ঝিনাইদহে সৌরবিদ্যুৎ চালিত সেচপাম্পের ব্যবহার ক্রমেই বাড়ছে। তেল ও জ্বালানি ও বিদ্যুৎচলিত পাম্পের ওপর নির্ভরতা কমায় এবং লোডশেডিংজনিত অনিয়ম দূর হওয়ায় অনেক কৃষকই এখন সৌরপাম্প ব্যবহার করে সেচ দিচ্ছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলে, বর্তমানে জেলায় মোট ৮৬টি সৌর সেচপাম্প চালু রয়েছে এবং এগুলোর মাধ্যমে মোট ৬৫৪ হেক্টর জমিতে সেচ সুবিধা দেয়া হচ্ছে।
প্রকল্প ও বাস্তবায়ন
প্রকল্পটি মূলত বিশ্বব্যাংকের অর্থায়ন ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ)-এর কারিগরি সহায়তায় রুরাল রিকনস্ট্রাকশন ফাউন্ডেশন (আরআরএফ)-এর ‘স্মার্ট’ উদ্যোগের আওতায় কয়েক বছর আগে শুরু করা হয়। জেলা প্রশাসন ও কৃষি বিভাগও মাঠ পর্যায়ে প্রযুক্তিটি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান জানিয়েছেন, এসব পাম্পকে আরও বিস্তৃত করলে তিন ও চার ফসলি জমিগুলোতেও সুবিধা মিলবে এবং উৎপাদন খরচেও উল্লেখযোগ্য হ্রাস আসবে।
কোথায় কতটি পাম্প সচল
জেলার সদর, কোটচাঁদপুর ও মহেশপুর উপজেলায় এখন সবচেয়ে বেশি কার্যকর পাম্পসহ মোট ৮৬টি পাম্প সচল আছে। এগুলো উপজেলা অনুযায়ী বিস্তৃতভাবে নিচে দেখানো হলো।
| উপজেলা | সচল সৌরপাম্প |
|---|---|
| সদর | ৩ |
| কোটচাঁদপুর | ১ |
| মহেশপুর | ৩২ |
| জেলা মোট | ৮৬ |
কৃষকের অভিজ্ঞতা ও অর্থনৈতিক প্রভাব
ক্ষেতের সেচ দিতে এখন অনেক কৃষকই নিজের উদ্যোগে বা সমবায় ভিত্তিতে পাম্প স্থাপন করছেন। মধুহাটি এলাকার কৃষক জাহিদুল ইসলাম বলেন,
“ডিজেলচালিত সেচপাম্প অনেক ব্যয়বহুল। বিদ্যুৎচালিত পাম্পেও খরচ অনেক। এ ছাড়া লোডশেডিংয়ের কারণে সবসময় নিরবচ্ছিন্ন সেচ পাওয়া যায় না। সৌরবিদ্যুৎচালিত পাম্পের মাধ্যমে জমিতে সেচ দিয়ে খরচ অর্ধেকে নেমে এসেছে।”
কোটচাঁদপুরের কুশনা এলাকার কৃষক শামীম হোসেনও জানান যে, কেউ কেউ সমবায়ভাবে পাম্প বসাচ্ছেন আবার অনেকে নিজ উদ্যোগে। এই পাম্পের ফলে শুধু নিজের জমিতে সেচ দেয়া হচ্ছে না, অন্যদের জমিতেও সেচ দিয়ে অনেকে অতিরিক্ত আয় করছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, সচল থাকা এই পাম্পগুলো জেলার মোট ৬৫৪ হেক্টর জমিতে সেচ দিচ্ছে, ফলে উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে।
চ্যালেঞ্জ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
যদিও সৌরপাম্প রাজস্ব ও খরচ উভয় দিক থেকে লাভজনক, তবুও সম্প্রসারণে কিছু চ্যালেঞ্জ আছে। বড়ফসলি মাঠে স্থায়ী প্রযুক্তি হিসেবে বাস্তবায়ন ও স্থানীয় প্রযুক্তি-সেবা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বর্তমানে মাঠ পর্যায়ে তথ্য সংগ্রহ ও উপযুক্ত জমি চিহ্নিত করার কাজ চালাচ্ছে। সরকারি পরিকল্পনায় যদি তিন ও চার ফসলি জমিও এই ব্যবস্থার আওতায় আনা যায়, তাহলে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতের উপর জেলায় চাপ কমবে এবং কৃষি উৎপাদন ব্যবস্থাই পরিবর্তিত হবে।
- বর্তমানে জেলার মোট সচল সৌরপাম্প: ৮৬টি
- সেচ সুবিধাপ্রাপ্ত জমির আয়তন: ৬৫৪ হেক্টর
- প্রকল্প বাস্তবায়নে সংগঠন: বিশ্বব্যাংক, পিকেএসএফ, আরআরএফ
সৌরচালিত সেচপাম্প এখন ঝিনাইদহের কৃষকদের কাছে কেবল খরচ-সাশ্রয়ী নয়, বরং স্বাস্থ্যকর এবং পরিবেশগতভাবে টেকসই বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও প্রকল্প বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলো মিলেই এই প্রযুক্তিকে আরও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে কাজ করছেন, যাতে জেলার কৃষি উৎপাদনীয়তা কেবল বৃদ্ধি পায় না, বরং নিম্ন আয়ের কৃষকরাও আধুনিক সেচসুবিধার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বী হতে পারেন।