বর্ধিত বেড়িবাঁধ, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ
বরগুনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে ভাঙনশীল চর ও উপকূলরক্ষার কাজের অংশ হিসেবে বিস্তীর্ণ এলাকায় বেড়িবাঁধ উঁচু করা হয়েছে। তবে উঁচু করার ফলে বেড়িবাঁধের উপর অবস্থিত পূর্বে পাকা করা সড়কগুলো আবার কাঁচা হয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, সামান্য বৃষ্টিতেই সেগুলো কর্দমাক্ত হয়ে ছোট-বড় গর্তে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয় এবং যানবাহনের চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী বরগুনা শহরসহ জেলা বিভিন্ন উপজেলায় মোট প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পাকা সড়ক বর্তমানে কাঁচা হয়ে পরেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জেলা সদর, তালতলী ও পাথরঘাটা অঞ্চলের বাঁধের ওপারের পথসমূহ।
স্থানীয়দের দৈনন্দিন জীবন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব
সড়কগুলোকে প্রধান যোগাযোগ পথে ভোগান্তি বাড়ায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীদের চিকিৎসা সেবা গ্রহণে সমস্যার মুখে পড়তে হয়। পাশাপাশি ফসল সংগ্রহ ও বাজারজাতকরণে দেরি হচ্ছে; ফলে কৃষকরা সরাসরি আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছেন।
সদর থেকে গুলবুনিয়া ও পুরাকাটা এলাকার একটি বেড়িবাঁধ পরিদর্শনে জানা যায়, ওই সড়কের ওপর আগে এলজিইডি দ্বারা পাকা করণ করা হলেও বেড়িবাঁধ উঁচু করার ফলে গত কয়েক বছরে তা পুনরায় কাঁচা হয়ে গেছে। স্থানীয়রা বলেন, বিকল্প সড়ক না থাকায় বেড়িবাঁধই তাদের রাতদিন যোগাযোগের একমাত্র মাধ্যম।
অধিকারের দায়িত্ব ও সমন্বয়ের অভাব
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন যে, বেড়িবাঁধ সংক্রান্ত কাজটি পানিব উন্নয়ন বোর্ড করে এবং ওই উপরে থাকা সড়কগুলো এলজিইডি কর্তৃক নির্মিত—ফলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কাজ সুষ্ঠুভাবে সমন্বয় না হওয়ায় কোন দফার কর্ত্তব্যে কাজ হবে তা স্পষ্ট নয়। এক বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেছিলেন—
"একই সড়ক পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং এলজিইডির আওতায় থাকায় কোনো কাজই হচ্ছে না। দুই ব
উক্ত বাক্যটি সংবাদ উৎসে অসম্পূর্ণভাবে পাওয়া গেলেও স্থানীয়দের ফ্রাস্ট্রেশন স্পষ্ট। তারা দ্রুত সমন্বিত উদ্যোগ ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের তৎপরতা দাবি করছেন।
অধুনা বাস্তবতা ও পরিসংখ্যান
জেলার বিভিন্ন এলাকায় মোট ৮০৫ কিলোমিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তার মধ্যে সম্প্রতি উঁচু করা অংশের ফলে কিছু সড়কের অবস্থা পরিবর্তিত হয়েছে। নীচের টেবিলে পাওয়া প্রধান তথ্য সংক্ষেপে দেওয়া হল—
| উপজেলা | উঁচু হওয়া সড়কের দৈর্ঘ্য (কিমি) |
|---|---|
| বরগুনা সদর | ২০ |
| তালতলী | ৩ |
| পাথরঘাটা | ২২ |
| মোট | ৪৫ |
দূরন্তকল্প ও স্থানীয় প্রত্যাশা
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান যে, পরিস্থিতি সাময়িকভাবে মোকাবিলা করার জন্য এলজিইডি সড়কগুলো পুনরায় পাকা করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে। বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মেহেদী হাসান খান জানিয়েছেন, মানুষের ভোগান্তি কমাতে সড়কগুলো আবারও পাকা করার পরিকল্পনা রয়েছে।
- বুঝতে হবে—বিলম্ব করলে ফসল ও শিক্ষাব্যবস্থা হুমকিতে পড়তে পারে।
- অবিলম্বে প্রয়োজন—পানি উন্নয়ন বোর্ড ও এলজিইডির মধ্যে সমন্বয় ও সময়সীমা নির্ধারণ।
- দীর্ঘমেয়াদে চাহিদা—বিকল্প সড়ক নির্মাণ ও পানি-প্রতিরোধী পাকা করণ।
শেষ কথা
জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে সমুদ্রপৃষ্ঠ ও নদীর পানি উচ্চারিত হলে উপকূলীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে বেড়িবাঁধ উঁচু করা অত্যাবশ্যক। কিন্তু সেই প্রয়াস যদি স্থানীয় মানুষের যোগাযোগ ও জীবিকা বিপন্ন করে তোলে, তখন পরিকল্পনায় মানুষের জীবনধারা ও বিকল্প যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা আবশ্যক। বরগুনার বাসিন্দারা দ্রুত সমাধান ও কার্যকর সমন্বয় কামনা করছেন—নিরাপত্তার সঙ্গে জীবনের চলাচলের সামঞ্জস্যই এখানে মূল চাহিদা।