সুনামগঞ্জের ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসক ও প্রযুক্তিবিদের ঘাটতি রোগী সেবা ব্যাহত করছে। হাসপাতালের অ্যাসাইনমেন্ট অনুযায়ী মোট চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৭৪টি, কিন্তু বর্তমানে সেখানে কর্মরত আছেন মাত্র ২৩ জন। ফলে হাসপাতালভিত্তিক সেবা-প্রতিষ্ঠানে রোগীর চাপ সামলাতে স্বাস্থ্যকর্মীরা হিমশিম খাচ্ছে বলে হাসপাতালের ভেতরের দৃশ্য চিত্রে দেখা গেছে।
অবস্থা ও রোগীর চাপ
একটি শিফটে নয়, গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন মোট ৮৯১ জন রোগী। হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে শয্যার সংখ্যা ৫০, সেখানে ভর্তি ছিলেন ২২৫ জন। হাসপাতালের অন্যান্য ওয়ার্ডগুলোর সংখ্যা ও ভর্তি সংখ্যা সম্পর্কে হাসপাতাল সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী:
| ওয়ার্ড | ভর্তি রোগীর সংখ্যা |
|---|---|
| শিশু ওয়ার্ড | ২২৫ |
| হাম ওয়ার্ড | ১৪৪ |
| ডায়রিয়া ওয়ার্ড | ১২২ |
| নারী ওয়ার্ড | ১৫৩ |
| পুরুষ ওয়ার্ড | ৯৪ |
| প্রসূতি ওয়ার্ড | ৬২ |
| অন্যান্য | ১০১ |
কর্মী-সংকট ও তার প্রভাব
হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা এবং চিকিৎসকসূত্র অনুযায়ী মেডিকেল অফিসারের মোট সংখ্যা ৪৮, সশরীরে কর্মরত ছিলেন মাত্র ১২। নার্সিং স্টাফের ক্ষেত্রেও শূন্যপদ রয়েছে; মোট নার্স পদের সংখ্যা ২৬৩, কর্মরত ১৯৩, এবং শূণ্য আছে ৭০। মেডিকেল টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য বৈজ্ঞানিক পদে মোট ১৩৬ পদে ৮৮টি শূন্য আছে।
“এ হাসপাতালে চিকিৎসকসংকট প্রকট।”
অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও রোগী-পরিজনরা বলছেন, শয্যায় থাকা রোগীর তুলনায় চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা অনুপাতে কম থাকায় সেবার মানে এবং সময়োপযোগী স্বাস্থ্যপরামর্শ দিতে সমস্যা হচ্ছে। শিশু কেয়ার বিভাগের ছবিটিও একইরকম; ওয়ার্ডের মেঝেতেও শিশুর অভিভাবকরা বসে থাকতে দেখা গেছে।
কারণ ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপট
হাসপাতালের এক কর্মকর্তা জানান, শূন্যপদের পূরণ ও বদলির বিষয়ে কিছু প্রক্রিয়া চলছে, কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হাসপাতাল থেকে পাঁচজন চিকিৎসক বদলির ফলে কর্মীসংখ্যা আরও কমে গিয়েছে। সেই বদলি থেকে যাওয়ার স্থান সুনামগঞ্জ মেডিকেল কলেজ, যেখানে এখনও হাসপাতাল পূর্ণরূপে চালু হয়নি। এমন আমূল বদলি ও পদসমন্বয়ের ফলে জেলা সদর হাসপাতালের সার্বিক সেবা-প্রতিষ্ঠায় ঘাটতি তৈরি হয়েছে।
কানিজ সুলতানা, সচেতন নাগরিক কমিটির সভাপতি, হাসপাতালের পদের বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এবং বলেছেন যে প্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক ও প্রযুক্তিবিদ নিয়োগ না হলে রোগীদের মানসম্পন্ন সেবা দেওয়া সম্ভব নয়।
স্থানীয়দের ভোগান্তি ও সম্ভাব্য প্রভাব
হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বহির্বিভাগে প্রতিদিনই প্রায় ১,০০০–১,২০০ রোগীর উপসর্গ দেখা যায়। যেসব রোগীর প্রয়োজন শল্যচিকিৎসা বা নিয়মিত নভিউম পরামর্শ, তাদের সেবা ব্যাহত হচ্ছে; ফলে পরবর্তী সময়ে জটিলতা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ভর্তি-নিবন্ধনের রেকর্ডপুস্তকেও ভিড়ের কারণে সব রোগীর নাম লেখা সম্ভব হচ্ছে না বলে হাসপাতালের একজন নার্স উল্লেখ করেছেন।
- মেডিকেল অফিসার পদ: মোট ৪৮, কর্মরত ১২
- চিকিৎসক পদ: মোট ৭৪, কর্মরত ২৩
- নার্স পদ: মোট ২৬৩, কর্মরত ১৯৩
অবশেষে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে কিছু চিকিৎসকের বদলি প্রক্রিয়াধীন আছে; তবে দ্রুত পদ পূরণ ও সমন্বয় না হলে স্বাস্থ্যখাতে এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলবে। স্থানীয় অধিবাসীরা চাইছেন হাসপাতালের শূন্যপদ দ্রুত পূরণ, সেবা মান উন্নয়ন এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত রোগী-পরিবহনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক।
এই প্রতিবেদনে হাসপাতালের সংখ্যাগত তথ্য ও কর্মী-ঘাটতি সম্পর্কিত তথ্য জেলা সদর হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ সূত্র এবং স্থানীয় পর্যবেক্ষণের ওপর ভিত্তি করে সংগ্রহ করা হয়েছে।