জামালপুর— তীব্র গরমের সময়ে জেলার ৭টি উপজেলার প্রায় দুই লাখ নয়, প্রায় ২০ লাখ মানুষকে প্রভাবিত করে ব্যাপক বিদ্যুৎসংকট দেখা দিয়েছে। স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি জানিয়েছে, এলাকায় বিদ্যুতের গড় চাহিদা প্রায় ১৭০ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে দৈনিক সরবরাহ নেই বলে গ্রাহকদের প্রচুর সময় লোডশেডিংয়ে থাকতে হচ্ছে।
সরবরাহ ও চাহিদার ফারাক
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পক্ষ থেকে ব্যাখ্যা করা হয়েছে যে গ্রিড থেকে প্রতিদিন তারা গড়ে কেবল ৫৫ থেকে ৬০ শতাংশ সরবরাহ পাচ্ছে। এর ফলে দৈনিক প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ মেগাওয়াট লোডশেডিংয়ের প্রয়োজন পড়ছে এবং ফলশ্রুতিতে গ্রামের কিছু অঞ্চলে গ্রাহকরা গড়ে ১৪ থেকে ১৫ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুত ছাড়াই থাকতে হচ্ছে।
| বিষয় | মান |
|---|---|
| গড় চাহিদা | ১০৭০ মেগাওয়াট (সূত্র: পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি দাবি) |
| প্রাপ্ত সরবরাহ | ৫৫–৬০ শতাংশ |
| দৈনিক লোডশেডিং প্রয়োজন | ৯০–৯৫ মেগাওয়াট |
এ তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় পর্যায়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পানীয়জল সরবরাহে সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার সতর্কবাণী উচ্চারণ করা হয়েছে। প্রত্যক্ষভাবে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে এবং কিছু স্থানে বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে বলে সমিতি সূত্রে বলা হয়েছে।
নিরাপত্তা দাবিসহ প্রশাসনে চিঠি
জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক মো. সাহিদুল ইসলাম গত ১২ আগস্ট জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছেন। চিঠিতে সেচ্ছাশীল নন বলে জোর দিয়ে বলা হয়েছে যে বর্তমান কার্যক্রম জাতীয় গ্রিড থেকে কম সরবরাহ পাওয়ার কারণে—তাই অফিস ও উপকেন্দ্রগুলোর সশক্ত নিরাপত্তা ছাড়া পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়তে পারে। সমিতির ১৯টি উপকেন্দ্র ও ১৯টি সুইচিং স্টেশন থেকে জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়; এসব স্থাপনাই সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
“বিদ্যুৎ অফিস ও উপকেন্দ্রগুলো অতি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা। এখানে সমস্যা হলে হাজার হাজার গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়বেন... পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তা ও সহযোগিতা চেয়ে আমরা প্রশাসনকে চিঠি দিয়েছি।”
সাহিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করে শুক্রবার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমান লোডশেডিং আমাদের ইচ্ছায় নয়, জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ কম পাওয়ার কারণেই হচ্ছে।’
গ্রামাঞ্চলের প্রভাব ও জনজীবন
পল্লী বিদ্যুৎ আওতাধীন গ্রামীণ এলাকায় দীর্ঘ লোডশেডিংয়ের ফলে নানাবিধ সমস্যা দেখা দিয়েছে—তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুত ছাড়া পাম্প না চলার ফলে পানির সমস্যা, পরিবারের সরাসরি আয়ের ওপর প্রভাব, শিক্ষার্থীদের সন্ধ্যার পড়াশোনায় বিঘ্ন এবং চিকিৎসা-পরিসেবায় সমস্যা। স্থানীয়রা বলছেন, বিশেষ করে দিনের সবচেয়ে তীব্র লোডশেডিং হলে ঘরে ঠান্ডা পানি, ফ্রিজ বা চুলা না চলা—এসবই বাড়তি দুর্ভোগ।
- দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুতের উপর নির্ভরশীলতা বেশি হওয়া
- শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা বাধাগ্রস্ত হওয়া
- স্বাস্থ্যসেবা ও পানি সরবরাহে বিঘ্ন
তবে সমিতি মনে করিয়ে দিয়েছে যে তারা অতিরিক্ত লোডশেডিং করছে না—এটি সরবরাহ ঘাটতির ফল।
কথা বলেছে কি প্রশাসন?
চিঠিটি গ্রহণের পর জেলা প্রশাসন ও পুলিশ কত দ্রুত ও কীভাবে প্রতিক্রিয়া দেবে—এ প্রশ্ন এখন সংশ্লিষ্টদের কাছে গুরুত্ব পাচ্ছে। পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি নিরাপত্তা জোরদার এবং পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে প্রশাসনিক সহায়তা চেয়েছে; একই সঙ্গে গ্রাহকদের মধ্যে শান্তি বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সর্তক থাকতে বলা হয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে গ্রামীণ জনজীবনে প্রভাব দীর্ঘস্থায়ী হওয়া সম্ভব, যা স্থানীয় অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করবে—এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করেছে সমিতি।
এপর্যন্ত জেলা প্রশাসন বা পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে বিষয়টি সম্পর্কে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। পরিস্থিতি কেমন হবে—এবং গ্রাহকরা কবে স্বাভাবিক সেবা প্রত্যাশা করতে পারবেন—সেই প্রশ্নের উত্তর পেতে প্রশাসনের কাছ থেকে রেসপন্স প্রয়োজন।