স্থানীয় বনভূমিতে ব্যাপক ক্ষতি, প্রশাসনিক প্রশ্নবোধ
টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার কাজলা এলাকায় সরকারি বনভূমির প্রায় ২৪ বিঘা জায়গায় স্বাভাবিকভাবে থাকা গজারি বন কেটে সেখানে কলা বাগান গড়া হয়েছে—স্থানীয়রা এ ঘটনাটিকে বনদখল বলছেন। দুই বছর আগে পর্যন্ত সেই বনভূমিতে দাঁড়িয়েছিল প্রায় আড়াই হাজার গজারি গাছ। বর্তমানে গাছের গুঁড়ি উপড়ে ফেলা এবং কাটা হয়ে জায়গাটি কলা চাষে রূপান্তরিত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।
কীভাবে ঘটল—স্থানীয়দের দাবি
স্থানীয়রা বলছেন, গাছগুলো রাতের অন্ধকারে নয়, স daylight সময়ে কাটতে দেখা গেছে। ব্যক্তিরা এবং নিয়োজিত লোকজন কয়েক সপ্তাহ ধরে গাছ কেটে গুঁড়ি উঠিয়ে ফেলার কাজ চালিয়ে গেছেন। কাজলার এক তরুণ আব্দুল মান্নান উপজেলার পরিচিত স্থান ‘তালতইলা চালা’ হিসেবে পরিচিত এলাকায় এ বন ছিল বলছেন। তিনি ও অন্যরা দাবি করেন, গাছ কাটা এবং জমি দখলে ইকবাল তালুকদার ও আল আমিন নামের দুইজনের নাম জড়িত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইকবাল তালুকদার উপজেলা বিএনপির সহসভাপতি এবং আল আমিন লক্ষিন্দর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য বলে পরিচিত।
"বৃক্ষগুলো রক্ষায় বন বিভাগ কার্যকর ভূমিকা নেনি; বারবার জানালেও কোনো ব্যবস্থা দেখা যায়নি,"—স্থানীয় এক ব্যক্তি জানান।
বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়রা দাবি করেন, বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা সাব্বির হোসাইন অভিযোগ জানানো সত্বেও ওই জমিতে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেননি। বন বিভাগের ভূমিকা এখানে দর্শকের মতো ছিল—এমন অভিযোগ স্থানীয়দের। সরকারি নিয়মে শাল-গজারি জাতের গাছ কাটা সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ; এমনকি ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতেও এসব গাছ থাকলে তা সরানো যাবে না। তবু কাজলা এলাকার সরকারি জমি থেকে প্রচুর গজারি গাছ কেটে ফেলা হয়েছে বলে স্থানীয়রা বলছেন।
প্রভাব ও অনাগত উদ্বেগ
এ ধরনের বনভূমি ধ্বংস স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ও মাটির গুণগত মানে প্রভাব ফেলতে পারে। গজারি গাছের মতো স্থানীয় প্রজাতি মাটির ক্ষয়রোধে, বন্যা-নিয়ন্ত্রণে এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বন ভূমি দখল হলে সেই প্রাকৃতিক সেবাগুলো বিলীন হওয়ার আশঙ্কা থাকে—বিশেষত যখন সেখানে স্থায়ী কৃষিকাজ শুরু করা হয়।
- ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা: প্রায় ২৪ বিঘা সরকারি বন ভূমি
- কাটা গাছের সংখ্যা: আনুমানিক আড়াই হাজার গজারি গাছ
- আক্রান্ত ব্যক্তিরা: স্থানীয়রা ইকবাল তালুকদার ও আল আমিনের নাম উল্লেখ করেছেন
| বিষয় | প্রাপ্ত তথ্য |
|---|---|
| স্থল | কাজলা, ঘাটাইল ওয়ার্ড (টাঙ্গাইল) |
| জমির পরিমাণ | প্রায় ২৪ বিঘা (সরকারি বন) |
| গাছ কাটা সময় | প্রায় দুই বছর আগে থেকে; কয়েক সপ্তাহ ধরে গুঁড়ি ওঠা ও কাটার কাজ চলেছে |
স্থানীয় প্রত্যাশা ও পরবর্তী ধাপ
স্থানীয়রা দাবি করেছেন, বন বিভাগের কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি ও প্রশাসনিক উদাসীনতার ফলে এই অনৈতিক দখলকে উসকে দেওয়া হয়েছে। অনেকে চাইছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাটি তদন্ত করে দখলদারদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিক। এই ঘটনায় পরিবেশগত ক্ষতির পাশাপাশি স্থানীয় কৃষি ও জীবিকা থেকেও প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদন তৈরির সময় বন বিভাগের উত্তর বা দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের আলাপ করা হয়নি; স্থানীয় অভিযোগ এবং স্থানীয়দের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই এই প্রতিবেদন লেখা হয়েছে। স্থানীয় ও জেলা প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ না নেন, তাহলে বনভূমি রোধে স্থানীয় বাস্তুতন্ত্র ও সামাজিক নিরাপত্তা ক্ষেত্রে আরো ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে।