পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা–গোপালগঞ্জ রুটে নতুন একটি কমিউটার ট্রেন চালু করা হয়েছে, যা জেলা ও আশপাশের মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত ও স্থানীয় অর্থনীতিকে প্রভাবিত করবে। সোমবার (১০ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে উদ্বোধনকারী ট্রেনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’।
উদ্বোধন ও উপস্থিতি
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী ও নৌপরিবহন ও রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম এমপি। এছাড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ এমপি, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম, বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেনসহ উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
কোথা থেকে কোথা—কী সময়
রেলওয়ের সংক্ষিপ্ত বিবরণ অনুযায়ী নতুন কমিউটার সার্ভিসটিতে রয়েছে একটি জোড়া ট্রেন। বিকেলের রাজধানীবাহিরী যাত্রা ও সন্ধ্যায় গোপালগঞ্জ থেকে ঢাকাগামী রিটার্ন থাকায় জেলার চাকরিজীবী, শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের জন্য এটি সুবিধাজনক হিসেবে দেখানো হয়েছে।
| ট্রেন নম্বর | রুট | রওনা | প্রতিনিধি পৌঁছার সময় |
|---|---|---|---|
| ১৩৫ নম্বর | ঢাকা → গোপালগঞ্জ | বিকাল ৩:৩০ | সন্ধ্যা ৬:৪৫ |
| ১৩৬ নম্বর | গোপালগঞ্জ → ঢাকা | সন্ধ্যা ৭:১৫ | রাত ১০:২৫ |
স্টপেজ ও ক্ষমতা
ঢাকা ও গোপালগঞ্জের মধ্যে মোট ১৪৮ কিলোমিটার রুটে ট্রেনটি চলবে এবং পথে ৭টি স্টেশনে যাত্রাবিরতি করবে। স্টপেজগুলো হল—কেরাণীগঞ্জ, শ্রীনগর, মাওয়া, ভাঙ্গা জংশন, নগরকান্দা, মহেশপুর ও কাশিয়ানী জংশন। ট্রেনটির গঠন: ৮টি কোচ এবং মোট ৬৩০টি আসন।
সুবিধা ও প্রত্যাশা
রেলওয়ের কর্মকর্তারা বলেছেন, সরকারের লক্ষ্য নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব রেলসেবা সম্প্রসারণ। স্থানীয় পর্যায়ে এই সরাসরি রেল সংযোগ যে সুবিধা দেবে, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
- চাকরিজীবী ও শিক্ষার্থীরা নিয়মিত ঢাকায় যাতায়াত করে কাজ বা পড়াশোনা শেষে রাতেই বাড়ি ফিরতে পারবে।
- ঢাকার আবাসন ও যানজটের ওপর চাপ কমতে পারে; স্থায়ী রাজধানীমুখী বাসস্থান গঠনের প্রবণতা হ্রাস পেতে পারে।
- গোপালগঞ্জ ও আশপাশের শাকসবজি, মাছ ও অন্যান্য কৃষিপণ্য দ্রুত ও তুলনামূলক কম খরচে ঢাকায় পৌঁছে জেলা-অঞ্চলের অর্থনীতি গতিশীল হতে পারে।
চ্যালেঞ্জ ও স্থানীয় প্রত্যাশা
অনুষ্ঠানে বলা হয়েছে যে, বর্তমান সময়ে যাত্রীবাহী কোচ ও লোকোমোটিভ সীমিত থাকলেও দক্ষ সম্পদ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাত্র ১৮০ দিনের মধ্যে এই সার্ভিস চালু করা সম্ভব হয়েছে। তবে প্রথম দিনেই কিছু স্থানীয় যাতায়াতকারীর থেকে সময়সূচি পরিবর্তনের দাবি উঠেছে—তারা বিকেলের পরিবর্তে সকালে ঢাকাগামী সেবার অনুরোধ জানিয়েছে যাতে দিনের কাজে ঢাকায় পৌঁছানো সহজ হয়।
ট্রেন চালুর ফলে রেলস্টেশনে এবং ট্রেন পৌঁছানোর সময় গোপালগঞ্জে অনেকে উপস্থিত হয়ে স্বাগত জানিয়েছেন; স্থানীয় প্রতিনিধিরাও উদ্বোধনী যাত্রায় ছিলেন। স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রোর্টররা আশা প্রকাশ করেছেন যে এই সেবার ফলে ঢাকায় পণ্যের আনা-নেয়া সহজ হবে ও বাজারের সাপ্লাই সময়নিষ্ঠ হবে।
প্রাতিষ্ঠানিক নোট
রেলওয়ে ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বলেছে, নতুন কমিউটার সার্ভিসটি সপ্তাহে এক দিন—শনিবার—বন্ধ থাকবে এবং বাকী ছয় দিন চলবে। পরিবহন খাতের আরও পরিবর্তন ও সেবা সম্প্রসারণ কত দ্রুত সাধিত হবে তা রেলের দক্ষতা, লোকোমোটিভ ও কোচ সরবরাহ এবং স্টেশনজনিত সুবিধার উপর নির্ভর করে।
গোপালগঞ্জবাসীর জন্য আজকের এই যাত্রা একদিকে আনন্দের, অন্যদিকে বাস্তবে সার্ভিস চালু হলে দিনের সূচি ও ভাড়া, নিরাপত্তা, স্টেশন-পার্কিং ও ভেতরের লজিস্টিকসহ আরও বিষয়গুলো নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ ও সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দেবে।