ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা: গ্রাহকের ভোগান্তি
গোপালগঞ্জ শহরে সাম্প্রতিক সময়ে চলমান তীব্র লোডশেডিংছিল প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে উঠেছে। দিনে-রাতে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বন্ধ থাকার ফলে হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ঘরবাড়িতে ভোগান্তি বেড়েছে। স্থানীয় ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ওজোপাডিকো) জানিয়েছে, শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাঝে মাঝে এক ঘণ্টার ব্যবধানে ব্যবধায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
ওজোপাডিকোর পুলিশি সহায়তার চিঠি
এই পরিস্থিতিতে পরিবেশিত ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ওজোপাডিকো বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) জেলা পুলিশ সুপারের কাছে একটি চিঠি দিয়েছে। চিঠিটি নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত। এতে দপ্তর, অফিস ক্যাম্পাস ও দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র—যেগুলো গোপালগঞ্জ পৌরসভার আওতাধীন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করে—এসব স্থাপনার সুরক্ষা জোরদার এবং নিয়মিত পুলিশি টহল দেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে।
কারণ এবং পর্যবেক্ষণ
ওজোপাডিকো জানিয়েছে যে সমস্যার মূল কারণ জাতীয় গ্রিড থেকে লাগাতার পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ বরাদ্দের অভাব। নির্বাহী প্রকৌশলী মাঈন উদ্দিন সংবাদমাধ্যমকে বলেন,
“দিনে বিদ্যুতের চাহিদা ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে আমরা প্রায় ৯ মেগাওয়াট সরবরাহ পাচ্ছি। রাতে চাহিদা বেড়ে প্রায় ১৮ মেগাওয়াট হয়, তখন সরবরাহ পাওয়া যায় ১২ থেকে ১৪ মেগাওয়াট।”
অন্য প্রতিবেদনগুলোতে একই সমস্যার মাত্রা কিছুটা ভিন্নভাবে তুলে ধরা হয়েছে — সেখানে বলা হয়েছে দিনে-রাতে মিলিয়ে শহরে ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ১৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিহীন থাকার গ্রাহকদের অভিযোগ রয়েছে। তবে সকল সূত্রেই মূল কারণ হিসেবে জাতীয় গ্রিড থেকে পার্যাপ্ত বরাদ্দ না পাওয়া উল্লেখ করা হয়েছে।
| বর্ণনা | প্রতিবেদনভিত্তিক তথ্য |
|---|---|
| দিনের চাহিদা | ১২–১৪ মেগাওয়াট |
| দিনে সরবরাহ (ওজোপাডিকো দাবি) | প্রায় ৯ মেগাওয়াট |
| রাতের চাহিদা | প্রায় ১৮ মেগাওয়াট |
| রাতে সরবরাহ (ওজোপাডিকো দাবি) | ১২–১৪ মেগাওয়াট |
নিরাপত্তা ঝুঁকি ও প্রশাসনিক দাবি
ওজোপাডিকোর চিঠিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে অনবরত লোডশেডিং হলে গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ সৃষ্টি হতে পারে। সেই অসন্তোষ কখনো কখনো অফিসে বা শক্তিশালী স্থাপনাগুলোর উপর অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণে পরিণত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। চিঠিতে বিশেষত উল্লেখ করা হয়েছে যে স্থানীয় জনগণ বা কোনো অসন্তোষপ্রকাশকারী ব্যক্তি দপ্তর, উপকেন্দ্র বা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপর হামলা বা নাশকতা ঘটাতে পারে — ফলে প্রশাসনিক পর্যায়ে পূর্বসতর্কতা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
- ওজোপাডিকো চায়, সব স্থাপনা ও ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রকে নিয়মিত পুলিশি টহলের আওতায় আনা হোক।
- আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির প্রতি বিশেষ নজরদারি ও জরুরি প্রতিরক্ষা অবকাঠামো নিশ্চিত করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
- শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালের মতো জরুরি সেবায় ব্যাঘাত রোধে অগ্রাধিকারে বিদ্যুৎ সরবরাহ বজায় রাখার জন্য ব্যবস্থা চলছে—এ বিষয়টিও চিঠিতে উল্লেখ আছে।
স্থানীয় প্রভাব ও পরবর্তী প্রত্যাশা
গোপালগঞ্জের ব্যবসায়ী, ছাত্র-ছাত্রী ও সাধারণ জনগণের দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুৎ সরবরাহের অনিয়ম গঠিত হলে তা অর্থনৈতিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলমান পরীক্ষার সময় নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ চাওয়ার কথা ওজোপাডিকো বলেছে; তবে দীর্ঘ মেয়াদে যদি জাতীয় গ্রিড থেকে বরাদ্দে পরিবর্তন না আসে, এই অস্থিরতা এখনকার চেয়ে বাড়তে পারে।
এ মুহূর্তে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশি নেতৃত্বের সঙ্গে ওজোপাডিকোর চিঠি প্রক্রিয়াধীন। পুলিশি টহল জোরদার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হলে অতি-দুরূহ পরিস্থিতি সামাল দেয়া যেতে পারে বলে কর্মকর্তারা মনে করছেন। শহরের মানুষ আশা করছে দ্রুতই বিষয়টি সমাধান হবে, যাতে তাদের দৈনন্দিন জীবন ও জরুরি সেবা ব্যাহত না হয়।