পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় জেলা প্রশাসকের অনুমতিতে চার ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মায়ের শেষকৃত্যে অংশ নিয়েছেন স্থানীয় দলীয় নেতা ও সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম হাসনাইন রাসেল। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি প্যারোলে বাইরে ছিলেন এবং জানাজার পর পুনরায় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
প্যারোল অনুরোধ ও মুক্তির সময়সীমা
পরিবারের পক্ষ থেকে রাসেলের মামাতো ভাই রকিবুল ইসলাম জেলা প্রশাসক এবং জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে লিখিতভাবে প্যারোলে মুক্তি চেয়ে আবেদন করেন। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম ওই আবেদন বিবেচনা করে শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তাকে প্যারোলে মুক্তি দেন।
- মুক্তির সময়: সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১২টা (চার ঘণ্টা)
- স্থান: ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ড, সরদারপাড়া
- পরিস্থিতি: পুলিশি প্রহরায় বাড়ি গেলে তিনি কান্নায় ভেঙে পড়ে; সকাল ১০টায় সরকারি বিদ্যালয় মাঠে জানাজায় অংশ নেন
“আপনারা আমার মায়ের জানাজায় এসেছেন, আপনাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনারা আমার মায়ের জন্য দোয়া করবেন এবং আমাদের পরিবারের সকল ভুলত্রুটি ক্ষমা করার অনুরোধ জানাই।”
ঘটনা ও প্রেক্ষাপট
আলহাজ্ব গোলাম হাসনাইন রাসেল একজন বহুজাতিক স্থানীয় রাজনীতিক পরিচয়ের حامل ব্যক্তি; তিনি ভাঙ্গুড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও সাবেক মেয়র। তিনি ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সরদারপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মকবুল হোসেনের ছেলে।
স্থানীয় পুলিশ এবং সূত্রে জানা গেছে যে, রাসেলকে গত ২০ জুলাই ঢাকার মিরপুর এলাকা থেকে পাবনা ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। তাকে ভাঙ্গুড়া উপজেলার অষ্টমনিষা ইউনিয়ন বিএনপির কার্যালয়ে ঘটানো বোমা হামলার মামলার এজাহারভুক্ত আসামি হিসেবে কারাগারে নেয়া হয়েছিল। এই আদালতে থাকা অবস্থায় পরিবারের অনুরোধে আদালতের নির্দেশনা ও জেলা প্রশাসকের অনুমতিতে প্যারোলে মুক্তি দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
জানাজার সময় ও পরে প্রক্রিয়া
প্যারোলে মুক্তি পাওয়ার পর রাসেল পুলিশি প্রহরায় নিজ বাড়িতে গিয়ে পড়েছেন। সূত্রে জানা গেছে বাড়িতে প্রবেশের পর কাঁদতে দেখা গেছে। পরে সকাল ১০টায় সরকারি ভাঙ্গুড়া ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠ প্রাঙ্গণে তার মায়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং পার-ভাঙ্গুড়া কবরস্থানে দাফন শেষে পুলিশি তত্ত্বাবধানে তাকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়।
| সময়/তারিখ | ঘটনা |
|---|---|
| ২০ জুলাই | রাস্তায় গ্রেপ্তার—ঢাকার মিরপুর থেকে পাবনা ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে |
| ফ্রাইজ়াইস (প্রকাশিত) ১৪ আগস্ট, সকাল ৮টা | জেলা প্রশাসক চার ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি দেন |
| ১৪ আগস্ট, সকাল ১০টা | সরকারি বিদ্যালয় মাঠে জানাজা ও পরে দাফন |
ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাকিউল আজম সংবাদমাধ্যমকে জানান, আদালতের নির্দেশ ও জেলা প্রশাসকের আদেশ অনুযায়ী রাসেল চার ঘণ্টার প্যারোলে মুক্তি পান এবং জানাজা শেষে তাকে আবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মৃত্যুর কারণ হিসেবে সূত্রে বলা হয়েছে, রাসেলের মা নুরজাহান রেখা কিডনি এবং অন্যান্য জটিল রোগে ভুগছিলেন। শরীরের অবস্থার অবনতি হলে প্রায় দেড় মাস আগে তাকে ঢাকার বারডেম হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল এবং স্বল্প সময় লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। বৃহস্পতিবার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়ার পর তিনি মারা যান।
স্থানীয় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক মাত্রায় এই ধরনের প্যারোল মঞ্জুরির ঘটনা সিন্ধান্ত ও নীতি বিষয়ে প্রশ্নও তুলে রাখতে পারে—বিশেষত যেখানে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি চলমান মামলার আসামি। তবে মামলার প্রকৃতি, আদালতের নির্দেশনা ও জেলা প্রশাসকের অনুমোদন মিলিয়ে প্যারোল ইস্যুতে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ পদক্ষেপ নিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।