পরিবেশ ঝিনাইদহ ঝিনাইদহ (58)

ঝিনাইদҳ — কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কে বহু বছরের গাছ কাটা: স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়লো

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ধারে ২০-২৫ বছর বয়সী নানা প্রজাতির গাছ কাটা হচ্ছে; বনবিভাগের পুরোনো দরপত্র, সরকারি নির্দেশনা ও স্থানীয় উদ্বেগ নিয়ে বিতর্ক তৈরির সূত্রপাত হয়েছে।

ঝিনাইদҳ — কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর সড়কে বহু বছরের গাছ কাটা: স্থানীয়দের উদ্বেগ বাড়লো
©অলংকরণ ঝর্ণা বিশ্বাস / we-news.com

বিশেষ প্রতিবেদন: কেন কাটা হচ্ছে বড় বড় গাছ?

ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ-কোটচাঁদপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশের বহু বছরের বড় গাছগুলো কেটে ফেলা হচ্ছে। সরেজমিন দেখা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই গাছগুলোর মধ্যে অনেকের বয়স ২০ থেকে ২৫ বছর। কাশিপুর থেকে শুরু করে এলাঙ্গী অভিমুখে সড়কের দু'ধারে অংশবিশেষে গাছ কাটা এবং শাখা-প্রশাখা ছেঁটে ফেলা হয়েছে; কিছু কাটা গাছ রাস্তার ধারে ফেলে রাখা আছে, আবার কোথাও কাটা কাজ এখনো চলছে।

কেন ও কীভাবে — প্রশাসনিক কাগজপত্রের বিবরণ

স্থানীয় বিশ্লেষণে জানা গেছে, বন বিভাগ কয়েক বছর আগে ওই গাছগুলো কাটার জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল এবং পরে কার্যাদেশ দিয়েছিল। সুত্র বলছে, ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল সামাজিক বন বিভাগের যশোর বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দরপত্র তোলা হয় এবং ২০ জুন ২০২৪ কার্যাদেশ জারি করা হয়। কার্যাদেশটি মেসার্স আর কে এন্টারপ্রাইজ-এর নামে দেওয়া হয়; কোম্পানির মালিক হিসেবে উল্লেখ রয়েছে কুষ্টিয়ার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে বকুল হোসেন।

“সবুজ তরতাজা গাছ না কাটার নির্দেশ”

তবে বিষয়টিতে জটিলতা দেখা দিয়েছে, কারণ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয় এক নির্দেশনায় সারা দেশে সবুজ তরতাজা গাছ না কাটার নির্দেশ দিয়েছে। স্থানীয় কেউ বলছেন, তৎকালীন নির্দেশের পর কোটচাঁদপুর ও শৈলকুপার গাছ কাটার কাজে বিরতি পড়ে। তারপরও এখন পুরোনো দরপত্রের ভিত্তিতে কাটা হচ্ছে — এ ব্যাপারে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

পরিসংখ্যান-মূল্য ও লটবিন্যাস

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা গেছে, কোটচাঁদপুরে ৪৫টি লট এবং শৈলকুপায় ৬টি লট করে গাছ বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সরকারি কার্যাদেশে কাটা গাছের পরিমাণ আলাদা করে উল্লেখ করা হয়নি; তবে দরপত্রে মোট বিক্রয়মূল্য দেখানো হয়েছে ৩,৫২,০২৫ টাকা (তথ্যসূত্রে প্রকাশ্য রূপে)।

অঞ্চল লট সংখ্যা
কোটচাঁদপুর ৪৫
শৈলকুপা ৬

স্থানীয়দের উদ্বেগ ও পরিবেশগত প্রভাব

এলাকাবাসী বলছেন, রাস্তার পাশে যে গাছগুলো কাটা হচ্ছে তা ছিল ছায়া ও পরিষ্কার অক্সিজেনের উৎস। অনেক গাছই রেইনট্রি, মেহগনি, আকাশমণিসহ মূল্যবান প্রজাতির। স্থানীয় বাসিন্দা রেজাউল ইসলাম বলেন, দরপত্র ও কার্যাদেশ নিয়ে সময় ও পদ্ধতি অনুধাব্য নয় — পুরোনো দরপত্র এত দিন কীভাবে বহাল ছিল এবং এখন তা থেকে গাছ কাটার অনুমতি কীভাবে দেওয়া হল, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।

  • গাড়ি চলাচলের সময় ছায়া কমলে যাত্রী ও পথচারীদের তাপদাহ বাড়তে পারে।
  • তরতাজা গাছ কাটা হলে স্থানীয় যোগাযোগ মাধ্যম, জনস্বাস্থ্য ও বায়ুমানের উপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়তে পারে।
  • গাছের কিছু অংশ নামমাত্র মূল্যে বিক্রি হয়েছে বলে স্থানীয়দের সন্দেহ এবং স্বচ্ছতা চাহিদা তৈরি হয়েছে।

আলোচ্য দায়িত্ব ও প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা

বন বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, দরপত্র আহ্বান করা হয়েছিল, কিন্তু পরে কেন্দ্রীয় নির্দেশিকায় পরিবর্তন ঘটায় গাছ কাটার কাজে বাধা সৃষ্টি হয়েছিল। বর্তমান কাটা কাজ কীভাবে আবার চালু হলো—এটি নিয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা প্রদান করা জরুরি। স্থানীয় প্রশাসন ও বন বিভাগকে এই বিষয়ে জনগণের কাছে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করতে বলা হচ্ছে।

সরকারি নির্দেশ, কার্যাদেশ ও সরেজমিনের বাস্তবতার প্রায়োগিক মিল-অমিল নিরূপণ না হওয়া পর্যন্ত স্থানীয় পরিবেশ ও জনস্বার্থে বিরূপ প্রভাব কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা প্রকৃতপক্ষে ঝিনাইদহবাসীর জন্য প্রধান প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।

ঝর্ণা বিশ্বাস
ঝর্ণা এআই পরিবেশ সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি ঝর্ণা, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

58ঝিনাইদহ

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো ঝিনাইদহ, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব