পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে কলেজ প্রতিষ্ঠার নাম করে সরকারি সংরক্ষিত বনভূমি দখল এবং সশস্ত্র সংগঠন গঠন চালানোর চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বনবিভাগ সূত্র জানায়, প্রকৃতপক্ষে অভিযুক্ত পক্ষ হচ্ছে ইউপিডিএফ ও তাদের সহযোগী ব্যক্তি-দলগুলো।
বনবিভাগের তৎপরতা ও বাধা
পার্বত্য চট্টগ্রাম উত্তর বনবিভাগের বাঘাইছড়ি রেঞ্জের কর্মকর্তা-মাত্রা সূত্রে জানা যায়, সাজেক এলাকায় সরকারি সংরক্ষিত বনভূমিতে বেআইনি ক্যাম্প নির্মাণ ও ভাঙচুর চালানো হয়েছে। বনরক্ষীরা আইনি ক্ষমতার অধীনে সেখানে নির্মাণকার্য বন্ধ করে দেয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্তরা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতে সশস্ত্র গোষ্ঠীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে নানা অপপ্রচার ছড়াচ্ছে।
শিক্ষা না, ক্ষমতালোভ—স্থানিয়দের অভিযোগ
স্থানীয় শিক্ষানুরাগী ও বাসিন্দারা বলছেন, যারা সাজেকে কলেজ স্থাপনের কথা বলে ভূমিতে দখল শুরু করেছে তারা আসলে পড়াশোনা প্রসার নয় বরং নিজেদের সামরিক ও রাজনৈতিক আধিপত্য কায়েম করতে চায়। তাদের কথায়, সম্পূর্ণ পশ্চাদপদ এই পাহাড়ি অঞ্চলে সেনাবাহিনী ও সরকারি প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা কার্যক্রমে সহায়তা করে আসছে—তাই ন্যায্য তর্ক ছাড়া সেনাবাহিনীকে দায়ী করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা আরও জানান, ইউপিডিএফ এই এলাকায় অস্ত্রসহ ক্যাডার তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে এবং কলেজ প্রতিষ্ঠার নাম করে সরকারি জমি নিজেদের দখলে রাখতে চায়। বনবিভাগের বাধার পর অপপ্রচারের কৌশল অবলম্বন করে তারা সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে মিথ্যা তথ্য ছড়াচ্ছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
আইনি প্রক্রিয়া ও কেন তা গুরুত্বপূর্ণ
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী একটি কলেজ প্রতিষ্ঠা করতে হলে নির্দিষ্ট শর্ত মেনে চলতে হয়। বনভূমি, সরকারি জমি কিংবা সংরক্ষিত এলাকা হলে বিশেষ অনুমোদন ছাড়া কোনো নির্মাণকাজ করা যায় না। বনবিভাগ ও শিক্ষা বিষয়ের আইনগত সীমারেখা রয়েছে—যা অমান্য করলে তা অবৈধ এবং দমনযোগ্য অপরাধ।
| প্রয়োজনীয় উপাদান | সূত্রভিত্তিক উল্লেখ |
|---|---|
| নিজস্ব জমি | বর্ণিত দাবি অনুযায়ী নেই—সরকারি সংরক্ষিত বনভূমিতে নির্মাণ শুরু |
| নির্দিষ্ট পরিচালনা কমিটি | কোনো বৈধ কমিটির নাম বা নথি দেখানো হয়নি |
| ব্যাংকে জমা অর্থ ও অনুদান | সূত্রে এই অর্থজমা বা অনুমোদনের তথ্য নেই |
| শিক্ষা বোর্ডের অনুমোদন | কোনো অনুমোদনের কাগজপত্র উত্থাপিত হয়নি |
স্থানীয় সাফল্য ও সেনাবাহিনীর ভূমিকা
স্থানীয়দের বক্তব্যে সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্য অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া শিশু ও যুবকদের শিক্ষায় সহায়তা করে আসছে। বিশেষ করে দুর্গম এলাকায় সেনা-সংস্থার শিক্ষা ও সেবামূলক উদ্যোগ রয়েছে—এগুলোকে আক্রমণ করে নিজেদের উদ্দেশ্য ঢাকতে ইউপিডিএফ মিথ্যাচার করছে বলে অভিযোগ ওঠে।
স্থানীয় প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ
স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি এবং শিক্ষানুরাগীরা একযোগে বলছেন, পাহাড়ি অঞ্চলের শান্তি ও শিক্ষার সুযোগ রক্ষাই এখন তাদের প্রধান উদ্বেগ। তারা আশা করেন—সরকারি প্রতিষ্ঠান, বনবিভাগ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মিলিতভাবে অবৈধ দখল ও সন্ত্রাসী পরিকল্পনা বন্ধ করবেন এবং প্রকৃত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রক্রিয়াকে সুশৃঙ্খলভাবে চালাতে সাহায্য করবেন।
- স্থানীয় বনবিভাগ অভিযোগ করে বলেছে—সরকারি জমিতে বেআইনি নির্মাণকে তারা থামিয়েছে।
- স্থানীয়রা মনে করেন—কাজটি আসল উদ্দেশ্য শিক্ষার প্রসার নয়।
- অভিযুক্ত পক্ষ (সূত্রে ইউপিডিএফ উল্লেখ) এখনেন কোনো প্রামাণ্য কাগজ দেখায়নি বলে বলা হয়েছে।
পরবর্তী পদক্ষেপ কি হতে পারে
উল্লেখিত অভিযোগ তদন্তে স্থানীয় প্রশাসন ও বনবিভাগ আরও তদন্ত চালাতে পারে এবং প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যুক্ত করা হবে—এগুলোই সাধারণ আইনি প্রক্রিয়া। স্থানীয়দের অনুরোধ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হলে তা স্বচ্ছ ও বৈধভাবে করতে হবে যাতে স্থানীয় জনগণের বিধিবদ্ধ অংশগ্রহণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকে।
এই প্রতিবেদনে ব্যবহৃত তথ্য স্থানীয় বনবিভাগ ও এলাকার জনপ্রতিনিধি এবং সূত্রভিত্তিক অনুসন্ধান থেকে সংগৃহীত; অভিযুক্ত পক্ষের কোনো বক্তব্য প্রতিবেদনের সময় পাওয়া যায়নি।