স্থানীয় উদ্যোগে সড়ক ও খালের ছায়ায় নতুন সবুজ
বরগুনার বেতাগী উপজেলার উত্তর রানীপুরে ডাঙার খালের দুই পাশের সড়কজুড়ে প্রায় ৩ কিলোমিটার বিস্তৃত এলাকায় ফলজ, ভেষজ ও সৌন্দর্যবর্ধক প্রজাতির প্রায় ১ হাজার গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে। সোমবার সকালেই ওই বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বরগুনা জেলা প্রশাসক মিজ তাছলিমা আক্তার।
উদ্দেশ্য ও অংশগ্রহণ
উপকৃত এলাকার পরিবেশকে সবুজায়িত করা, পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং সড়কের আবেদন বাড়ানোই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য। কর্মসূচি বাস্তবায়নে আর্থিক ও সাংগঠনিক সহায়তা করেছে পূবালী ব্যাংক লিমিটেড। এ ছাড়াও উদ্যোগটির সংগ্রহ, পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের সিনিয়র ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট আল আমিন হোসেন সজল ও সাবেক যুগ্ম সচিব রেজাউল করিম খান।
- অবস্থান: বেতাগী উপজেলার উত্তর রানীপুর, ডাঙার খালের দুই পাড়
- রোপিত গাছের সংখ্যা: প্রায় ১ হাজার চারা
- রোপণের আয়তন: প্রায় ৩ কিলোমিটার সড়কজুড়ে
- উদ্বোধনকারি: জেলা প্রশাসক মিজ তাছলিমা আক্তার
জেলা প্রশাসকের মন্তব্য
“বৃক্ষ মানুষের জীবন ও পরিবেশের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পরিকল্পিতভাবে রাস্তার পাশে ফলজ, ভেষজ ও সৌন্দর্যবর্ধনকারী গাছ লাগালে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হবে এবং স্থানীয় মানুষের পুষ্টি ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, রোপিত প্রতিটি চারার পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে।”
জেলা প্রশাসক তার কথায় আরও স্থানীয়দের ও সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেন যাতে রোপণ করা চারাগুলো যথাযথভাবে বড় হতে পারে এবং ভবিষ্যতে এ এলাকা সবুজ ও নান্দনিক দৃশ্য পায়।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সম্ভাব্য প্রভাব
স্থানীয়রা বলছেন, খাল খননের পর সড়কের দুপাশে গাছ লাগানো হলে পরিবেশগত মান উন্নত হবে এবং পথচারী ও আশপাশের বাসিন্দাগণ গাছগাছালির ছায়া ও ফলের সুবিধা ভোগ করতে পারবে। রোপিত গাছগুলো যদি ঠিকমত বাড়ে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এলাকার সৌন্দর্য বাড়বে এবং স্থানীয়দের জন্য স্বল্পমাত্রায় পুষ্টি-উপাদান ও অর্থনৈতিক উপকরণ হিসেবে কাজ করবে।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| অবস্থান | উত্তর রানীপুর, বেতাগী উপজেলা |
| রোপণ এলাকা | প্রায় ৩ কিমি সড়কজুড়ে |
| গাছের সংখ্যা | প্রায় ১,০০০ চারা (ফলজ, ভেষজ, সৌন্দর্যবর্ধক) |
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে বেতাগী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. সাদ্দাম, পূবালী ব্যাংকের আঞ্চলিক ব্যবস্থাপকসহ স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যাংকের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোজন ও রক্ষণাবেক্ষণের আহ্বান
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক যেমন বিশেষভাবে জানিয়ে দেন যে গাছ লাগানোই যথেষ্ট নয়, ঠিকমত পরিচর্যা না করলে পরিকল্পিত সুবিধা পাওয়া যাবে না। তাই রোপিত চারার প্রতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ, পানি যোগান, পরিচ্ছন্নতা ও পুষ্টি নিশ্চিত করাসহ স্থানীয় জনগণ ও কর্তৃপক্ষের সমন্বিত তদারকি জরুরি হবে।
এ উদ্যোগ স্থানীয় প্রশাসন, ব্যাঙ্ক ও সাংবাদিক এবং সাবেক সরকারি কর্মকর্তার যৌথ প্রয়াসে বাস্তবায়িত হওয়ায় এটি একটি সহযোগিতামূলক মডেল হিসেবে দেখা হচ্ছে। যদি রোপিত গাছগুলো ঠিকভাবে বাড়ে এবং সুষ্ঠু রক্ষণাবেক্ষণ নিশ্চিত করা যায়, তা হলে ভবিষ্যতে উত্তর রানীপুর এলাকার পরিবেশগত মানে স্থায়ী উন্নতি আশা করা যায়।
বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমটি স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে এবং প্রতিবেশের প্রতি সম্মান জাগাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে—একই সঙ্গে শহরের অভ্যন্তরীণ সবুজ স্পেস উন্নয়নে এটি একটি সহজ অথচ দৃশ্যমান পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য হবে।