খাগড়াছড়িতে জাতীয় মৎস্য সপ্তাহ ২০২৬ উপলক্ষে ক্রেতা সুরক্ষা আন্দোলন—কনজিউমার রাইটস বাংলাদেশ (সিআরবি) জেলা শাখা একটি স্মারকলিপি জেলা প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করেছে। রবিবার বিকেলে জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাত-এর কাছে দলটি স্মারকলিপি জমা দেন।
প্রেক্ষাপট ও সংগঠনের উদ্বেগ
স্মারকলিপিতে সিআরবি স্থানীয় শাখা উল্লেখ করেছে যে দেশের মৎস্যখাতে মূল্যস্ফীতি ও অনিয়ম বাড়ায় উভয় প্রান্তে—মৎস্যচাষি এবং ভোক্তা—আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। দলটি বলেছে, স্বাধীনতার পরও দেশে সরকারি কোনো কার্যকর ও সুনির্দিষ্ট আইনি মূল্যনির্ধারণ কাঠামো গড়ে ওঠেনি, ফলে মধ্যস্থতাকারী সিন্ডিকেটের প্রভাবে উৎপাদক ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এবং ভোক্তারা অতিরিক্ত দাম দিয়ে মাছ কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।
"স্বাধীনতার ৫৫ বছর অতিক্রান্ত হলেও দেশে সরকারিভাবে মাছের দাম নির্ধারণ বা নিয়ন্ত্রণের কোনো সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর আইনি কাঠামো গড়ে ওঠেনি।"
স্মারকলিপিতে উল্লেখযোগ্য হিসেবে বলা হয়েছে গত পাঁচ বছরে শুধু ইলিশের মূল্য বৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ৫৭ শতাংশ, যা নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের আয়ের তুলনায় খাদ্যতালিকা থেকে প্রয়োজনীয় প্রোটিন সরবরাহ এগুলোকে ব্যাহত করেছে।
সিআরবি’র পাঁচ দফা দাবি
মতামতে বাজারে স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনতে ও উৎপাদক-ভোক্তা উভয়ের利益 সংরক্ষণের লক্ষ্যে সিআরবি জেলা শাখা পাঁচ দফা দাবি পেশ করেছে। এই দাবিগুলো তুলে ধরা হলো:
- জেলা ও প্রজাতিভিত্তিক 'ফার্ম গেট' / 'ল্যান্ডিং প্রাইজ' নির্ধারণ: παραγωনস্থল থেকে শিল্প বা বাজারে পাঠানোর সময় ধারণযোগ্য ন্যূনতম মূল্য নির্ধারণ করা হোক ও তা সাধারণের জন্য প্রকাশ্য করা হোক।
- ইলিশসহ নদী ও সামুদ্রিক মাছের আহরণ ও বাজারজাতকরণে স্বচ্ছ নীতি প্রণয়ন: আহরণ থেকে বিক্রয় পর্যন্ত জবাবদিহি ও নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করতে নীতি প্রণয়ন।
- সরকারি মাধ্যমে মূল্য তালিকা প্রদর্শন: সরকারি ওয়েবসাইট, জাতীয় গণমাধ্যম ও প্রতিটি খুচরা বাজারে নির্ধারিত মূল্য তালিকা দৃশ্যমান ও আপডেটেড রাখা।
- মধ্যস্বত্বভোগী সিন্ডিকেট দমন: বাজারে অসাধু দালাল ও সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া।
- দলিলভিত্তিক তদন্ত ও গবেষণা: মৎস্যখাতের মূল্যবৃদ্ধি, চেইন বিশ্লেষণ ও নীতিগত সুপারিশ তৈরির জন্য নির্দিষ্ট গবেষণা ও মানচিত্রায়ন করা।
| দাবি | উদ্দেশ্য |
|---|---|
| ফার্ম গেট/ল্যান্ডিং প্রাইজ নির্ধারণ | উৎপাদকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিতকরণ |
| স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নীতি | আহরণ থেকে বিক্রয় পর্যন্ত দুর্নীতি রোধ |
| মূল্য তালিকা প্রদর্শন | ভোক্তা তথ্যাধিকার নিশ্চিতকরণ |
| সিন্ডিকেট দমন | বাজার স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা |
| গবেষণা ও মানচিত্রায়ন | নীতিগত দীর্ঘমেয়াদি সমাধান প্রস্তাব |
স্থানীয় নেতৃত্ব ও উপস্থিতি
স্মারকলিপি প্রদান অনুষ্ঠানে সিআরবি জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি বিনোদন ত্রিপুরা এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আবদুর রউফ সহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি হস্তান্তরের মাধ্যমে তারা দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের অনুরোধ জানান।
স্থানীয় পর্যায়ে সিআরবির এই উদ্যোগকে সংশ্লিষ্টরা গ্রাহক অধিকার ও খাদ্য নিরাপত্তার দিক থেকে সময়োপযোগী বলে মন্তব্য করেছেন। তারা মনে করেন, মূল্যনিয়ন্ত্রণ না থাকায় খুচরা-সুপারমার্কেট থেকে গ্রামীন বাজার পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে ভোক্তা ও উৎপাদকই ভোগান্তিতে পড়েন।
চলমান সমস্যার দিকটি কীভাবে সমাধান করা যায়?
সিআরবির প্রস্তাবিত পদক্ষেপগুলো বাস্তবায়িত হলে—বিশেষত জেলা ভিত্তিক 'ফার্ম গেট' মূল্য নির্ধারণ, সরকারি পর্যায়ে মূল্য তালিকা প্রদর্শন ও বাজারে সিন্ডিকেট দমন—তবে স্বল্পমেয়াদি স্তরে মূল্যস্ফীতির নিয়ন্ত্রণে সহায়তা পাওয়া যেতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে প্রয়োজন হবে পর্যাপ্ত গবেষণা ও তথ্যভিত্তিক নীতিমালা, যাতে মৎস্যশিল্পের বিভিন্ন চেইন মনে বাইরে থেকে মূল্য নির্ধারণে জবাবদিহি নিশ্চিত করা যায়।
জেলা প্রশাসন স্মারকলিপি গ্রহণ করেছে; এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন্দ্রীয় ও প্রশাসনিক স্তরে সিআরবি’র প্রস্তাবগুলোকে গ্রহণ করে বাস্তব ধর্মে রূপ দেয়া হবে কি না। স্থানীয় ভোক্তা সংগঠনগুলো বলেছেন, যদি দ্রুত এবং স্বচ্ছ পদক্ষেপ না নেওয়া হয় তাহলে ঊর্ধ্বমুখী মূল্যরোধে ভোক্তা অসহায় থাকবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবে নিন্মআয়ের পরিবারগুলো।
খাগড়াছড়ি জেলা থেকে পাঠানো এই স্মারকলিপি জাতীয় পর্যায়ে প্রতিফলিত হলে মৎস্যখাতে নীতিগত সংস্কার ও বাজারে স্বচ্ছতা আনার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে স্থানীয় পর্যায়ে অনেকে আশাবাদী।