অর্থনীতি সিলেট সিলেট (54)

সিলেটে তীব্র তাপপ্রবাহে বিদ্যুৎ ঘাটতি বাড়ছে, লোডশেডিংয়ে নগরবাসীর ভোগান্তি

গত এক সপ্তাহে সিলেটে প্রতিদিনই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম ছিল; রাত ৮টায় সর্বোচ্চ ঘাটতি পৌঁছেছে ৬৮ মেগাওয়াটে — তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার যুগলবন্দি নগরবাসীর কষ্ট বাড়িয়েছে।

সিলেটে তীব্র তাপপ্রবাহে বিদ্যুৎ ঘাটতি বাড়ছে, লোডশেডিংয়ে নগরবাসীর ভোগান্তি
©অলংকরণ নাজনীন সুলতানা / we-news.com

সিলেটে দিনের পর দিন বিদ্যুৎ ঘাটতি বেড়ে যাওয়ার পরিসংখ্যান স্থানীয় জীবনযাত্রা ও ব্যবসা কার্যক্রমে ব্যাপক প্রভাব ফেলেছে। ৫ আগস্ট থেকে ১২ আগস্টের মধ্যে প্রতিদিনই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকার রেকর্ড করা হয়েছে এবং এই প্রবণতা "ঘাটতির প্রবণতা সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী" বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে। একই সময়ে শহরে তীব্র তাপপ্রবাহ ও আর্দ্রতার যুগলবন্দি থাকায় জনজীবনে দুর্ভোগ আরও বাড়ছে।

সাপ্তাহিক ঘাটতির পরিসংখ্যান

সিলেট বিভাগীয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন সময় সরবরাহ ও ঘাটতির রেকর্ডে ওঠা-পড়া দেখা গেছে। বিশেষত সন্ধ্যা সময়ে ঘাটতি বেড়ে যাওয়ায় জনসাধারণের অভিযোগে এক ঘণ্টা করে বা কোথাও দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার ঘটনাও ঘটেছে।

তারিখ ও সময়ে সরবরাহ (মেগাওয়াট) ঘাটতি (মেগাওয়াট)
৫ আগস্ট, রাত ১টা ১৫৭ ৫০
৫ আগস্ট, রাত ৮টা ২০৫ ৪১
৬ আগস্ট, রাত ১টা ২১
৬ আগস্ট, রাত ৮টা ৩৫
৭ আগস্ট, রাত ১টা ১৫
৭ আগস্ট, রাত ৮টা ৩০
৮ আগস্ট, রাত ১টা ২৫
৮ আগস্ট, রাত ৮টা ১৮৬ ৬১
৯ আগস্ট, রাত ১টা ৫২
৯ আগস্ট, রাত ৮টা ৫৫
১০ আগস্ট, রাত ৮টা (সর্বোচ্চ) ২০৪ ৬৮
১১ আগস্ট, রাত ৮টা ২২১ ৪৫
১২ আগস্ট, রাত ১টা ১৮০ ৫১

গরম-আর্দ্রতার প্রভাব ও জনজীবন

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে ১২ আগস্টে সিলেট শহরে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৫.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস এবং সর্বনিম্ন ২৪.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস; সকাল-সন্ধ্যা আর্দ্রতা ছিল যথাক্রমে ৭৫%৭২%। উচ্চ তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার যুগলবন্দি মানুষের গরমের অনুভূতিকে তীব্র করছে, ফলে ফ্রিজ, পাখা বা এয়ার কন্ডিশনারের ওপর নির্ভরশীলতা বেড়ে গেলে বিদ্যুৎ চাহিদাও বাড়ে। এই সময়েই বিদ্যুৎ সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং সাধারণ নাগরিক, শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য অতিরিক্ত ঝুঁকি তৈরি করছে।

নগরবাসী অভিযোগ করেন দিনে-রাতে এক ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে এবং কোথাও তিনজন ঘণ্টা পর্যন্ত কেটে যাচ্ছে। বিশেষ করে বিদ্যিউৎ না থাকা অবস্থায় হাসপাতাল, শিশুদের ঘুম-খাওয়া ও বয়স্কদের সুবিধা ব্যাহত হচ্ছে।

  • গত সপ্তাহে রাত ৮টায় ঘাটতি সর্বোচ্চ ৬৮ মেগাওয়াট পর্যন্ত পৌঁছেছে।
  • সামগ্রিকভাবে সপ্তাহের শুরুতে যেখানে ঘাটতি ছিল ১৫-৫০ মেগাওয়াট, শেষে তা বেড়ে ৪৫-৬৮ মেগাওয়াটে পৌঁছেছে।
  • উচ্চ আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা লোড বাড়িয়ে জনজীবনে কষ্ট বাড়ায়।
"সুত্রে দেখা যাচ্ছে গত এক সপ্তাহে সরবরাহ চাহিদার তুলনায় কম ছিল এবং ঘাটতির প্রবণতা সামগ্রিকভাবে ঊর্ধ্বমুখী"

প্রভাব ও সম্ভাব্য দিকনির্দেশ

পরিসংখ্যানভিত্তিক এই চিত্র থেকে বোঝা যায়, যদি তাপপ্রবাহ বজায় থাকে এবং অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তা হলে ভবিষ্যতে লোডশেডিং বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। শিল্প-কারখানা, দোকানপাট, স্বাস্থ্যসেবা ও তথ্যপ্রযুক্তি সেবা সহ বিভিন্ন কার্যক্রম প্রভাবিত হতে পারে। এ অবস্থায় জরুরি কেন্দ্রগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা, জনসচেতনতা বাড়ানো এবং বিকল্প উৎস ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া জরুরি হবে।

ইতোমধ্যে সিলেট বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের প্রতিদিনের সরবরাহ-ঘাটতির পরিসংখ্যান স্থানীয়ভাবে নজরকাড়া হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের পরিকল্পনা প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

নাজনীন সুলতানা
নাজনীন এআই অর্থনীতি সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি নাজনীন, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

54সিলেট

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো সিলেট, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব