গাইবান্ধায় ব্যাটারি চালিত রিকশা, ইজিবাইক ও ভ্যান চালকদের সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশে ব্যপক সংখ্যক চালক অংশগ্রহণ করেছেন। প্রতিবাদকারীরা পৌরসভার মাধ্যমে চলমান লাইসেন্স প্রদানের নামে অনতিব জরুরিভিত্তিক প্লেট ও টোকেন বাণিজ্য ও হয়রানি বন্ধ করে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) এর অধীনে লাইসেন্স, নিবন্ধন ও রুট পারমিট প্রদানের দাবি জানান।
কর্মসূচি ও অংশগ্রহণ
স্থানীয় শাখা ‘ব্যাটারি রিকশা, ভ্যান, ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ, গাইবান্ধা জেলা’ আয়োজিত এই কর্মসূচিতে রাস্তায় জরায়ু হিসাবে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিল হয়। মিছিল শেষে সমাবেশে বক্তারা তাদের নানামুখী দাবি উপস্থাপন করেন এবং দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান।
চালকদের প্রধান অনুরোধ
সমাবেশে প্রতিনিধিরা উল্লেখ করেন যে তাদের গণপ্রতিনিধিত্ব ও নিরাপত্তার স্বার্থে কয়েকটি জরুরি দাবি মানা প্রয়োজন। বক্তারা উল্লেখ্য দাবি সমূহ সংক্ষেপে তুলে ধরেন:
- পৌরপরিষদের প্লেট-বাণিজ্য ও টোকেনরাজনীতি বন্ধ ও নয় ও হয়রানি থেকে মুক্তি।
- লাইসেন্স, নিবন্ধন ও রুট পারমিট বিআরটিএর অধীনে হস্তান্তর করা হোক—পৌরসভার পরিবর্তে কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ এ কাজ হোক।
- অসহনীয় লোডশেডিং বন্ধ করে চার্জিং সহজতর করার জন্য স্থিতিশীল বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা।
- শ্রমিক ও চালকদের ওপর প্রশাসনিক হয়রানি ও বাধা বন্ধ করা উচিত।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মোট ৯ দফা দাবি উপস্থাপন করা হয়েছে; সমাবেশে উপস্থিত নেতারা দ্রুত এসব দাবির বাস্তবায়ন না হলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন।
“দুনিয়ার মজদুর এক হও” ও “শ্রমিক ঐক্য জিন্দাবাদ” শ্লোগানে মিছিল ও সমাবেশ ভর করে ওঠে, যা তাদের ঐক্য ও চাপ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়।
স্থানীয় প্রভাব ও সম্ভাব্য পরিণতি
গাইবান্ধা শহরে ব্যাটারি চালিত যানবাহনগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ ভ্যান, রিকশা ও ইজিবাইক চালকদের এই আন্দোলন সরাসরি শহরের অভ্যন্তরীণ যাতায়াত ও মালবাহী পরিবহনে প্রভাব ফেলবে। এসব চালক দীর্ঘদিন ধরে পৌরসভার লাইসেন্স অনুশাসন, চার্জিং সুবিধা ও প্রশাসনিক আচরণ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে আসছেন।
| দাবির ধরন | সংক্ষেপিত ব্যাখ্যা |
|---|---|
| প্লেট-বাণিজ্য বন্ধ | পৌর কর্তৃক প্লেট ও টোকেন যেসব অনৈতিক পদ্ধতিতে বাজারজাত করা হচ্ছে তা রোধ করা। |
| বিআরটিএর অধীনে লাইসেন্স | কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ কর্তায় লাইসেন্স, নিবন্ধন ও রুট পারমিট প্রদান নিশ্চিত করা। |
| বিদ্যুৎ সরবরাহ | রিকশা ও ইজিবাইক চার্জিংয়ের জন্য নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের ব্যবস্থা। |
| প্রশাসনিক হয়রানি বন্ধ | চালক ও শ্রমিকদের ওপর যেকোনো ধরনের অবৈধ বা অনুচিত প্রশাসনিক চাপ বন্ধ করা। |
বিক্ষোভ থেকে organisersরা স্থানীয় প্রশাসন ও পৌর কর্তৃপক্ষকে হুঁশিয়ারি দেন যে, যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আন্দোলনকে ধীরে ধীরে তীব্রতর করা হবে। সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেক চালক বলছেন যে এই পরিস্থিতি চললে তাদের পরিবার জীবিকা ও দিন চলা গুজবে পড়বে—বিশেষত বিদ্যুৎ কট ও লাইসেন্স সমস্যা সমাধান না হলে।
এ বিষয়ে পৌরসভা বা বিআরটিএর পক্ষ থেকে এখনও আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। আগামীদিনে স্থানীয় প্রশাসন ও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া এই আন্দোলনের পরবর্তী ধারা নির্ধারণ করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করেন।
গাইবান্ধার বিভিন্ন অংশ থেকে অংশ নেওয়া চালকরা জানান, তাদেরকে আইনি ও দৃঢ় মানবিক সুরক্ষা ছাড়া কাজ করা ক্রমান্বয়ে কঠিন হয়ে উঠছে—তাই তারা দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান চায়।