কুমিল্লার দেবীদ্বার পৌর এলাকার ছোট আলমপুর মহল্লায় এক গৃহবধূর মরদেহ খণ্ডিত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতের নাম ফরিদা ইয়াসমিন (৫০)। হত্যার পর লাশ টুকরো করে পলিথিনে মোড়ানো নয়টি প্যাকেটে ভাগ করে বাড়ির পেছনে ফেলে রাখা হয়—পুলিশ সূত্রে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘটনা ও উদ্ধারকালীন পরিস্থিতি
পুলিশ জানায়, শনিবার সন্ধ্যায় বাড়ি পেছন থেকে নয়টি প্যাকেটে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহের অংশ উদ্ধার করে তারা। এরপর গ্রেপ্তার হওয়া এক ভাড়াটিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রবিবার বিকেলে বাড়ির দক্ষিণ পাশে থাকা একটি ডোবা থেকে ফরিদার খণ্ডিত মাথা ও পায়ের অংশ উদ্ধার করা হয়।
দেবীদ্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনিরুজ্জামান ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত করে বলেন—
“পলিথিনে মোড়ানো ফরিদা ইয়াসমিনের খণ্ডিত লাশের নয়টি প্যাকেট উদ্ধার করা হয়েছে। পরে আসামির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী বাড়ির পাশের ডোবা থেকে তাঁর মাথা ও পায়ের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে।”
গ্রেপ্তার ও মামলার প্রক্রিয়া
পুলিশ দাবি করেছে, অভিযুক্ত লাইলী আক্তার নামের এক ভাড়াটিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথাই স্বীকার করেছেন এবং ঘটনার সঙ্গে আরও চারজনের সম্পৃক্ততার কথা জানিয়েছেন—তাদের নাম অপরাধজমায়েত হিসেবে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনাস্থল ও উদ্ধার করা প্যাকেট—সবই প্রমাণগত তদন্ত ও ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য জব্দ করা হয়েছে। ওসি জানান, ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে তাদেরও গ্রেপ্তার করা হবে এবং ঘটনাস্থল থেকে পাওয়া যাবতীয় আলামত তদন্তকারী দলের হাতে রয়েছে।
পরিবারের প্রেক্ষাপট ও সম্ভাব্য মোটিভ
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডে স্বর্ণালংকারসহ মূল্যবান সামগ্রী লুটের উদ্দেশ্য থাকতে পারে। নিহত ফরিদার স্বামী মফিজুল ইসলাম জাহাজে চাকরি করেন; পরিবারের দুই কন্যার বিয়ে হয়ে যাওয়ায় ফরিদা বাড়িতে একা থাকতেন বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
আসামির পুরোনো মামলা ও স্থানীয় উদ্বেগ
রেকর্ডে পাওয়া তথ্য মতে, লাইলী আক্তারের বিরুদ্ধে পূর্বেও একটি গুরুতর মামলা ছিল। ২০২১ সালের ৭ নভেম্বর দেবীদ্বারে সাত বছর বয়সী ফাহিমা নামের এক শিশুকে হত্যার ঘটনায় তাঁর বিরুদ্ধে মামলাটি রেকর্ড করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় লাইলীসহ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং দীর্ঘসময় তিনি কারাগারে বন্দি ছিলেন। সম্প্রতি জামিনে মুক্তু হয়ে তিনি আবার এলাকায় বসবাস শুরু করেছিলেন—পুলিশ এসব তথ্যও প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করেছেন।
কোথা থেকে কী উদ্ধার করা হয়েছে: সংক্ষিপ্ত সারণী
| তারিখ/দিন | ঘটনা |
|---|---|
| শনিবার (সন্ধ্যায়) | বাড়ির পেছন থেকে নয়টি প্যাকেটে মোড়ানো লাশের অংশ উদ্ধার |
| রবিবার বিকেল | ভাড়াটিয়ার তথ্য অনুযায়ী বাড়ির পাশের ডোবা থেকে মাথা ও পায়ের অংশ উদ্ধারের খবর |
| ২০২১-১১-০৭ | লাইলী আক্তারের বিরুদ্ধে শিশুহত্যার মামলা (রেকর্ড অনুসারে) |
পুলিশি পদক্ষেপ ও সম্প্রদায়িক প্রতিক্রিয়া
ওসি মো. মনিরুজ্জামান জানান, নিহতের স্বামী বাদী হয়ে দেবীদ্বার থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন এবং হামলাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তদন্তের স্বার্থে পুলিশ এলাকায় তৎপরতা বাড়িয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজসহ অন্যান্য প্রমাণাদি সংগ্রহ করা হচ্ছে।
- গ্রেপ্তার: লাইলী আক্তার (ভাড়াটিয়া)
- মামলায় নাম উল্লেখ: মোট চারজনের নাম
- প্রাথমিক সন্দেহ: লুটের উদ্দেশ্য
স্থানীয়রা এই নির্মম মৃত্যুকে নিন্দা জানিয়েছেন এবং দ্রুত ও নিষ্ঠাবান তদন্ত দাবি করছেন। প্রতিবেশীরা বলছেন, ছোট আলমপুর এলাকার সাধারণ মানুষ নিরাপদ নয়—পুলিশের কার্যকর পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা।
আগামী করণীয়
পুলিশ ঘটনার সঙ্গে যুক্ত সন্দেহভাজনদের সনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে তথ্য-উপাত্ত যাচাই করছে এবং মৃতদেহের খণ্ডিত অংশের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসার পর হত্যার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা হবে। তদন্তে প্রয়োজনীয় ফরেনসিক পরীক্ষার কথাও জানানো হয়েছে।
এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্রুত ও স্বচ্ছ অনুসন্ধান আদেশ করা হয়েছে—তবে সঠিক তথ্য বলেই জনমনে ভরসা ফিরে পাবে। তদন্ত তথ্য সামনে এলে তার বিবরণ পেশ করা হবে।