সিলেটে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়ে যাওয়ার পরিসংখ্যান স্থানীয় জীবনযাত্রা ও ব্যবসা কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ৫ আগস্ট থেকে ১২ আগস্টের মধ্যে প্রতিদিনই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার রেকর্ড করা হয়েছে এবং এই প্রবণতা "ঘাটতির প্রবণতা সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী" বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। একই সময়ে শহরে তীব্র তাপপ্রবাহ ও আর্দ্রতার যুগলবন্দি থাকায় জনজীবনে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।
সাপ্তাহিক ঘাটতির পরিসংখ্যান
সিলেট বিভাগীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন সময় সরবরাহ ও ঘাটতির রেকর্ডে ওঠা-পড়া দেখা গেছে। বিশেষত সন্ধ্যা সময়ে ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় জনসাধারণের অভিযোগে এক ঘণ্টা করে বা কোথাও দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনাও ঘটেছে।
| তারিখ ও সময়ে | সরবরাহ (মেগাওয়াট) | ঘাটতি (মেগাওয়াট) |
|---|---|---|
| ৫ আগস্ট, রাত ১টা | ১৫৭ | ৫০ |
| ৫ আগস্ট, রাত ৮টা | ২০৫ | ৪১ |
| ৬ আগস্ট, রাত ১টা | — | ২১ |
| ৬ আগস্ট, রাত ৮টা | — | ৩৫ |
| ৭ আগস্ট, রাত ১টা | — | ১৫ |
| ৭ আগস্ট, রাত ৮টা | — | ৩০ |
| ৮ আগস্ট, রাত ১টা | — | ২৫ |
| ৮ আগস্ট, রাত ৮টা | ১৮৬ | ৬১ |
| ৯ আগস্ট, রাত ১টা | — | ৫২ |
| ৯ আগস্ট, রাত ৮টা | — | ৫৫ |
| ১০ আগস্ট, রাত ৮টা (সর্বোচ্চ) | ২০৪ | ৬৮ |
| ১১ আগস্ট, রাত ৮টা | ২২১ | ৪৫ |
| ১২ আগস্ট, রাত ১টা | ১৮০ | ৫১ |
গরম-আর্দ্রতার প্রভাব ও জনজীবন
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে ১২ আগস্টে সিলেট শহরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস; সকাল-সন্ধ্যা আর্দ্রতা ছিল যথাক্রমে ৭৫% ও ৭২%। উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার যুগলবন্দি মানুষের গরমের অনুভূতিকে তীব্র করছে, ফলে ফ্রিজ, পাখা বা এয়ার কন্ডিশনারের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ চাহিদাও বাড়ে। এই সময়েই বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং সাধারণ নাগরিক, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করছে।
নগরবাসী অভিযোগ করেন দিনে-রাতে এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং কোথাও তিনজন ঘণ্টা পর্যন্ত কেটে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যিউৎ না থাকা অবস্থায় হাসপাতাল, শিশুদের ঘুম-খাওয়া ও বয়স্কদের সুবিধা ব্যাহত হচ্ছে।
- গত সপ্তাহে রাত ৮টায় ঘাটতি সর্বোচ্চ ৬৮ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছেছে।
- সামগ্রিকভাবে সপ্তাহের শুরুতে যেখানে ঘাটতি ছিল ১৫-৫০ মেগাওয়াট, শেষে তা বেড়ে ৪৫-৬৮ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে।
- উচ্চ আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা লোড বাড়িয়ে জনজীবনে কষ্ট বাড়ায়।
"সুত্রে দেখা যাচ্ছে গত এক সপ্তাহে সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম ছিল এবং ঘাটতির প্রবণতা সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী"
প্রভাব ও সম্ভাব্য দিকনির্দেশ
পরিসংখ্যানভিত্তিক এই চিত্র থেকে বোঝা যায়, যদি তাপপ্রবাহ বজায় থাকে এবং অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তা হলে ভবিষ্যতে লোডশেডিং বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্প-কারখানা, দোকানপাট, স্বাস্থ্যসেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা সহ বিভিন্ন কার্যক্রম প্রভাবিত হতে পারে। এ অবস্থায় জরুরি কেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বিকল্প উৎস ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি হবে।
ইতোমধ্যে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিদিনের সরবরাহ-ঘাটতির পরিসংখ্যান স্থানীয়ভাবে নজরকাড়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিকল্পনা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।