ঝিনাইদহে বিসিআইসি সার ডিলারশিপ বিরোধিতায় মঙ্গলবার জেলা জামায়াতে ইসলামী এক মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছে। পায়রা চত্বরে অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে জেলার ছয়টি উপজেলার নেতাকর্মীরা অংশ নেন এবং তারা অভিযোগ করেন যে সার-বিতরণে ব্যাপক দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাব কাজ করছে, যার ফল কৃষক-চাষিরা ভোগান্তিতে পড়ছেন।
প্রধান দাবি ও অভিযোগ
সমাবেশে বক্তারা বলেন, বর্তমান বিতর্কিত সার-বীজ মনিটরিং কমিটি ও দলীয় বিবেচনায় প্রদত্ত ডিলারশিপ বাতিল করে মুক্ত ও স্বচ্ছ পদ্ধতিতে নতুন নিয়োগ করা হোক। তারা দাবি করেন, কৃত্রিমভাবে সার ঘাটতি সৃষ্টি করে সাধারণ কৃষককে বেষ্টনীভূত করা হচ্ছে এবং এর পেছনে স্থানীয় প্রশাসনও অংশগ্রহণ করছে বলে তাদের অভিযোগ।
“আপনি যদি সঠিকভাবে নিজের অর্পিত দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তবে স্পষ্ট করে বলুন আপনি পুরুষ নন, আপনি মহিলা। আর তাও যদি না হন, তবে আপনি হিজড়া। আমরা আপনার জন্য দুই জোড়া চুড়ি কিনে পাঠিয়ে দিচ্ছি, আপনি হাতে চুড়ি পরে বসে থাকুন!”
জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুল হাই জেলা প্রশাসক মো. নোমান হোসেন প্রিন্সের ভূমিকা নিয়ে এই কঠোর মন্তব্য করেন। ওই বক্তৃতায় জেলা পরিষদ ও জেলা প্রশাসকের দপ্তরকে বিভিন্ন আচরণে ‘অভ্যন্তরীণ সিন্ডিকেট’ বলে অভিহিত করে ভবিষ্যতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুমকি দেওয়া হয়, যদি তারা সংশোধন না করে।
সভায় কারা ছিলেন
মানববন্ধনে ঝিনাইদহ-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আমির আলী আজম মো. আবু বকর বক্তব্য রাখেন। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের অন্যান্য অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ছিলেন নায়েবে আমির ও সম্ভাব্য পৌর মেয়র প্রার্থী আব্দুল আলিম, ঝিনাইদহ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মতিয়ার রহমান, ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা আবু তালেব, জেলা সেক্রেটারি আব্দুল আউয়াল এবং সদর উপজেলার আমির ড. হাবিবুর রহমান।
| পদবি/উপস্থিতি | নাম |
|---|---|
| জেলা আমির ও ঝিনাইদহ-২ সংসদ সদস্য | আলী আজম মো. অভু বকর |
| সহকারী সেক্রেটারি (বক্তা) | আব্দুল হাই |
| নায়েবে আমির / সম্ভাব্য পৌর মেয়র প্রার্থী | আব্দুল আলিম |
| ঝিনাইদহ-৩ সংসদ সদস্য | মো. মতিয়ার রহমান |
| ঝিনাইদহ-৪ সংসদ সদস্য | মাওলানা আবু তালেব |
লোকাল প্রভাব ও পরবর্তী করণীয়
জেলার কৃষিজীবীর জন্য সার এবং বীজ সরবরাহের স্বচ্ছতা সরাসরি তাদের জীবনযাত্রার সঙ্গে জড়িত। স্থানীয়-level ডিলারশিপ নিয়োগে অনিয়ম থাকলে দ্রব্যমূল্য, ছাড় এবং পণ্যের গুণমানে প্রভাব পড়ে। জামায়াত বলেছে, যদি দাবি মেনে নেওয়া না হয় তারা কঠোর আন্দোলন দেখাবে।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি দলের কড়া সমালোচনা ও ব্যক্তিগত আক্রমণ—এটি স্থানীয় প্রশাসনিক লয়াবদ্ধতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়ে দিতে পারে। এখন দেখার বিষয় স্থানীয় প্রশাসন কীভাবে এই অভিযোগের জবাব দেয় এবং প্রতিকারের জন্য কি কোনো তদন্ত বা যাচাই-বাছাই শুরু করে।
পাঠকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
- কৃষক হলে নিজের ডিলার পরিচয় ও সরবরাহ চেইন সম্পর্কে নথি রাখুন।
- কোথা থেকে, কিভাবে ও কোন দামে সার সরবরাহ হচ্ছে, সে সংক্রান্ত অভিযোগ থাকলে তা জেলা কৃষি বিভাগের কাছে জানান।
- স্থানীয় সংসদ সদস্য বা উপজেলা কর্মকর্তার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সমস্যার নথিভুক্তি করুন।
জমায়েতের এই কর্মসূচি ঝিনাইদহের স্থানীয় রাজনৈতিক মানচিত্রে নতুন করে বিতর্কের সূত্রপাত করেছে। জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। যদি প্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট সংস্থা তদন্ত শুরু করে, আমরা তার আপডেট সংগ্রহ করে পাঠকদের জানাব।