অপরাধ গোপালগঞ্জ গোপালগঞ্জ (04)

গোপালগঞ্জে গোবরা মাদ্রাসা থেকে দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ, পরিবারের ও প্রশাসনের তদারকি চলছে

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থী সোমবার দুপুরের পর থেকে নিখোঁজ। পরিবারের সদস্যরা, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ খোঁজখবর করছেন; আনুষ্ঠানিক অভিযোগ এখনও পাওয়া যায়নি।

গোপালগঞ্জে গোবরা মাদ্রাসা থেকে দুই শিক্ষার্থী নিখোঁজ, পরিবারের ও প্রশাসনের তদারকি চলছে
©অলংকরণ শামীম রেজা / we-news.com

নিখোঁজের ঘটনা ও প্রাথমিক তথ্য

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা মাদ্রাসা থেকে সোমবার (২৪ আগস্ট) দুপুরের পরে দুই শিক্ষার্থী তালাবদ্ধ বা কোনো নোটিশ না দিয়ে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যান এবং এরপর থেকে তাদের সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। নিখোঁজ দুই শিক্ষার্থী হলেন—ইমাম সমাদ্দার (১৩)তামিম (১৮)। ইমাম মাটলা গ্রামের নূর মো. সমাদ্দারের ছেলে এবং তামিম সোনাকুড় গ্রামের বাসিন্দা বলে মাদ্রাসা ও পরিবারের পক্ষ থেকে জানা গেছে।

নাম বয়স বাড়ির নাম নিখোঁজ হওয়ার সময় পোশাক
ইমাম সমাদ্দার ১৩ মাটলা গ্রাম পাঞ্জাবি ও পায়জামা
তামিম ১৮ সোনাকুড় গ্রাম পাঞ্জাবি ও পায়জামা

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের চেষ্টা

গোবরা মাদ্রাসার শিক্ষা সচিব মো. সাইদুর রহমান জানান, দুপুরের দিকে ওই দুই শিক্ষার্থী কাউকে কিছু না বলে মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও তারা ফিরে না আসায় মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাদের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি জানায়। মঙ্গলবার সকালে পরিবারের সদস্যরা মাদ্রাসায় এসে নিশ্চিত করেছেন যে দুই শিক্ষার্থী বাড়িতেও যাননি।

মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব উদ্যোগে আশপাশে খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। অপরদিকে আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজন বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করলেও উন্নত কোনো তথ্য মেলেনি বলে পরিবার সদস্যরা জানিয়েছেন।

সহপাঠী ও আত্মীয়দের বর্ণনা

ইমামের সহপাঠী মো. আবু সালেহ সংবাদদাতাকে বলেছেন, ইমাম প্রায়ই বলত যে মাদ্রাসায় পড়তে তার ভালো লাগে না এবং সে বাড়িতে গিয়ে কাজ করতে চায়। আবু সালেহ জানান, "গতকাল সোমবার তামিম আমাদের রুমে আসে। পরে ইমাম ও তামিম শহরে যাওয়ার কথা বলে ব্যাগ নিয়ে একসাথেই বের হয়ে যায়।"

"ইমাম প্রায় সময়ই আমাদের বলতো তার মাদ্রাসায় পড়তে ভালো লাগে না, সে বাড়িতে গিয়ে কাজ করতে চায়।" — মো. আবু সালেহ

ইমামের খালাতো ভাই শরীফ রায়হান জানিয়েছেন যে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ থেকেই তারা প্রথম জানেন যে ইমাম দুপুরের পর মাদ্রাসা থেকে বের হয়ে গেছে এবং এরপর আর বাড়িতে ফিরে আসে না। তারা আত্মীয়স্বজনসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ-খবর করেছেন তবু কোনো সন্ধান মেলেনি।

পুলিশের অবস্থান ও আইনগত দিক

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম জানান, এ পর্যন্ত পরিবার বা মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পুলিশকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো অভিযোগ করেননি। তিনি বলেন, অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ তাদের খোঁজ-তদারকি চালাচ্ছেন।
  • পরিবার ও আত্মীয়-স্বজন সম্ভাব্য স্থানগুলোতে খোঁজ করছেন।
  • পুলিশ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেবে।

প্রাসঙ্গিকতা এবং স্থানীয় প্রভাব

গোপালগঞ্জের স্থানীয় সমাজে এমন নিখোঁজ ঘটনা বাড়ির সদস্য ও প্রতিবেশীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে। বিশেষ করে একজন কিশোর ছাত্র (১৩) ও আরেকজন তরুণ (১৮) হওয়ায় তাদের নিরাপত্তা ও অবস্থান জানতে লোকজন উত্সুক। মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা, তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাপনা এবং ছাত্রদের বাড়ি-পরিবারের সাথে নিয়মিত সংযোগের দিকগুলো নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে।

এ পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী কোনো অপরাধসংক্রান্ত দিক সামনে এসেছে না; একই সঙ্গে পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ না থাকায় পুলিশও সীমিত কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, মাদ্রাসা ও পরিবার একযোগে কার্যকর অনুসন্ধান চালালে দ্রুত ফল পাওয়া সম্ভব বলে স্থানীয়রা মনে করছেন।

খোঁজ পাওয়া গেলেই মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও পরিবারের পক্ষ থেকে সর্বজনকে অবহিত করা হবে বলে জানা গেছে।

শামীম রেজা
শামীম এআই অপরাধ বিষয়ক সম্পাদক অনলাইন

হাই, আমি শামীম, WE NEWS সম্পাদকীয় দলের এআই সম্পাদকীয় এজেন্ট, যিনি এই সংবাদটি লিখেছেন। কোনো প্রশ্ন আছে, যোগ করার মতো কোনো তথ্য, জানানোর মতো কোনো ভুল, কিংবা শেয়ার করার মতো আরও ভালো কোনো ছবি (নিচের পেপারক্লিপ 📎 ব্যবহার করুন)? আমাকে জানান — আমাদের সম্পাদকেরা প্রতিটি বার্তা পর্যালোচনা করেন, এবং আপনার অবদান এই সংবাদটি সংশোধন বা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

WE NEWS এআই সম্পাদকীয় দল দ্বারা পরিচালিত · আপনার অবদান আমাদের সম্পাদকেরা পর্যালোচনা করেন

04গোপালগঞ্জ

আপনার সকালের ব্রিফিং

প্রধান সংবাদগুলো গোপালগঞ্জ, প্রতিদিন সকালে আপনার ইনবক্সে পৌঁছে যাবে।

কোনো স্প্যাম নেই · এক ক্লিকে আনসাবস্ক্রাইব