চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলা সীমান্তবর্তী এলাকায় এক বিশেষ অভিযানে প্রায় ২৮ লাখ টাকা মূল্যের বিপুল পরিমাণ চোরাই মোবাইল ফোনসহ তিন চোরাকারবারীকে গ্রেফতার করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন, ৫৯ বিজিবি। অভিযানটি দাইপুকুরিয়া ইউনিয়নের শিকারপুর দক্ষিণপাড়া গ্রামে সীমান্ত মেইন পিলার ১৮৫ থেকে আনুমানিক পাঁচ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গত ১০ আগস্ট রাতে পরিচালিত হয়েছে।
আটককৃত ও জব্দকৃত মালামালের বিবরণ
বিজিবি সূত্রে জানা যায়, অভিযানে সন্দেহভাজন তিনজনকে গতিরোধ করে তল্লাশি চালানো হলে তাদের কাছ থেকে ভারতীয় বিভিন্ন মডেলের ব্যবহৃত ৫৬টি স্মার্টফোন এবং চোরাচালানে ব্যবহৃত একটি পালসার (১৫০ সিসি) মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। বিজিবি আনুমানিক জব্দকৃত মালামালের মূল্য নির্ধারণ করেছে ২৮ লক্ষ টাকা।
| আইটেম | সংখ্যা/বর্ণনা |
|---|---|
| চোরাই স্মার্টফোন | ৫৬টি (ভারতীয় বিভিন্ন মডেল, ব্যবহৃত) |
| মোটরসাইকেল | পালসার, ১৫০ সিসি |
| আনুমানিক সিজার মূল্য | ২৮,০০,০০০ টাকা |
গ্রেফতারদের পরিচয় ও অভিযানের পটভূমি
গ্রেফতারকৃতরা হলেন — শিবগঞ্জ উপজেলার শিয়ালমারা গ্রামের মোঃ সহিমুদ্দিনের ছেলে মোঃ সানাউল্লাহ (২৮), একই গ্রামের মোঃ আবু সায়েদের ছেলে মোঃ হারুন-অর-রশিদ (১৯) এবং মৃত আশরাফুল ইসলামের ছেলে মোঃ ইয়াসিন আলী (১৯)। অভিযানে অংশ নেওয়া সোনামসজিদ বিওপির একটি বিশেষ টহল দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে বলে বিজিবি জানায়।
- অভিযান সময়: রাত সাড়ে ৯টা (১০ আগস্ট)
- অভিযান স্থান: শিকারপুর দক্ষিণপাড়া, দাইপুকুরিয়া ইউ/ন, শিবগঞ্জ (প্রায় ৫ কিমি সীমান্ত পিলার ১৮৫ থেকে ভিতরে)
- তদন্তকারী ইউনিট: মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি), সোনামসজিদ বিওপি টহল
৫৯ বিজিবি-র অধিনায়ক লে. কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী (এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি) ঘটনাটির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন,
“সীমান্তে সব ধরণের চোরাচালান ও মাদক রোধে বিজিবি সর্বদা 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করে আসছে। দেশের অর্থনৈতিক ক্ষতি সাধনে লিপ্ত থাকা এই চক্রগুলোর বিরুদ্ধে বিজিবির এমন কঠোর ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী ব্যবস্থা
বিজিবি জানিয়েছে, আটককৃতদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা করা হয়েছে এবং জব্দকৃত মালামালসহ তাদের শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। এই ধরনের অভিযানের প্রভাব স্থানীয় পর্যায়ে দুইভাবে ভাসমান— একজন হচ্ছে সীমান্তবর্তী অবৈধ চোরাচালানের গতিকে বাধা দেওয়া, আর অন্যটি হচ্ছে ওই এলাকার মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বৃদ্ধি। তবে প্রতিনিয়ত সীমান্ত পারাপারের কারণে চোরাচালানের নেটওয়ার্কে খোদ লোকাল সমর্থনও জড়িত থাকে—এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বলে অভিজ্ঞান করে বিরত থাকতে হবে।
শিবগঞ্জ ও আশেপাশের এলাকায় মোবাইল-চোরাচালান দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে; সস্তা পরিবহন খরচ ও সীমান্তবর্তী যোগাযোগ সুবিধার কারণে এমন নিদর্শন দেখা যায়। বিজিবির দফায় দফায় অভিযান স্থানীয় বাজারে চাহিদা-সরবরাহের চক্রকে প্রভাবিত করতে পারে, কিন্তু চক্র ভাঙতে দীর্ঘমেয়াদী গোয়েন্দা কার্যক্রম, আইন প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতার সমন্বয় প্রয়োজন।
স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কীভাবে জব্দকৃত পণ্যের পরিচয় নিশ্চিত করে, মালিকানা যাচাই করবে এবং চোরাচালান রোধে স্থায়ী পদক্ষেপ নেবে—এসবই পরবর্তী কালের মূল প্রশ্ন। আপাতত গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের ও শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর কার্যক্রম চলমান আছে বলে বিজিবি সূত্র নিশ্চিত করেছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত নিরাপত্তা ও চোরাচালান প্রতিরোধের ওপর সাধারণ মানুষের দৃষ্টি এখন সতর্কতায় অবস্থান করছে; আশা করা যায়, সুশৃঙ্খল তদন্ত ও কার্যকর প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে স্থানীয় বাজার ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।