দিনাজপুরে যৌথ নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে ৩২ কেজি ১৫০ গ্রাম ওজনের একটি কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনায় এক জনকে আটক করে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণে দিনাজপুর সদর থানা-তে হস্তান্তর করা হয়েছে।
অভিযান ও উদ্ধার
জেলা পরিচিত সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) রাত ২টা ৩০ মিনিট-এর দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দিনাজপুর শহরের চাতরাপাড়া এলাকায় একাধিক যৌথ বাহিনী রেইড চালায়। তল্লাশিকালে মাটির নীচে বা বিশেষ কোনো গোপনস্থল থেকে নয়—বরং একটি বাড়ির ঘরের ভেতরেই মিলেছিল কষ্টিপাথরের মূর্তিটি। অভিযানে আটক ব্যক্তির নাম পারভেজ মন্ডল; তিনি চাতরাপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং মৃত লবানা মন্ডলের ছেলে হিসেবে পরিচিত।
প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্যায়ন ও সিজারের দাম
উদ্ধারকৃত মূর্তিটির প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য যাচাইয়ের জন্য ঘটনাস্থলে বা পরে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা পরীক্ষাসহ প্রয়োজনীয় চিহ্নিতকরণ পরিচালনা করেন। প্রাথমিকভাবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর মূর্তিটিকে প্রত্নতাত্ত্বিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নিশ্চিত করেছে। উদ্ধারকৃত মূর্তিটির সিজার মূল্য ধরা হয়েছে ৩২ লাখ ১৫ হাজার টাকা।
"দেশের প্রত্নতাত্ত্বিক ঐতিহ্য রক্ষা এবং প্রত্নসম্পদ পাচার প্রতিরোধে বিজিবির গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকবে,"
এই মন্তব্যটি দিনাজপুর ব্যাটালিয়ন (৪২ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মঈন হাসানের দেওয়া বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে যে, মাদক, মানবপাচার, অস্ত্রসহ অন্যান্য আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমনেও বিজিবি কার্যক্রম জোরদার রাখবে।
আইনি প্রক্রিয়া ও পরবর্তী ব্যবস্থা
উদ্ধারকৃত মূর্তিসহ আটক ব্যক্তিকে স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং আইনগত ব্যবস্থাক্রম শুরু হয়েছে। যথাযথ ফরেনসিক ও প্রশাসনিক যাচাই শেষে মূর্তিটি সরকারি অভিলেখ বা প্রত্নসম্পদ সংরক্ষণ সংক্রান্ত বিধির আলোকে সংরক্ষণ/প্রদর্শন কিংবা মামলার সিদ্ধান্ত অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার সারসংক্ষেপ
- উদ্ধারকৃত বস্তু: কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি
- ওজন: ৩২ কেজি ১৫০ গ্রাম
- সিজার মূল্য: ৩২,১৫০,০০০ টাকা
- অভিযানের সময়: রাত ২:৩০ মিনিট (১১ আগস্ট)
- অভিযানে আটক: পারভেজ মন্ডল — হস্তান্তর করা হয়েছে দিনাজপুর সদর থানায়
| আইটেম | বিবরণ |
|---|---|
| উদ্ধারের তারিখ ও সময় | ১১ আগস্ট, রাত ২:৩০ |
| উদ্ধারস্থল | চাতরাপাড়া, দিনাজপুর শহর |
| উপাদান ও ওজন | কষ্টিপাথর — ৩২ কেজি ১৫০ গ্রাম |
| প্রাথমিক সিজার মূল্য | ৩২,১৫০,০০০ টাকা |
প্রাসঙ্গিকতা ও স্থানীয় প্রভাব
এ ধরনের প্রত্নসম্পদ উদ্ধার স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে কয়েক দিক থেকে গুরুত্ব বহন করে। প্রথমত, প্রাচীন ও প্রত্নতাত্ত্বিক বস্তু বেরিয়ে এলে তা গবেষণা ও নথিভূক্তির মাধ্যমে ইতিহাস উন্মোচনে সহায়তা করে। দ্বিতীয়ত, অবৈধ পথে প্রত্নসম্পদ পাচার রোধ করা গেলে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষা পায়। স্থানীয়ভাবে, এই ধরনের ঘটনার পরে এলাকায় বাড়তি সতর্কতা ও তল্লাশি কার্যক্রম বৃদ্ধি পায় এবং সেই সাথে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সক্ষমতার প্রতিফলন ঘটে।
পাঠকের জন্য ক্ষুদ্র নির্দেশনা
- মালিকানা প্রমাণসহ এমন কোনো প্রত্নবস্তু হাতে পেলে স্থানীয় প্রশাসন বা প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে জানাতে হবে।
- যদি কেউ অনলাইনে বা বাজারে সন্দেহজনক প্রাচীন বস্তু বিক্রির প্রচেষ্টা দেখে, তা নিবন্ধভুক্ত আধিকারিককে অবহিত করা উচিত।
স্থানীয় প্রশাসন ও নিরাপত্তা বাহিনী বলেছেন যে, প্রত্নসম্পদ উদ্ধার ও পাচার রোধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। মামলার পরবর্তী পর্যায়ে আর কি ব্যবস্থা নেওয়া হবে তা পুলিশ-প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের তদন্ত শেষে জানা যাবে।