নোয়াখালীর প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র চৌমুহনীর হকার্স মার্কেটে গত ৭ আগস্ট রাতে গুলির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সম্প্রতি একজন ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিক প্রেসকনফারেন্স করে দাবি করেছেন, ঘটনার মূল অভিযুক্ত হিসেবে তাদের পরিবারের সদস্যদের নাম ফলাও করে দোষ চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
ঘটনা ও আহত
সংবাদ সম্মেলনে পড়া লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী মো. আবুল হোসেন জানান, ওই রাতেই হকার্স মার্কেটে অজ্ঞাত পরিচয় একদল ব্যক্তি গুলি ছোড়ে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও মার্কেটের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় হেলমেট পরিহিত দুই ব্যক্তি মার্কেটের একটি হোটেলের সামনে থাকা দুই ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে বন্দুক নিক্ষেপ করেন। ঘটনায় মার্কেট সমিতির সহ-সভাপতি ইয়াছিন সেন্টু গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন এবং পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
আহত পরিবার ও অভিযুক্তের বিরোধ
আহত পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, ঘটনার একপর্যায়ে তাদের বাড়ির বড় ভাই এবং বিএনপি নেতা হাজী আবুল কাশেম সাংবাদিকদের সামনে তাদের নাম টেনে বলে দেন যে তারা ঘটনার মূল প্ররোচক। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার জানিয়েছেন, কাশেমের এই বক্তব্য সম্পূর্ণ মিথ্যা এবং ভিত্তিহীন। তারা প্রশাসনের কাছে চেয়েছেন নিরপেক্ষভাবে ঘটনাটি তদন্ত করে দোষী প্রমাণিত হলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হোক, এবং মিথ্যা প্রমাণ হলে অভিযোগকারী পক্ষের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হোক।
“ঘটনা শেষ হতে না হতেই আমার বড় ভাই আমাকে এবং আমার ছেলে ইয়াসিন আরাফাত হৃদয়কে ঘটনার মূল ইন্ধনদাতা হিসেবে অভিযুক্ত করেন। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট”—সংবাদ সম্মেলনে পড়া বক্তব্যে আবুল হোসেন।
পুনরাবৃত্ত অভিযোগ ও প্রেক্ষাপট
সংবাদ সম্মেলনে আহতের ছেলে ইয়াছিন আরাফাত হৃদয় বলেন, তাদের পরিবারের উপর পূর্বেও নানা মিথ্যা মামলার ষড়যন্ত্র হয়েছে। তিনি বলেন, ২০১৬ সালে জমি ও ব্যবসা সম্পর্কিত বিরোধের সূত্রে কাশেম তাদের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চালিয়েছেন। ২০১৭ সালে একটি বাড়িতে বোমা হামলার পরে কাশেম বাদী হয়ে মিথ্যা মামলা দায়ের করেছিলেন; পরে তদন্তে তিনি খালাস পেয়েছেন। একইভাবে ২০২১ সালে সাইবার নিরাপত্তা আইনে দায়ের করা কয়েকটি অভিযোগেও তদন্তে নির্দোষ প্রমাণিত হয়ে খালাস পান তারা।
তাঁদের দাবি ও প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ
হৃদয় বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে গত ২ আগস্ট কাশেম ও তার সমর্থকরা তাদের বাড়ি ভাঙচুর, লুটপাট ও দোকান-রাস্তায় অনধিকার প্রবেশের চেষ্টা করে। পরে যৌথ বাহিনী ও প্রশাসনের সহায়তায় অবৈধ দখলদারিত্ব মুক্ত করা হয়। সেই পরিপ্রেক্ষিতেই তারা আশঙ্কা করছেন—ঘটনাটি ঢাকতে কাশেম বিভিন্ন অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
- ঘটনার সময় ও স্থান: ৭ আগস্ট, চৌমুহনী হকার্স মার্কেট, হোটেল সামনে
- আহত: ইয়াছিন সেন্টু (হকার্স মার্কেট উপ-সভাপতি) ও আরও অনির্দিষ্ট ব্যক্তিরা
- অভিযোগ: আহতের পরিবার কাশেমের বিরুদ্ধে ‘মিথ্যা অভিযোগ’ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছেন
ঘটনার তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার নির্দেশনা
ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিদর্শন করেছে বলে জানা গেছে। আহতের পরিবার প্রশাসনের কাছে অনুরোধ করেছেন, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের শনাক্ত করা হোক। তারা বলছেন, যদি তদন্তে তাদের সম্পৃক্ততা প্রমাণিত হয় তারা আইন মেনে সিদ্ধান্ত নেবেন; এবং মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা চাইবেন।
| তারিখ | কর্মকাণ্ড |
|---|---|
| ৭ আগস্ট | চৌমুহনী হকার্স মার্কেটে গুলি চালানো হয় |
| ৮ আগস্ট | ভুক্তভোগী পরিবারের সংবাদ সম্মেলন; প্রশাসনের নিকট নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি |
ঘটনাটির যে ভিডিও ও সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে কথা বলা হয়েছে, তা থেকে যেসব তথ্য উদ্ধৃত করা হচ্ছে, সেগুলোই পুলিশের তদন্তের জন্য যথেষ্ঠ প্রাথমিক প্রমাণ হতে পারে। একই সময়ে এলাকাবাসী ও ব্যবসায়ীরা নিরাপত্তা ও বাজারে ব্যবসা নির্বিঘ্নে চলার দাবি জানিয়ে যাচ্ছেন। প্রশাসন কবে পর্যন্ত তদন্ত দেখা হবে এবং সিদ্ধান্ত কার্যকর করবে—এই প্রশ্ন এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে ফের ঘোরে।
নিরপেক্ষ তদন্ত প্রক্রিয়া না হলে কোনোমতে রাজনৈতিক বা ব্যক্তিগত স্বার্থান্বেষণে অভিযোগ-প্রতিযোগিতা সংঘবদ্ধ হয়ে বৃহত্তর বিশৃঙ্খলা ডেকে আনতে পারে—এই উদ্বেগটি এলাকাবাসী প্রকাশ করেছেন। এখন দেখার বিষয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসন কত দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে ঘটনার পিছনের সত্য উদঘাটন করে প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়।