ময়মনসিংহের ত্রিশালে বালু ঘাটে আমিনিয়াসহ ভ্রাম্যমাণ অভিযানের সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরাফাত সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে এক ঠিকাদারের কর্মীকে শারীরিকভাবে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটির সিসিটিভি ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তড়িঘড়ি ছড়িয়ে পড়ে।
ফুটেজে যা দেখা যাচ্ছে
ভিডিওতে দেখা যায়, কালীরবাজার এলাকায় ইজারাদারের এক কর্মীর সঙ্গে ইউএনও এবং সাথে থাকা আনসার ও র্যাব সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। ইউএনও ওই ব্যক্তির পরিচয় জানতে চাইলে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে প্রথমে বাঁ হাতে এবং পরে ডান হাতে কড়া আঘাত করা হয়েছে। পরে ইউএনও র্যাব সদস্যের কাছ থেকে একটি বাঁশের লাঠি নিয়ে ভুক্তভোগীর ওপর চারবার আঘাত করেন।
“আমি ভিডিওটি দেখেছি। ইউএনও যে আচরণ করেছেন, এটি পেশাদারত্বের মধ্যে পড়ে না। কোন পরিস্থিতিতে তিনি (ইউএনও) কী করেছেন, তাঁকেই জবাব দিতে হবে। ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দিলে সে অনুযায়ী প্রতিকারের ব্যবস্থা করা হবে।”
এ মন্তব্য করেছেন ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান।
ভুক্তভোগীর পরিচয় ও চিকিৎসা
ইজারাদার পক্ষ জানিয়েছেন, মারধরের শিকার ব্যক্তি হলেন সারোয়ার জাহান, যিনি সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপক। ঘটনাস্থল থেকে তাকে র্যাবের একটি গাড়িতে নিয়ে ধলা এলাকার দিকে নেওয়া হয়; পরে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হাসপাতাল ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে ঘটনার বিস্তারিত আঘাত নির্ণয় সংক্রান্ত কোনো চিকিৎসাসংক্রান্ত বিবরণ এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ উদ্যোগ
ঘটনা সম্পর্কে জেলা প্রশাসক ভিডিও ফুটেজ দেখার পর প্রকাশ্যভাবে বলেছেন, ঘটনা পেশাদার আচরণে পড়ে না এবং যদি ভুক্তভোগী লিখিত অভিযোগ দেন, প্রশাসন সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, ঘটনায় উপস্থিত থাকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মাহবুবুর রহমান ইউএনওকে থামানোর চেষ্টা করেছেন। এদিকে র্যাবের একজন সদস্য সারোয়ারকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে ইউএনও সেই সদস্যের হাত থেকে লাঠিটি নিয়েছিলেন—এমনটাই ফুটেজে দৃশ্যমান।
স্থানীয় প্রভাব ও প্রশ্নবলি
ঘটনাটি ত্রিশাল উপজেলার কালীরবাজারের বালুমহলকে কেন্দ্র করে ঘটেছে; স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইজারাদাররা বলছেন, ইজারা সংক্রান্ত তৎপরতা ও অভিযানের সময় আচরণগত সীমারেখা রক্ষা করা জরুরি। সৃষ্টি এন্টারপ্রাইজের মালিক শামসুজ্জামান মাসুদের বক্তব্য থেকে বোঝা যায় তারা ওই এলাকায় ইজারা নিয়েছে এবং ঘটনার পর পক্ষটি সরাসরি প্রশাসনের দিকেই সুস্পষ্ট প্রতিকার প্রত্যাশা করছেন।
- কখন: বুধবার দুপুরে
- কোথায়: ত্রিশাল, কালীরবাজার (ময়মনসিংহ)
- প্রধান ব্যক্তিরা: ইউএনও আরাফাত সিদ্দিকী, ভুক্তভোগী সারোয়ার জাহান, জেলা প্রশাসক মো. সাইফুর রহমান
আইনি ও প্রশাসনিক পরিণতি কী হতে পারে?
প্রশাসনিক কর্মকর্তার ওপর এ ধরনের নিশ্চিত অপব্যবহার মামলার বাস্তবে যেতে পারে; অভিযোগ প্রক্রিয়ায় গেলে প্রশাসনিক তদন্ত, বাধ্যতামূলক জবাবদিহি এবং প্রয়োজনে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ হতে পারে। জেলা প্রশাসক ইতোমধ্যে বলছেন যে লিখিত অভিযোগ পেলে তা অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
| বিষয় | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|
| সিসিটিভি ফুটেজ | সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল |
| ভুক্তভোগীর অবস্থান | ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি |
| প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া | জেলা প্রশাসক ঘটনাটি দেখেছেন; লিখিত অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস |
এ ঘটনার ফলে স্থানীয় জনমনে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ক্ষমতার অপব্যবহারের ব্যাপারে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। ভবিষ্যতে ঘটনার লিখিত অভিযোগ দাখিল হওয়া ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হলে প্রতিক্রিয়ার বাস্তব চিত্র আরো স্পষ্ট হবে। আপাতত স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ আইনের আওতায় ন্যায্য বিচার ও প্রশাসনিক জবাবদিহি প্রত্যাশা করছেন।
WE NEWS এই ঘটনায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা সংগ্রহের চেষ্টা করে যাচ্ছে; প্রাপ্তি এলে প্রতিবেদন আপডেট করা হবে।