সিরাজগঞ্জে ২০২৬ সালের এসএসসি সমমান দাখিল পরীক্ষায় জেলার পাঁচ উপজেলার ১৩টি মাদরাসা থেকে কোনো পরীক্ষার্থীই পাশ করতে পারেনি। ফলাফল বিশ্লেষণে এসব প্রতিষ্ঠানে পাসের হার শূন্য শতাংশ এবং অকৃতকার্যের হার শতভাগ—এতে শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা উদ্বিগ্ন।
কোনগুলো মাদরাসা betroffen ও স্থানীয় তথ্য
সিরাজগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসের তালিকায় শতভাগ অকৃতকার্যের মাদরাসাগুলো হল:
- সিরাজগঞ্জ সদর — আল আমিন রহমুনিয়া বি.আর. আদর্শ মহিলা দাখিল মাদরাসা
- উল্লাপাড়া — দক্ষিণপাড়া জররুননেছা মহিলা দাখিল মাদরাসা, কালিয়াকৈর দাখিল মাদরাসা, সাতবিল্লাহ দাখিল মাদরাসা
- তাড়াশ — সরাপপুর দাখিল মাদরাসা, হামকুড়িয়া দাখিল মাদরাসা
- কামারখন্দ — চর টেংরাইল আদর্শ দাখিল মাদরাসা
- রায়গঞ্জ — ফরিদপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা, হাসিল দাখিল মাদরাসা, বি.এম ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসা, কয়ড়া দাখিল মাদরাসা, মীরের দেউলমুড়া আর.এম মহিলা দাখিল মাদরাসা, বাসুদেবকোল শ্রী রামপুরা দাখিল মাদরাসা
| উপজেলা | মাদরাসার নাম | পরীক্ষার্থী সম্পর্কে উল্লেখযোগ্য তথ্য |
|---|---|---|
| উল্লাপাড়া | কালিয়াকৈর দাখিল মাদরাসা | মোট ১৫ জনের মধ্যে ১২ জন পরীক্ষায় অংশ নেন; অংশ নেওয়া কোনো শিক্ষার্থীই পাস করেননি |
| উল্লাপাড়া | সাতবিল্লাহ দাখিল মাদরাসা | ৬ জনের মধ্যে ৪ জন পরীক্ষায় অংশ নেন; উত্তীর্ণ নেই |
| উল্লেখ্য: বাকি মাদরাসাগুলোর ক্ষেত্রে জেলা তালিকায় শতভাগ অকৃতকার্যের তথ্য দেওয়া আছে; তৎসহ প্রতিষ্ঠানভিত্তিক পরীক্ষার্থীসংখ্যা সবখানেই প্রকাশ করা হয়নি। | ||
কারণ ও দায়-দায়িত্ব নিয়ে আলোচনা
কালিয়াকৈর দাখিল মাদরাসার সুপার মনসুর ইসলাম ফলাবিষয়ক ব্যাখ্যায় বলেন,
“এবছর পরীক্ষার্থীরা ঠিকমতো লেখাপড়া করে নাই, ব্যাচ খারাপ ছিল। তাই পাশ করতে পারেনি। এ জন্য আমি অনুতপ্ত।”
উল্লাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল কাদের জেলার দেয়া তথ্যের প্রেক্ষিতে জানিয়েছেন, তিনটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে এবং নোটিশের প্রেক্ষিতে উপযুক্ত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও পরবর্তী ব্যবস্থা
সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) রোজিনা আক্তার সোমবার বিকেলে জরুরি ভিত্তিতে এই পরিস্থিতি সম্পর্কে নিশ্চিত করেছেন এবং জানিয়েছেন, বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এসেছে। জেলা শিক্ষা অফিসের তালিকাভুক্ত এসব মাদরাসার ফলাফল শুধুমাত্র শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখা যায় না—এতে পাঠদানের মান, শিক্ষক উপস্থিতি, একাডেমিক তদারকি ও প্রতিষ্ঠান পরিচালনার সমগ্র ব্যবস্থাপনার ত্রুটি জড়িত থাকার সম্ভাবনা আছে।
এ ঘটনার ফলে স্থানীয় শিক্ষা ব্যবস্থার ওপর যে প্রশ্নগুলো উঠেছে, সেগুলো দ্রুত খতিয়ে দেখা জরুরি:
- মাদরাসাগুলোর পাঠদান ও পাঠক্রম পর্যালোচনা করা হচ্ছে কি না;
- শিক্ষক সম্ভাব্য অনিয়ম বা অনুপস্থিতির দায় নির্ণয় ও দায়বদ্ধতা প্রতিষ্ঠা করা হবে কি না;
- একাডেমিক তত্ত্বাবধান শক্ত করার জন্য কি ধরণে পরিকল্পনা নেয়া হবে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও স্থানীয় উদ্বেগ
শতভাগ অকৃতকার্যের হার শুধু ফলাফলের সংখ্যা নয়—এটি এলাকার শিক্ষাগত পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অভিভাবক, শিক্ষক ও শিক্ষাব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্টদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ সম্পর্কে জেলা শিক্ষা অফিস এবং উপজেলা পর্যায়ে তদারকির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা দ্রুত সমাধান ও কারণ নির্ণয়ের প্রক্রিয়া শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।
সিরাজগঞ্জের মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার এমন পরিস্থিতি দীর্ঘমেয়াদি সংস্কারের দাবি জাগাচ্ছে—শিক্ষাগত মানোন্নয়ন, শিক্ষক প্রশিক্ষণ এবং নিয়মিত একাডেমিক মূল্যায়নের ওপর এখনই গুরুত্বারোপ প্রয়োজন।