গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার কর্ণপুর-বরমী আঞ্চলিক সড়কের সংলগ্ন গভীর বনভূমির হাঁটাপথ থেকে সোমবার সকাল আড়াইটার দিকে স্থানীয়রা একটি অপ্রত্যাশিত ও উদ্বেগজনক দৃশ্য দেখে — পড়ে আছে একাধিক ঘোড়ার মাথা, চামড়া, পা, নাড়িভুঁড়ি ও হাড়গোড়। স্থানীয়রা জানায়, ঘটনাস্থল থেকে অন্তত ১০টি ঘোড়ার দেহের বিভিন্ন অংশ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও প্রাথমিক ধারণা
ঘটনাটি প্রথমবার খুঁজে দেখতে পাওয়া স্থানীয়রা বলেন, ঘাস কাটতে গিয়েই তারা এসব অংশ দেখতে পান। পরে বিষয়টি জানাজানি হলে কৌতূহলী মানুষ একত্রিত হন এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।
“ওই জায়গায় ঘাস কাটতে গিয়ে একজন বসতি শ্রমিক একসময়ে ঘোড়ার মাথা, চামড়া ও হাড়গোড় পড়ে থাকতে দেখেন; সেখানে অন্তত ১০টি ঘোড়ার অংশ ছিল,”
স্থানীয় বাসিন্দারা এমনটাই জানালেন। অন্য একজন বাসিন্দা আরও বলেছিলেন, এলাকাটি গভীর বনজ ও নিরিবিলি, তাই সন্দেহ হয় যে কেউ গোপনে এখানে ঘোড়া জবাই করে মাংস নিয়ে গিয়েছে।
পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের প্রতিক্রিয়া
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীনুর আলম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। শ্রীপুর উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসারের বরাত দিয়ে সংবাদে বলা হয়েছে, ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে এবং উদ্ধারকৃত দেহাবশেষ মাটিচাপা দেওয়া হবে।
গোসিংগা ইউনিয়ন পরিষদের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. সুমন প্রধানের ধারণা, কোনো চক্র এখানে ঘোড়া জবাই করেছে। স্থানীয়রা আশংকা করছেন এসব ঘোড়ার মাংস গোপনে সংগ্রহ করে অন্যমুখী বাজারে বিক্রি হতে পারে, যা জনস্বাস্থ্য বিষয়েও ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
উদ্ধারকৃত সামগ্রীর বিবরণ
স্থানীয়রা ও পুলিশ সূত্রে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী উদ্ধারকৃত সামগ্রীর সাধারণ শ্রেণিবিভাগ নিচে দেওয়া হলো:
- ঘোড়ার মাথা: অন্তত ১০টি
- চামড়া: বিভিন্ন অংশে ছড়ানো
- পা, নাড়িভুঁড়ি ও হাড়গোড়: অবস্থান অনুযায়ী পরিব্যাপ্ত
| আইটেম | বর্ণনা |
|---|---|
| মাথা | প্রতিবেদন অনুযায়ী অন্তত ১০টি |
| চামড়া | বিভিন্ন অংশে পাওয়া গেছে |
| কঙ্কাল (হাড়গোড়) | উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পড়ে ছিল |
স্থানীয়দের প্রত্যাশা ও সাবধানতামূলক বার্তা
স্থানীয়রা অনেকে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে দুর্বৃত্তরা গোপনে জবাই করে মাংস সংগ্রহ করে নিয়েছে এবং তা বাজারে বিক্রি করে ভোক্তাদের প্রতারণা করা হতে পারে। গোলযোগ এড়াতে এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনকে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের অনুসন্ধান দ্রুত ও বিস্তারিতভাবে চালানোর দাবি তুলেছেন যাতে এসব দেহাবশেষ কারা ও কোন উদ্দেশ্যে ফেলে গেছেন তা স্পষ্ট হয় এবং ভবিষ্যতে এরকম কোনো অনৈতিক চক্রের কার্যক্রম নেমে আনতে পারা যায়।
পূর্বের ঘটনা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রশাসনিক পদক্ষেপ
স্থানীয়দের স্মরণ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২১ নভেম্বর শ্রীপুর উপজেলার মাওনা ইউনিয়নের বেলতলী গ্রামে দুটি জবাই করা ঘোড়ার মাংস স্থানীয়রা জব্দ করেছিলেন। সে ঘটনার পর থেকেই এলাকায় চিহ্নিত নয় এমন জবাই ও অস্বাস্থ্যকর মাংস সরবরাহ নিয়ে সন্দেহ কাজ করছিল। এই প্রেক্ষাপটে প্রশাসন ও জনগণ দু'পক্ষেই পর্যবেক্ষণ ও সতর্কতা বাড়িয়েছে।
পরবর্তী করণীয়
এখনকার অবস্থায় পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ বিভাগের যৌথ অনুসন্ধান প্রয়োজন। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার সত্যতা তদন্ত করে, চুরির নকল নাকি আঞ্চলিকভাবে জবাই করে মাংস সংগ্রহের কৌশল— তা স্পষ্ট করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেবে বলে আশা করা হচ্ছে।
এই ঘটনায় কেউ যদি সন্দেহজনক কার্যক্রম দেখেন বা এ সম্পর্কের তথ্য জানেন, তারা স্থানীয় থানায় জানানোর জন্য অনুরোধ করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল ও উদ্ধারকৃত বস্তু সংরক্ষণ ও ফরেনসিক নিরীক্ষার জন্য রাখা হলে বিচারের সহযোগিতা সহজ হবে।
শাহনাজ পারভীন
গাজীপুর প্রতিনিধি, WE NEWS