সুনামগঞ্জে পারিবারিক কলহের জেরে নিজের দুই শিশুসন্তানকে হাওরে ফেলে হত্যার অভিযোগে পেরুয়া-মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা কামরুল হাসানকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত দুই শিশুর নাম—৭ বছর বয়সী মোহাদ্দিস ও ৪ বছর বয়সী তুলনা আক্তার।
ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার পরিবারগত কলহের পর কামরুল তার স্ত্রী ফুলজান নেসারকে নিয়ে সিলেটে গিয়েছিলেন। সেখানে দুই দিন অবস্থান করার পরে রোববার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। সোমবার রাতে তিনি বাড়ি ফিরলেও দুই সন্তান সঙ্গে ছিল না। পরে ফেসবুক লাইভে তিনি জানান, তার দুই সন্তান হারিয়ে গেছে।
মঙ্গলবার ও বুধবার হাওরের তীর থেকে প্রথমে তুলনার এবং পরে মোহাদ্দিসের লাশ ভেসে ওঠে। ঘটনার পর পুলিশ জেলা ও স্থানীয় স্বজনদের সঙ্গে যৌথভাবে তদন্ত চালিয়ে কৌশলে সম্ভাব্য সূত্রে পৌঁছে বাবাকে আটক করে।
পুলিশের অবস্থান ও জিজ্ঞাসাবাদ
দিরাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিনুল ইসলাম উল্লেখ করেছেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটক কামরুল ঘটনার কথা স্বীকার করেছেন এবং দুই শিশুকে হাওরে ফেলে দিয়ে হত্যার তথ্য পাওয়া গেছে।
“প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদেরকে হাওরে ফেলে দিয়ে হত্যার তথ্য পাওয়া গেছে,”
ওসি জানান, মৃতদেহ দুটির শরীর পরীক্ষা ও ময়নাতদন্তের জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট মূলত ঘটনার প্রকৃত কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে পুলিশ আশা করছে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও সামাজিক প্রেক্ষাপট
আরও জানা গেছে, অভিযুক্ত কামরুল স্থানীয় পেরুয়া-মধুপুর গ্রামের বাসিন্দা। পরিবারে পারিবারিক বিরোধ ও কলহের সূত্র ধরে এই নির্মম ঘটনা ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। এলাকায় এমন ঘটনা ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশীর মধ্যে শোক ও শঙ্কা বিরাজ করছে।
- নিহতরা: মোহাদ্দিস (৭), তুলনা আক্তার (৪)
- আটক: বাবা—কামরুল হাসান
- স্থান: দিরাই উপজেলার পেরুয়া-মধুপুর গ্রাম; লাশ উদ্ধার — সুনামগঞ্জ সদর ও শান্তিগঞ্জ উপজেলার হাওরের তীর
- ময়নাতদন্ত: সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গে রাখা
আইনি ব্যবস্থাসহ পরবর্তী ধাপ
ওসি আমিনুল ইসলাম জানান, তদন্ত আরও গভীর করা হচ্ছে, ঘটনাস্থল, মুঠোফোন রেকর্ড, পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রাসঙ্গিক আলামত সংগ্রহ করে অভিযোগ প্রমাণের চেষ্টা করা হবে। মামলার পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া ও চার্জশিট দাখিল সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত পুলিশ ও মামলা পরিচালনাকারী সরকারি প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
স্থানীয় প্রশাসন ও ঐ এলাকার সামাজিক নেতারা ঘটনাটির দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত নিষ্পত্তির জন্য সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও শিশুর অধিকার রক্ষা নিশ্চিত করতে জেলা পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| নিহত শিশু | মোহাদ্দিস (৭), তুলনা আক্তার (৪) |
| আটক | কামরুল হাসান (বাবা) |
| লাশ রাখা | সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল মর্গ |
| প্রাথমিক অভিযোগ | পারিবারিক কলহের জেরে শিশুদের হাওরে ফেলে হত্যা |
এ ঘটনার পর পরিবার ও স্থানীয় সমাজের জন্য এটিও সতর্কবার্তা যে পারিবারিক তর্ক-বিবাদ কখনো-কখনো অত্যন্ত মারাত্মক পরিণতি ডেকে আনতে পারে। তদন্তের পর প্রকৃত কারণ নির্ধারণ ও দোষীর বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এটাই পুলিশ ও জনস্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের আশা।
করোনার পরিপ্রেক্ষিত বা অর্থনৈতিক সমস্যাসহ নানা সামাজিক কারণে বাড়ছে পরিবারিক মানসিক চাপ; তবে এমন কোনো কারণই মানুষকে অপরাধে উস্কে দেওয়ার নগণ্য কারণ হতে পারে না—এমন একটি মৌলিক নৈতিক বক্তব্য স্থানীয় সমাজকর্মীরা দিয়েছেন। পুলিশ ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানালে সংবাদে তা যুক্ত করা হবে।