কুড়িগ্রামের চর রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সরকারি ওষুধ আগুনে পুড়িয়ে ফেলার অভিযোগে জনসাধারণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে যে হাসপাতালের প্রাঙ্গণে রাতের কোনো সময় বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ জ্বালিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম জেলার সিভিল সার্জন মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দুপুরে তিন সদস্যের একটি উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও সেবাভোগীর উদ্বেগ
স্থানীয়রা বলছেন, সাধারণত হাসপাতাল থেকে রোগীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ওষুধ পর্যাপ্ত পরিমাণে পাওয়া যায় না। দরিদ্র রোগীদের বাধ্য হয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে হয়, যার ফলে তাদের বাড়তি ব্যয় হয়েছে। এসব অভিজ্ঞতাই জনসাধারণকে আরও ক্ষুব্ধ করেছে এবং তারা কর্তৃপক্ষের কাছে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগের সঙ্গে মিল রয়েছে হাসপাতালের কর্মপ্রবাহ ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা নিয়ে উঠা প্রশ্নগুলোর। অনেকে দাবি করেছেন, যদি সত্যি সরকারি ওষুধ পুড়িয়ে ফেলা হয়, তাহলে তা সরাসরি দরিদ্র রোগীদের সেবায় ক্ষতি করে। কর্তৃপক্ষের কাছে তারা চান—কে ও কী ভিত্তিতে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা স্পষ্ট করা হোক।
কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া
উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সারওয়ার জাহান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিছু পুরাতন কাগজপত্র পোড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং সেই সময় করোনাকালের অব্যবহৃত কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ একসঙ্গে বিনষ্ট করা হয়েছে। ঘটনার ব্যাখ্যা হিসেবে তিনি বিষয়টিকে স্বাভাবিক প্রশাসনিক কার্যক্রম হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন।
“হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে কিছু পুরাতন কাগজপত্র পোড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে সময় করোনাকালের অব্যবহৃত কিছু মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ একসঙ্গে বিনষ্ট করা হয়।”
কিন্তু স্থানীয়রা ও রোগীর তত্ত্বাবধায়ক প্রতিনিধিরা এই ব্যাখ্যাকে সন্তোষজনক মনে করেননি। তারা প্রশ্ন তুলেছেন কেন মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আলাদাভাবে তালিকাভুক্ত করে যথাযথ রেকর্ড বজায় রেখে ধ্বংস করা হয়নি এবং কেন আগুনে পোড়ানোর ন্যূনতম স্বচ্ছতা ও তত্ত্বাবধান ছিল না।
তদন্ত কমিটি ও সম্ভাব্য পদক্ষেপ
কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন জানিয়েছেন, সরকারি ওষুধ পোড়ানোর বিষযটি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং ঘটনার স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর অনিয়মে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
তদন্ত প্রক্রিয়ার ধরণ ও বৈঠকের সময়সূচি সম্পর্কে বিস্তারিত এখনও প্রকাশ করা হয়নি। তবে স্থানীয়রা তদন্তে স্বচ্ছতা ও দ্রুততার ওপর জোর দিচ্ছে যেন ভবিষ্যতে অনিয়ম রোধ করা যায় এবং রোগীরা তাদের প্রাপ্য নির্দেশনা ও ওষুধ পেতে পারে।
স্থানীয় গুরুত্ব ও প্রভাব
সরকারি ওষুধের অপব্যবহার বা অনাকাঙ্ক্ষিত বিনষ্ট রোগীদের স্বাস্থ্যসেবায় সরাসরি প্রভাব ফেলে। চর রাজিবপুরের মতো গ্রামীণ এলাকায় যেখানে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা সীমিত, সরকারি বরাদ্দ ভরসার গুরুত্বপূর্ণ উৎস। সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল থেকে ওষুধ না পেলে রোগীরা নীরবে নিরর্থক ব্যয় করতে বাধ্য হন বা চিকিৎসা থেকে দূরে সরে যান—যা জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের বিষয়।
স্থানীয়দের একাংশ বলেছেন, প্রশাসন যদি দ্রুত ব্যবস্থা না নেয় এবং পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকরি তদারকি না করে, তাহলে ভবিষ্যতে আরও তীব্র আন্দোলন দেখা দিতে পারে।
সংক্ষিপ্ত তথ্যসারণী
| ঘটনা | অবস্থা |
|---|---|
| সরকারি ওষুধ পুড়ানোর অভিযোগ | স্থানীয় অভিযোগ ও প্রশাসনিক তদন্ত চলছে |
| তদন্ত কমিটি | তিন সদস্যের উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠিত |
| প্রতিবাদকারীদের উদ্বেগ | হাসপাতাল থেকে ওষুধ না পাওয়া ও স্বচ্ছতার অভাব |
ঘটনার যথার্থতা নিরূপণ করা হলে জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও অন্যান্য কর্তৃপক্ষকে দ্রুতভাবে নীতিগত নিয়মাবলী ও তদারকির পদ্ধতি পুনর্বিবেচনা করতে হবে—বিশেষত মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের নিষ্কাশন, রেকর্ড রক্ষণ ও স্থানীয় জনগণের কাছে জবাবদিহি নিশ্চিত করার বিষয়ে।
- স্থানীয় দাবি: তদন্তে স্বচ্ছতা ও দ্রুত ব্যবস্থা
- কর্তৃপক্ষের ঘোষণা: তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
- সম্ভাব্য ফলাফল: অনিয়ম পাওয়া গেলে প্রশাসনিক-আইনি ব্যবস্থা
আরও বিস্তারিত প্রতিবেদন ও তদন্ত ফলাফল জানা মাত্র WE NEWS পাঠককে আপডেট দেবে।