গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের চর বড়ফা গ্রামে রবিবার (২৭ আগস্ট) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জমিতে বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে পানি দেওয়ার সময় এনায়েত খা (৪০) এবং তার ছেলে মেহেদী হাসান খা (১২) বিদ্যুৎস্পর্শে মারা যান। মেহেদী স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
ঘটনার বর্ণনা
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এনায়েত খা ধানের জমিতে বৈদ্যুতিক মোটর দিয়ে সেচ দিচ্ছিলেন। কাজের সময় কোনোভাবে মোটরের সঙ্গে বৈদ্যুতিক সংযোগে শরীর বিদ্যুতায়িত হলে তিনি হঠাৎ তৎক্ষণাতেই মাটিতে পড়ে যান। বাবাকে বাঁচাতে গিয়ে পাশে থাকা তার পুত্র মেহেদীও বিদ্যুৎস্পর্শে পড়েন।
পরিবারের লোকজন ও আশপাশের মানুষ দৌড়ে এসে দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। ভর্তি করলে জরুরি বিভাগের দায়িত্বে থাকা মেডিকেল অফিসার ডা. এ কে এম সিরাজুল ইসলাম তাদের মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের সঙ্গে কথা বলে এবং পরিস্থিতি যাচাই করে পুলিশও ঘটনাটিকে বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত বলে নিশ্চিত করেছে বলে জানানো হয়।
পরিবার ও এলাকার প্রতিক্রিয়া
ঘটনার পর ওই গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিহত মেহেদী দিবারাতে পরিবারের বড় আশা বলে স্থানীয়রা জানান; সে স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল এবং দুপুর দেড়টায় বিদ্যালয়ে একটি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তার অনুপস্থিতি দেখে পরিবারের লোকেরা খোজাখুঁজি শুরু করলে ঘটনার সত্যতা সামনে আসে।
স্থানীয়রা বলেন, বিদ্যুৎ সংযোগ ও সেচের সরঞ্জাম ঠিকভাবে ম্যানেজ না করলে এমন ঘটনা ঘটতে পারে। অনেকের অভিযোগ, গ্রামে কোথাও সুরক্ষা ব্যবস্থা বা প্রশিক্ষণের অভাব আছে, ফলে কৃষকেরাই ঝুঁকির মুখে পড়েন।
পুলিশ ও হাসপাতালের তথ্য
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত ও হাসপাতালের রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে বলেন, হাসপাতালে কর্তৃপক্ষ, পরিবার ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে দুজনেরই মৃত্যু বিদ্যুতায়িত হয়ে ঘটেছে। পরে পরিবারের আবেদনের ভিত্তিতে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।
“হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ, পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে বিদ্যুতায়িত হয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে,”
নিরাপত্তাবিধি ও প্রাসঙ্গিক তথ্য
গ্রামীণ অঞ্চলে বৈদ্যুতিক মোটর ব্যবহার করে সেচ চালানো ব্যাপক। সেক্ষেত্রে কিছু মৌলিক নিরাপত্তাবিধি কঠোরভাবে মেনে চলা প্রয়োজন। স্থানীয় কৃষক ও পরিবারগুলো জানিয়েছেন, অধিকাংশ ক্ষেত্রে সরঞ্জাম-রক্ষণাবেক্ষণ বা পেশাদার বৈদ্যুত প্রযুক্তিবিদের কোনো নিয়মিত পরামর্শ নেই।
- সেচ ব্যবহারের আগে মোটরের তাড়ি, জ্যাকেট এবং তারের সংযোগ পরীক্ষা করুন।
- বজ্রপাত বা আর্দ্র পরিস্থিতিতে বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
- বគ্-সংযোগ ও জলের সংস্পর্শে থাকা তারের সুরক্ষিত রাখুন; পানিতে ডুবানো তার এড়িয়ে চলুন।
- স্থানীয় বিদ্যুৎ/কৃষি বিভাগের সঙ্গে সম্ভব হলে যোগাযোগ করে পরামর্শ নিন।
নিহতদের পরিচয়
| নাম | বয়স | সম্পর্ক |
|---|---|---|
| এনায়েত খা | ৪০ | বাবা (চর বড়ফা গ্রামের মৃত শামসু খার ছেলে) |
| মেহেদী হাসান খা | ১২ | ছেলে (স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী) |
ঘটনাস্থল ও পরিবারের তথ্যমতে, উদ্ধারের পর পরিবার মারা যাওয়া দুই জনের মরদেহ হাসপাতাল থেকে গ্রহণ করেছে। পুলিশ প্রাথমিকভাবে মেডিকেল রেকর্ড ও স্থানীয়দের বয়ান মিলিয়ে ঘটনার প্রকৃতি নিশ্চিত করেছে; তবে তদন্তের প্রক্রিয়া যদি প্রয়োজন মনে করে আরও রিপোর্ট চাওয়া হবে।
এই ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন, বিদ্যুৎ ও কৃষি বিভাগের তৎপরতা এবং জনসচেতনতা বাড়ানো জরুরি বলে স্থানীয়রা মনে করেন। ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত আরো কোনো প্রযুক্তিগত বিষয় বা তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া গেলে পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে।