ঘটনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ
ফরিদপুর সদরের মাচ্চর ইউনিয়নের ধূলদী রেলগেট সংলগ্ন বাজারে জেলা ব্যাটারিচালিত রিকশা–ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের আঞ্চলিক কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে শুক্রবার (১৫ আগস্ট) দুপুরে খিচুড়ি রান্নার আয়োজন চলছিল। স্থানীয় সময় প্রায় একটায় ওই স্থানে পুলিশ হানা দিয়ে ছয় জন রিকশাচালককে আটক করে কোতোয়ালি থানা নিয়ে যায়।
কে-কে আটক হয়েছেন
আটকরা হলেন—
- মজিদ শেখ
- হারুন শেখ
- আনোয়ার মোল্লা
- মনোয়ার মোল্লা (আনোয়ারের ভ্রাতা)
- ইউসুফ শেখ
- রহিম শেখ (ইউসুফের ছেলে)
| নাম | সম্পর্ক | অবস্থান |
|---|---|---|
| মজিদ শেখ | রিকশাচালক | ধূলদী বাজার সংলগ্ন |
| হারুন শেখ | রিকশাচালক | ধূলদী বাজার সংলগ্ন |
| আনোয়ার মোল্লা | রিকশাচালক | ধূলদী বাজার সংলগ্ন |
| মনোয়ার মোল্লা | রিকশাচালক | ধূলদী বাজার সংলগ্ন |
| ইউসুফ শেখ | রিকশাচালক | ধূলদী বাজার সংলগ্ন |
| রহিম শেখ | রিকশাচালক (ইউসুফের ছেলে) | ধূলদী বাজার সংলগ্ন |
পুলিশ ও শ্রমিক ইউনিয়নের বক্তব্য
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা) মাহমুদুল হাসান প্রথম আলোকে জানিয়েছেন, ওই এলাকায় যে অভিযোগে শ্রমিকদের আটক করা হয়েছিল তার সত্যতা পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন,
“তাঁরা সবাই নিরীহ রিকশাচালক। তাঁদের আটকে রাখার কোনো মানে নেই। তাঁদের অবিলম্বে ছেড়ে দেওয়া হবে।”
অন্যদিকে ফরিদপুর জেলা ব্যাটারিচালিত রিকশা–ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক ছিদ্দিকুর রহমান জানান, তারা কমিটি গঠনের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। পুলিশ আসার আগে মুরগির মাংস ভুনা করা হয়েছিল এবং চাল–ডাল পরিষ্কার করার কাজ চলছিল। অভিযানের সময় মুরগির ভুনা ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং তেল, চাল ও ডাল জব্দ করা হয়েছে বলে শ্রমিক পক্ষের দাবি।
স্থানীয় প্রেক্ষাপট
প্রায় দেড় বছর আগে ফরিদপুরে জেলা ব্যাটারিচালিত রিকশা–ভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন গঠন করা হয়। বর্তমানে জেলার বিভিন্ন স্ট্যান্ডকেন্দ্রিক আঞ্চলিক কমিটি গঠন করা হচ্ছে; ইতোমধ্যে শহরের হাজি শরীয়তুল্লাহ বাজার, তিতুমীর বাজার, ভাসানচর, অম্বিকাপুর ও আলীপুরে আঞ্চলিক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ধূলদী রেলগেট সংলগ্ন এলাকায় শুক্রবার সেই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে আরেকটি আঞ্চলিক কমিটি গঠনের আয়োজন করা হচ্ছিল।
স্থানীয়দের উদ্বেগ ও সম্ভাব্য প্রভাব
স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং শ্রমিকরা এই ঘটনার পর উদ্বিগ্ন। অনেকেই ভাবছেন যে কোন কারণে সাধারণ জনজীবনে এমন অভিযান ঘটল এবং বাজার এলাকায় খাদ্যসামগ্রী জব্দ হলে সাধারণ মানুষও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। শ্রমিক ইউনিয়নের সদস্যদের জন্য কমিটি গঠন ও সামাজিক মিলন উৎসবের মতো কর্মকাণ্ড বাধাগ্রস্ত হলে সংগঠনের স্থানীয় কার্যক্রম প্রভাবিত হবে—এটি স্থানীয় নাগরিকদের জন্য গুরুতর উদ্বেগের বিষয়।
এই ঘটনার পর কোতোয়ালি থানার কর্মপদ্ধতি ও অভিযানের নীতিমালা সম্পর্কেছেন আরও স্বচ্ছতা আনার দাবি উঠেছে। অনেকে চাচ্ছেন, ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে পুলিশ ও স্থানীয় নেতাদের মধ্যে সমন্বয় করা হোক যাতে শান্তিপূর্ণভাবে সংগঠনগত কার্যক্রম চলতে পারে এবং নিবন্ধিত শ্রমিকরা তাদের সাংগঠনিক অধিকার কার্যতভাবে প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
আমরা স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মানুগ ব্যাখ্যা এবং আটককৃতদের অবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট তথ্য প্রত্যাশা করি। ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য পুলিশের তদন্ত ও শ্রমিক ইউনিয়নের দাবি উভয়ের মিলিয়ে পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংক্ষেপে:
- ধূলদী রেলগেট সংলগ্ন আঞ্চলিক কমিটি গঠনের সময় খিচুড়ি রান্নাকে কেন্দ্র করে পুলিশ অভিযান।
- ছয় রিকশাচালককে আটক করে কোতোয়ালি থানা, কিন্তু থানা অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ার কথা জানিয়েছে।
- স্থানীয় শ্রমিক ইউনিয়ন বলেছে—খিচুড়ি রান্নার সময় জিনিসপত্র জব্দ করা হয়েছে এবং অনুষ্ঠানগত কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে।
রিপোর্টটি তৈরি করা হয়েছে প্রাপ্ত স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বক্তব্যের ওপর ভিত্তি করে।