পটুয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের চলতি বছরের টেন্ডার প্রক্রিয়া নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারী স্থানীয় এক ঠিকাদার লিখিতভাবে জানিয়েছেন, রোগীর খাবার সরবরাহ ও স্টেশনারি উপকরণ সরবরাহে তিনি সর্বনিম্ন দরপ্রস্তাব দেন। তবু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কার্যাদেশ না দিয়ে একটি উচ্চমূল্যের প্রস্তাবকারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ সঁপে দেয়ার ফলে সরকারি অর্থের অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগের সারসংক্ষেপ
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, ১১ জুলাই হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা বিভিন্ন প্যাকেজে দরপত্র আহ্বান করেন। অভিযোগকারী আলতাফ হোসেন রোগীর পথ্য সরবরাহের জন্য ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা দরপ্রস্তাব করেছিলেন। কিন্তু কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে অন্য এক প্রতিষ্ঠানকে, যার দর ছিল ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। অভিযোগে বলা হয়েছে, এই ভেদে সরকারের প্রায় ৩২ লাখ টাকা ক্ষতিসাধন হয়েছে।
একইভাবে স্টেশনারি সরবরাহের একটি প্যাকেজে সর্বনিম্ন দর ছিল ১২ লাখ টাকা, অথচ কার্যাদেশ দেয়া হয়েছে ১৮ লাখ টাকার এক প্রস্তাবকারীকেই, ফলে সেখানে আরও ৬ লাখ টাকা অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ আছে।
পূর্বের অনিয়ম ও অভিযোগের ইতিহাস
পত্রিকা ও স্থানীয় সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটির রোগী-পথ্য সরবরাহ কাজ দীর্ঘদিন ধরে একই একটি দলের পক্ষে নিয়ন্ত্রিত ছিল। ২০০৮-০৯ অর্থবছর থেকে দীর্ঘ সময় ধরে ওই সরবরাহ কাজে একই ঠিকাদারের নাম জড়িয়ে এসেছে এবং নানা বার জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন সংস্থায় অভিযোগ উঠলেও পরিস্থিতিতে পরিবর্তন হয়নি।
২০১৬ সালে নতুন টেন্ডার আহ্বানের সময়ও আদালতে মামলা ঠুকে দেয়ার ঘটনা ঘটেছিল; এ মামলাটি বছরের পর বছর ঝুলে থাকার অভিযোগ আছে। চলতি বছরের ১ জুলাই দুর্নীতি দমন কমিশনে দায়ের হওয়া একটি অভিযোগে হাসপাতালের হিসাবরক্ষক মু. হাসানুজ্জামানের বিরুদ্ধে সাবেক ওই ঠিকাদারের ব্যবসায়িক অংশীদার হওয়ার কথাও বলা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষের প্রচেষ্টা ও প্রতিক্রিয়া
এই অনিয়মের বিষয়ে জানতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা এবং হিসাবরক্ষক মু. হাসানুজ্জামানের মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল; তারা ফোন রিসিভ করেননি বলে অভিযোগকারী জানিয়েছেন।
“সরকারি ক্রয় বিধিমালা লঙ্ঘন করার কোনো সুযোগ নেই। এই বিষয়ে তদন্ত করে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উপরোক্ত উদ্ধৃতিটি পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ শহীদ হোসেন চৌধুরীর দেওয়া প্রতিক্রিয়া থেকে নাওয়া। জেলা প্রশাসক বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
স্থানীয় প্রভাব ও জনস্বাস্থ্যগত গুরুত্ব
হাসপাতালের রোগী-পথ্য ও স্টেশনারি সরবরাহ সঠিক এবং মানসম্মত হওয়ার মাধ্যমে সাধারণ রোগীর সেবা ও হাসপাতালের কার্যকারিতা নির্ভর করে। অভিযোগে বলা হয়েছে দীর্ঘদিন ধরে নিচু মানের উপকরণ বা পরিমাণে কম দেওয়া হয়েছে—এ ধরনের অনিয়ম সরাসরি রোগীর স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে এবং সেবার মান ক্ষুণ্ণ করে।
- আনুমানিক প্রস্তাবিত ক্ষতি: ৩২ লাখ টাকা (রোগীর পথ্য)
- স্টেশনারি অভিযোগ: ৬ লাখ টাকা অতিরিক্ত কার্যাদেশ
- অভিযোগকারীর দাবি: lowest bidder বঞ্চিত
টেন্ডার-প্রক্রিয়ার ভবিষ্যত পর্যবেক্ষণ
অভিযোগটি দায়ের হওয়ায় জেলা প্রশাসক ইতোমধ্যে তদন্তের কথা জানিয়েছেন। তদন্ত কমিটি গঠন বা দুর্নীতি দমন সংস্থার তদারকিতে বিষয়টি উঠতে পারে—তবে এসব প্রক্রিয়া কবে শুরু হবে এবং কেমন কাঠামোয় হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অভিযোগকারী ও স্থানীয় সমাজের দাবী, সরবরাহ-চুক্তির স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে হাসপাতালের সরবরাহ ব্যবস্থায় পুনরায় নজর দেয়া হোক, যাতে ভোগান্তি ও জনস্বাস্থ্যঝুঁকি কমে।
| আইটেম | সর্বনিম্ন দর | কার্যাদেশকৃত দর | আগামি ক্ষতিপ্রাপ্তি (দাবি) |
|---|---|---|---|
| রোগীর পথ্য | ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা | ১ কোটি ৫৯ লাখ টাকা | ৩২ লাখ টাকা |
| স্টেশনারি | ১২ লাখ টাকা | ১৮ লাখ টাকা | ৬ লাখ টাকা |
স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগে স্বচ্ছতা ও নিয়ম-রক্ষার দাবি যত বেশি ততই স্থানীয় জনগণের আস্থা বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তৎপর তদন্ত ও সময়মত প্রাসঙ্গিক সিদ্ধান্ত না হলে ভবিষ্যতে একই ধরনের অভিযোগ পুনরায় উঠতে পারে—এমনই আশঙ্কা রয়েছে সমাজের একাংশের।