েছে, ঘটিত আঘাতের পরে দ্রুত সময়ে উপযুক্ত চিকিৎসা ও র্যাবিস ভ্যাকসিন গ্রহণের ফলে জেলায় এ পর্যন্ত প্রাণহানির কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে ভ্যাকসিনের অনিয়মিত সরবরাহ ও আর্থিকভাবে দুর্বলদের টিকা না পাওয়ার ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ঝুঁকি তৈরি হবে।
কি করতে হবে—প্রাথমিক সাবধানতা ও তৎপরতা
- যদি কোনো প্রাণী কামড়ে বা আঁচড়ায় আহত হন, দ্রুত ক্ষত স্থান পরিষ্কার করে নীলাভ পোড়া (সাবান ও পানি) দিয়ে ভালোভাবে ধুতে হবে।
- শুষ্ক ক্ষত না করে পাচঁ মিনিট לפחות সাবান-পানিতে কুসুমে ধোয়া জরুরি।
- পরবর্তী সময়ে নিকটস্থ সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে গিয়ে র্যাবিস ভ্যাকসিন গ্রহণ করতে হবে।
- বেওয়ারিশ প্রাণী দেখে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে অবহিত করার চেষ্টা করুন—টিকাদান ক্যাম্প স্থাপন করা গেলে সেটিতে অংশগ্রহণ করুন।
বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলেছেন যে, তারা স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ভ্যাকসিন সরবরাহ বাড়াতে এবং বিশেষভাবে দরিদ্র রোগীদের জন্য সহায়তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানাচ্ছেন। তবে সরকারি বরাদ্দ না বাড়লে বর্তমান অনিয়ম অব্যাহত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপের দিকনির্দেশ
স্বাস্থ্য বিভাগকে দ্রুত:
- র্যাবিস ভ্যাকসিনের স্থায়ী ও পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা,
- গ্রামীণ এলাকায় নিয়মিত পশু টিকাদান ক্যাম্প চালু করা,
- আরও সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশু ও অভিভাবকদেরকে সতর্ক করা—এই উদ্যোগগুলো গ্রহণ করতে হবে।
জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ মাসে যেসব আক্রান্তই চিকিৎসা ও টিকা নিয়েছেন তাদের কারণে জেলায় জলাতঙ্কে মৃত্যুর ঘটনা না থাকায় তা ইতিবাচক। তবে টিকা সরবরাহ ও টিকাদান ব্যবস্থার দুর্বলতা যাতে ভবিষ্যতে ঝুঁকি না বাড়ায়—সেই নজরদারিই এখন জরুরি।